kalerkantho


সুন্দরবনে কচ্ছপ পাড়ল ৩১ ডিম

বালুতে রেখে প্রাকৃতিকভাবে ফোটানোর চেষ্টা

বাগেরহাট প্রতিনিধি   

৭ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



সুন্দরবনে কচ্ছপ পাড়ল ৩১ ডিম

সুন্দরবনের করমজল বন্য প্রাণী প্রজনন কেন্দ্রে বিরল প্রজাতির একটি কচ্ছপ ৩১টি ডিম পেড়েছে। ছবি : কালের কণ্ঠ

সুন্দরবনের করমজল বন্য প্রাণী প্রজননকেন্দ্রে একটি বিরল প্রজাতির ‘বাটাগুর বাসকা’ কচ্ছপ প্রথমবারের মতো ডিম পেড়েছে। ওই ৩১টি ডিম বালুর নিচে রেখে প্রাকৃতিকভাবে বাচ্চা ফোটানোর চেষ্টা করছে বন বিভাগ।

গতকাল সোমবার ডিমগুলো সেখানে ২৫ সেন্টিমিটার বালুর নিচে রাখার পর সার্বক্ষণিক তাপমাত্রা পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। বাচ্চা ফুটে বের হতে ৬০-৭০ দিন অপেক্ষা করতে হবে।

সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. সাইদুল ইসলাম জানান, ওই কেন্দ্রে লালপালন করা বাটাগুর বাসকা কচ্ছপ গত শুক্রবার রাতে এই প্রথম ডিম পেড়েছে (একসঙ্গে ৩১টি)। প্রাকৃতিকভাবে ওই ডিম না ফুটলে পরে ইনকিউবেটরে (বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি) রেখে বাচ্চা ফোটানোর চেষ্টা করা হবে। বাচ্চা ফোটার পর তা বড় করে সুন্দরবনের বিভিন্ন নদী-খালে ছেড়ে দেওয়া হবে।

ডিএফও জানান, বাটাগুর বাসকা প্রজাতির কচ্ছপ ৭০-৮০ বছর বেঁচে থাকে। এর প্রতিটার ওজন ২০-২৫ কেজি পর্যন্ত হয়। পরিবেশের জন্য এ কচ্ছপ খুবই সহায়ক। লবণ ও মিষ্টি উভয় পানিতেই এরা বাস করে।

প্রজননকেন্দ্রের আরো তিনটি মাদি কচ্ছপ শিগগিরই ডিম দিতে পারে।

ডিএফওর তথ্য মতে, কচ্ছপের জীবনাচরণের ওপর গবেষণার উদ্দেশ্যে ফেব্রুয়ারি মাসে দুটি বাটাগুর বাসকা প্রজাতির কচ্ছপের পিঠে স্যাটেলাইট ট্রান্সমিটার বসিয়ে সুন্দরবনে নদীতে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তিন মাস পর্যন্ত কচ্ছপ দুটি তার বিচরণক্ষেত্রের বিভিন্ন চিত্র ধারণ করবে। কচ্ছপের ওপর বন বিভাগ, টারটেল সারভাইভার অ্যালায়েন্স, ভিয়েনা জু এবং প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশন গবেষণা করছে।

কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আজাদ কবির জানান, ডিমগুলো দেখতে হাঁসের ডিমের মতো। পরিবেশ রক্ষায় বাটাগুর বাসকা প্রজাতির কচ্ছপের ভূমিকা রয়েছে। এ কচ্ছপ প্রায় বিলুপ্তির পথে। এর বংশবৃদ্ধি ও সংরক্ষণ করা না গেলে ১০ বছর পরে পৃথিবী থেকে এটি বিলুপ্ত হয়ে যেতে পারে।

সূত্র জানায়, সুন্দরবনের করমজল বন্য প্রাণী প্রজননকেন্দ্রে একটি পুকুরে ২০১৪ সালে কচ্ছপ প্রজননকেন্দ্র গড়ে তোলা হয়। শুরুতে এখানে আটটি পূর্ণবয়স্ক বাটাগুর বাসকা কচ্ছপ ছাড়া হয়। পরে বিভিন্ন এলাকা থেকে সংগ্রহ করে অন্য প্রজাতির ১৬৩টি কচ্ছপের বাচ্চা সেখানে ছাড়া হয়েছে। কচ্ছপ যাতে বের হতে না পারে এ জন্য পুরো পুকুরজুড়ে দেয়াল দেওয়া হয়েছে। বন বিভাগ বলছে, একসময় এই অঞ্চলে বাটাগুর বাসকা প্রজাতির কচ্ছপ অনেক দেখা যেত। কিন্তু বর্তমানে এশিয়া মহাদেশে এ কচ্ছপ বিরল।


মন্তব্য