kalerkantho


ওরসে জুয়ার আসর বসাতে না দেওয়ার জের

ভাঙচুর লুটপাট গুলি চকরিয়ায় আহত ৫

চকরিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি   

৮ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



কক্সবাজারের চকরিয়ায় মাজারের ওরসে জুয়ার আসর বসাতে না দেওয়ায় বেশ কয়েকটি বসতবাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাট চালিয়েছে দুর্বৃত্তরা। এ সময় নারীসহ পাঁচজনকে মারধর করা হয়েছে। সোমবার রাতের ওই ঘটনার সময় দুর্বৃত্তরা কয়েক রাউন্ড গুলিও ছোড়ে। খবর পেয়ে পুলিশ গেলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।

মাজার পরিচালনা কমিটির সহসভাপতি রশিদ আহমদ জানান, চকরিয়ার কাকারায় হজরত শাহ ওমরের মাজারে ওরস চলাকালে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নাম ভাঙিয়ে সশস্ত্র দুর্বৃত্তরা মাজার এলাকায় জুয়ার আসর বসায়। এ বিষয়ে অভিযোগ দিলে প্রশাসনের লোকজন এসে তা গুঁড়িয়ে দেয়। এর জের ধরে সোমবার রাতে সশস্ত্র দুর্বৃত্তরা মোস্তফা কামাল নিশান, সাহাব উদ্দিন ও ডা. ফিরোজের বাড়িতে ভাঙচুরসহ লুটপাট চালায়। আজিজুল হক, আবুল কালাম ও নারায়ণ বাবুর দোকান ভাঙচুর করা হয়। এ সময় একটি চাঁদের গাড়িও ভাঙচুর করে তারা। এতে অন্তত ১০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।

এ সময় বাধা দেওয়ার চেষ্টা করায় রাহেলা বেগম, অহিদুল ইসলাম ও মো. মঈন উদ্দিনকে মারধর করা হয়েছে। আহতদের প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পরে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ছাড়া আরো দুজন সামান্য আহত হয়েছে।

উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি এম এ আরিফুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, ছাত্রলীগের নাম ভাঙিয়ে মাজারের ওরসে যারা জুয়ার আসর বসিয়েছিল তারা আসলে টোকাই। তারা কেউ ছাত্রলীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত নয়।

এ ব্যাপারে চকরিয়া থানার ওসি মো. জহিরুল ইসলাম খান বলেন, মাজারের ওরসে বসানো জুয়ার আসর একাধিকবার ভেঙে দেওয়া হয়। এর জের ধরে যারা মাজার কমিটির লোকজনের বসতবাড়িতে তাণ্ডব ও লুটপাট চালিয়েছে তাদের বিষয়ে খোঁজ নেওয়া হচ্ছে।

রাজবাড়ীতে চাঁদা না দেওয়ায় হামলা

এদিকে রাজবাড়ী প্রতিনিধি জানান, চাহিদামাফিক চাঁদা দেওয়ার কথা অস্বীকার করায় গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে জেলা আওয়ামী লীগের এক নেতার ছেলের নেতৃত্বে রাজবাড়ী সদর সাবরেজিস্ট্রার অফিসে সন্ত্রাসী হামলা চালানো হয়েছে। হামলাকারীরা হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে সদর সাবরেজিস্ট্রারসহ পাঁচজনকে আহত করেছে। ওই কার্যালয়ের নকলনবিশ অসিমা রানী হালদার ও মনোয়ারা বেগম বলেন, গতকাল বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে সদর সাবরেজিস্ট্রার গাজী মোহাম্মদ আব্দুল করিম তাঁর চেয়ারে বসে কাজ করছিলেন। এ সময় জেলা আওয়ামী লীগের কৃষি ও সমবায়বিষয়ক সম্পাদক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মহসিন উদ্দিন বতুর ছেলে অমিতের নেতৃত্বে তিন-চারজন দুর্বৃত্ত প্রবেশ করে। দুর্বৃত্তরা সাবরেজিস্ট্রার, টিসি মহরার আব্দুল মালেক ও অফিস সহকারী গুরুদাস হালদারকে হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করার পাশাপাশি বেধড়ক মারধর করে। কর্মচারীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। প্রাণভায়ে যে যার মতো দৌড়াদৌড়ি ও চিৎকার শুরু করে। একপর্যায়ে সদর সাবরেজিস্ট্রার অফিসের বাইরে থাকা স্ট্যাম্প ভেন্ডার ও দলিল লেখকরা এগিয়ে আসেন। তাঁরা সন্ত্রাসীদের প্রতিরোধের চেষ্টা চালান।


মন্তব্য