kalerkantho

কালাইয়ে শিশু শুভ হত্যা

ঘাতক বন্ধুর বাবা

জয়পুরহাট প্রতিনিধি   

৮ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



অপহরণের হুমকি দিয়ে বাবার কাছে লেখা ঘাতকের চিঠি দেখে ফেলার সন্দেহে হত্যা করা হয় শিশু তাওহীদ শামিম শুভকে। খেলার সাথী প্রতিবেশী রিপনের বাবা গলায় ফাঁস দিয়ে তাকে হত্যা করে।

সোমবার বিকেলে জয়পুরহাটের অতিরিক্ত মুখ্য বিচারিক হাকিম আদালতে হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দিতে এ তথ্য দিয়েছে ঘাতক ভ্যানচালক রেজাউল করিম। জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বেলায়েত হোসেন জবানবন্দির বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, কালাই পৌর এলাকার মুন্সীপাড়া মহল্লার ভ্যানচালক রেজাউল করিম প্রতিবেশী কাঠ ব্যবসায়ী বিত্তবান আব্দুল গফুর তোতার ছেলে তাওহীদ শামিম শুভকে (৯) হত্যার দায় স্বীকার করেছে। জবানবন্দিতে রেজাউল নিজেকে ঋণগ্রস্ত দাবি করে জানিয়েছে, অভাবের কারণে ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়ায় দেড় মাস আগে তার স্ত্রী বাড়ি ছেড়ে চলে যায়। চড়া সুদে ঋণ নিয়ে তা শোধ করতে না পারায় স্থানীয় দাদন ব্যবসায়ীদের চাপ ছিল রেজাউলের ওপর। এক সপ্তাহের মধ্যে ১০ হাজার টাকা পরিশোধ করার কথা ছিল। কিন্তু টাকা সংগ্রহ করতে না পেরে দিশাহারা হয়ে পড়ে সে।

এ সময় ফন্দি আঁটে প্রতিবেশী বিত্তবান তোতার ছেলে শুভকে অপহরণের। এ জন্য শুক্রবার সকালে অপহরণের হুমকি দিয়ে তোতার উদ্দেশে একটি চিঠি লিখে টেবিলে রেখে ঘুমিয়ে পড়ে রেজাউল।

পরে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তার ছেলে রিপনের লাটিম নিতে তাদের বাড়ি যায় শুভ। বাড়িতে তখন রেজাউল ছাড়া কেউ ছিল না। সে ঘুম থেকে জেগে শুভকে দেখে চমকে ওঠে। তার ধারণা হয়, শুভর বাবার উদ্দেশে লেখা হুমকির সেই চিঠি সে দেখে ফেলেছে। জানাজানির ভয়ে শুভকে হত্যার পরিকল্পনা করে সে। তখন কৌশলে খাটের নিচে নিয়ে গলায় গামছার ফাঁস দিয়ে শুভকে হত্যা করে। পরে মৃতদেহ ঘরে থাকা টেলিভিশনের কার্টনে রেখে ভ্যান নিয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যায় সে।

বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে বেড়ানোর পর বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে কালাই উপজেলার বাখড়া এলাকা থেকে মোবাইল ফোনে রেজাউল নিহত শুভর চাচিকে অপহরণের বিষয়টি জানিয়ে তার বাবাকে খুঁজতে নিষেধ করে। পরে সন্ধ্যায় ওই ফোন নম্বরে শুভর বাবা তোতা ফোন করলে রেজাউল তিন লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে রাত ৮টার দিকে যোগাযোগ করতে বলে ফোন বন্ধ করে দেয়। রাত সাড়ে ১০টার দিকে রেজাউল বাড়ির উত্তর পাশে খড়ের গাদায় শুভকে রেখে আসে। শনিবার সকালে শুভর মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে রেজাউল নিজেই শুভকে গোসল করানো, কবরে লাশ নামানোসহ তার পরিবারের সঙ্গে সার্বক্ষণিক সময় কাটায়।

পরে মোবাইল ফোন ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে পুলিশ রবিবার সন্ধ্যায় রেজাউলকে গ্রেপ্তার করে। পুলিশের কাছে ওই রাতেই শুভ হত্যার দায় স্বীকার করে সে। পরদিন সোমবার বিকেলে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বেলায়েত হোসেন জানান, দোষ স্বীকার করে দেওয়া জবানবন্দির পর আদালতের নির্দেশে আসামি রেজাউলকে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।


মন্তব্য