kalerkantho


জগন্নাথপুর

‘লন্ডনি’ না থাকায় ভোট পড়েছে কম

শামস শামীম, সুনামগঞ্জ   

৭ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



এবার জমেনি সুনামগঞ্জের লন্ডনপ্রবাসী অধ্যুষিত জগন্নাথপুর উপজেলা পরিষদের নির্বাচন। কোনো ভোটকেন্দ্রেই ভোটারদের আশানুরূপ উপস্থিতি দেখা যায়নি। কম ভোট পড়াকে (কাস্ট) সাধারণ মানুষ নির্বাচনে ‘লন্ডনি প্রার্থী’ না থাকাকে চিহ্নিত করেছে। দুপুর ৩টায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জানান, ৩৮ শতাংশের নিচে ভোট কাস্ট হয়েছে।

এলাকাবাসী জানায়, সুনামগঞ্জের স্থানীয় নির্বাচন সবচেয়ে বেশি জমজমাট হয় জগন্নাথপুর উপজেলায়। প্রতিটি স্থানীয় নির্বাচনে অনেক লন্ডনপ্রবাসী পদপ্রার্থী হওয়ায় তাঁরা ‘টাকার গরমে’ মাঠ জমিয়ে রাখেন। এর প্রভাব ভোটের দিন পর্যন্ত লক্ষ করা যায়। এবার নির্বাচন কমিশন অল্প সময়ে এই উপজেলার তফসিল ঘোষণা করায় লন্ডনপ্রবাসীরা প্রার্থী হতে দেশে আসার সুযোগ পাননি। ফলে নির্বাচন জমেনি বলে মনে করে এলাকাবাসী।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, এবার চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান পদের নির্বাচনে একজনও লন্ডনপ্রবাসী প্রার্থী ছিলেন না। ফলে টাকার ছড়াছড়ি ছিল কম।

বিশেষ করে ভোটের আগের রাতে লন্ডনি প্রার্থীরা দুই হাতে ভোটারদের মধ্যে টাকা ছড়ানোয় ভোটের দিন প্রতিটি কেন্দ্র উৎসবে রূপ নেয়। ভোটও কাস্টিংও হয় বেশি।

দুপুর ১টায় পৌরশহরের স্বরূপ চন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে গেলে প্রিসাইডিং অফিসার মো. মতিউর রহমান জানান, তিন হাজার ভোটের মধ্যে ৬০৩টি কাস্ট হয়েছে। একই চিত্র ছিল অন্যান্য কেন্দ্রেও।

বাগময়না গ্রামের সালেহ আহমদ বলেন, ‘আমাদের এলাকায় মূলত লন্ডনিরা এসে নির্বাচন জমান। তাঁরা মাঠ গরম রাখেন। ভোটাররাও প্রাপ্তির আশায় তাঁদের পিছু নেন। ভোটের দিন পর্যন্ত এটা লক্ষ করা যায়। এবার লন্ডনি প্রার্থী না থাকায় ভোটারদের মধ্যে তেমন আগ্রহ ছিল না। ’

ইউএনও মাছুম বিল্লাহ বলেন, স্থানীয় নির্বাচন উৎসবমুখর হয় সাধারণত ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য-চেয়ারম্যানদের কারণে। এটা জেলার একমাত্র উপজেলা নির্বাচন হওয়ায় ভোটারদের মধ্যে তেমন আগ্রহ ছিল না। তাই ভোট কাস্ট হয়েছে কম।

জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাদেকুল ইসলাম বিকেল সোয়া ৪টায় বলেন, ২৫টি কেন্দ্রে হিসাব করে দেখা গেছে, প্রায় ৫০ শতাংশ ভোট কাস্ট হয়েছে।


মন্তব্য