kalerkantho


‘বিচার না পেলে মেয়ের মতো আমিও আত্মহত্যা করব’

মেহেরপুর প্রতিনিধি   

৮ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



অভিযোগপত্র থেকে কয়েকজন আসামিকে বাদ দেওয়ায় বিচার বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা করছেন বাবা। এ কারণে তিনি বলেছেন, ‘বিচার না পেলে মেয়ের মতো আমিও আত্মহত্যা করব।

মেয়ে ফাতেমা জান্নাত ঝিলিক মেহেরপুর সরকারি মহিলা কলেজের উচ্চ মাধ্যমিক দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী ছিল। তার বাবা জুয়েল রানা ওরফে ঝন্টু শাহ গত রবিবার সন্ধ্যায় মেহেরপুর প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনে চোখের পানি মুছতে মুছতে এ কথা বলেন। জুয়েল রানা বলেন, ‘আমার মেয়েকে আত্মহত্যায় প্ররোচনা ও নির্যাতনকারীরা পুলিশের সামনে দিয়ে চলাফেরা করে। তারা আমাদের চোখের সামনেও চলাফেরা করছে। ঘটনার পাঁচ মাস অতিবাহিত হয়েছে। তবু পুলিশ তাদের আটক করছে না। ফলে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে হুমকির মধ্যে রয়েছি। তদন্ত কর্মকর্তা তিনজনের নাম বাদ দিয়ে মামলাটি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করেছেন। অথচ ওরা সবাই আমার মেয়ের ওপর নির্যাতন করেছে।

তিনি আদালতে অভিযোগপত্রের বিরুদ্ধে নারাজি দিয়েছেন। জুয়েল অভিযোগ করেন, ‘মেয়ের আত্মহত্যার দুই দিন পর আমি বিচার দাবি করে মানববন্ধন করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু পুলিশ তা করতে দেয়নি। সংবাদ সম্মেলনের কথা শুনে তদন্ত কর্মকর্তা বাড়িতে গিয়ে না করার জন্য শাসিয়েছেন। ’ সংবাদ সম্মেলনে তাঁর স্ত্রী পারুল খাতুন উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, মেহেরপুর ও গাংনী হাসপাতালের ধোপার ঠিকাদার জুয়েল রানা শহরের মণ্ডলপাড়ায় ভাড়া বাসায় থাকেন। তাঁর মেয়ে ঝিলিক পরিবারের অজান্তে পাশের বাড়ির মাহফুজুর রহমান নিলয়ের মোবাইল ফোনে কথা বলত। গত বছরের ৮ অক্টোবর সকালে ঝিলিক কথা বলতে গেলে বিষয়টি নিলয়ের পরিবারের লোকজন জানতে পারে। তখন নিলয়ের ফুপু নাসরিন আক্তার হিরা, তার মা আসমা আকতার তুতি, বাবা দবির উদ্দিন ও নিলয়ের বাবা মাসুদ রানাকে নিয়ে মেয়েটির বাড়িতে আসে। কাউকে কিছু না বলে মেয়েটিকে ‘ধুপা, সুইপারের মেয়ে’ বলে থাপড় মেরে চলে যায়। এ অপমান সহ্য করতে না পেরে পরদিন সন্ধ্যায় গলায় রশি দিয়ে মেয়েটি আত্মহত্যা করে। ’ এ বিষয়ে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও মেহেরপুর সদর থানার এসআই আন নুর জায়েদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘অভিযোগগুলো অপপ্রচার। যাকে দোষী মনে হয়েছে, তার নামে অভিযোগপত্র দিয়েছি। ’


মন্তব্য