kalerkantho


আখাউড়ায় প্রাথমিক শিক্ষকদের দুই ধারা

এক পক্ষের ‘ভোজ’, আরেক পক্ষের ‘প্রতিবাদী’ সভা

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি   

৭ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির কমিটি নিয়ে বিরোধ এখনো মেটেনি। এ অবস্থায় গতকাল সোমবার এক পক্ষ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তি ও সহকর্মীদের নিয়ে ‘ভোজের’ আয়োজন করে।

আরেক পক্ষ আয়োজন করে ‘প্রতিবাদী’ সভার।

এদিকে বিরোধের কারণে এক পক্ষ আয়োজিত কমিটির অভিষেক অনুষ্ঠান এখন বাতিলের পথে। ওই অনুষ্ঠানে সংসদ সদস্য (কসবা-আখাউড়া) এবং আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক উপস্থিত থাকবেন বলে আয়োজকরা আশা করছিলেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মো. মাহতাব মিয়ার নেতৃত্বাধীন পক্ষটি গতকাল দুপুরে আখাউড়ার গণ্যমান্য ব্যক্তি ও সহকর্মীদের সঙ্গে চলমান অবস্থা নিয়ে আলোচনায় বসে। মাহতাব মিয়ার আখাউড়ার শান্তিনগরের বাড়িতে এ উপলক্ষে খাবারের আয়োজন করা হয়। এ সময় শিক্ষকরা জানান, তাঁরা বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির কমিটি গঠন করেছেন, যাতে আওয়ামী লীগ ঘরানার লোকজনকে রাখা হয়েছে। কিন্তু আরেক পক্ষ কমিটি গঠন করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে চাইছে। বিষয়টি তাঁরা আইনমন্ত্রীকেও জানিয়েছেন। নিমন্ত্রণে আসা গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সহযোগিতা চান এ পক্ষের শিক্ষকরা।

এদিকে বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির কার্যালয়ে মৌসুমী আক্তারের নেতৃত্বে এক সভা হয়। সভায় মাহতাব মিয়ার নেতৃত্বাধীন পক্ষের কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ জানানো হয়। বলা হয়, শিক্ষকদের কোনো রাজনৈতিক দল না থাকা সত্ত্বেও প্রতিপক্ষের লোকজন বিষয়টি ঘোলাটে করতে এ ধরনের কথা বলে বেড়াচ্ছে। কমিটি গঠনে ওই পক্ষ কোনো নিয়ম মানেনি। কমিটির রেজিস্ট্রেশন নম্বর ব্যবহারেও প্রতারণার আশ্রয় নেওয়া হয়েছে।

এক পক্ষের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ কুমার দেবনাথ বলেন, ‘আমাদের সভাপতি মাহতাব মিয়া ব্যক্তিগত উদ্যোগে তাঁর বাড়িতে লোকজনকে দাওয়াত করেছেন। কিন্তু এটাকেই এখন অন্যভাবে বলা হচ্ছে। তিনি ছুটি নিয়েই বাড়িতে ছিলেন। অথচ ওই পক্ষের শিক্ষকরা স্কুল চলাকালেই সভা করেছেন। ’

আরেক পক্ষের সভাপতি মৌসুমী আক্তার বলেন, ‘বিদ্যালয় ছুটি শেষে বিকেল সাড়ে ৪টায় আমরা সভায় বসি। ওই সভায় সংগঠনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন জাতীয় দিবস উদ্‌যাপনের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। যথাযথ প্রক্রিয়ায় আমাদের কমিটি গঠন করা হয়েছে বলেই সমিতির কক্ষে বসে সভা করতে পারছি। উপজেলার অধিংকাশ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকই আমাদের পক্ষে আছেন। ’

আখাউড়ার মোগড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক মো. মনির হোসেন বলেন, ‘দাওয়াত রক্ষা করতে আমি সেখানে (মাহতাব মিয়ার বাড়ি) যাই। আওয়ামী লীগের অনেক নেতাই সেখানে উপস্থিত ছিলেন। এ সময় প্রাথমিক শিক্ষকদের কমিটি গঠন ও অন্যান্য বিষয়ে আমাদের জানানো হয়। ’

প্রসঙ্গত, কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকার কথা উল্লেখ করে বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির নির্বাচনসংশ্লিষ্ট প্রধান নির্বাচন কমিশনার মো. মনির হোসেন গত ২৮ জানুয়ারি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিতদের নাম ঘোষণা করেন। এতে সভাপতি হন মৌসুমী আক্তার ও সাধারণ সম্পাদক হন ইকবাল হোসেন। ২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি মো. আনোয়ারুল ইসলাম তোতা এ কমিটির অনুমোদন দেন। একই দিন কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক মো. গাজীউল হক চৌধুরী ও ৩১ জানুয়ারি সংগঠনের ব্রাহ্মণবাড়িয়া শাখার সভাপতি মো. শাহাদাত হোসেন এতে সুপারিশ করেন।

৩১ জানুয়ারি আরেকটি কমিটির অনুমোদন দেন বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুল্লাহ সরকার। এ কমিটির সভাপতি মো. মাহতাব মিয়া ও সাধারণ সম্পাদক দিলীপ কুমার দেবনাথ। এ কমিটি অনুমোদনের জন্য সুপারিশ করেন জেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি মো. আব্দুল হামিদ খান ও সাধারণ সম্পাদক মো. লোকমান হোসেন।

মূলত আগে থেকেই সরকারি থাকা প্রাথমিক বিদ্যালয় ও সম্প্রতি রেজিস্টার্ড থেকে সরকারি হওয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মধ্যে এ বিরোধের কারণেই দুটি কমিটির সৃষ্টি। এ নিয়ে গত ১৬ ফেব্রুয়ারি কালের কণ্ঠে সংবাদ প্রকাশিত হয়।


মন্তব্য