kalerkantho


নোয়াখালীতে গুলিতে আ. লীগ নেতা নিহত

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি   

৬ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



নোয়াখালীতে আওয়ামী লীগের নেতা আবুল হাশেম (৪৬) গুলিতে নিহত হয়েছেন। শনিবার গভীর রাতে বাড়ি ফেরার পথে পূর্ব মাইচরা গ্রামে তাঁকে গুলি করা হয়।

তিনি সদর উপজেলার আণ্ডারচর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। দলীয় কোন্দলসহ স্থানীয় বিরোধে তিনি খুনের শিকার হয়েছেন বলে পুলিশ ধারণা করছে। পুলিশ গতকাল রাত পর্যন্ত এ ঘটনায় জড়িত কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি।

সুধারাম থানার ওসি আনোয়ার হোসেন বলেন, খবর পেয়ে রাতেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। দলীয় কোন্দল ও পূর্বশক্রতার বিষয়টি মাথায় রেখে গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। এ ঘটনায় জড়িত কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি। কী কারণে, কারা এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে তা নিশ্চিতভাবে এখনো বলা যাচ্ছে না। থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

আণ্ডারচর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা আবু বকর ছিদ্দিক বলেন, ‘ওয়ার্ড কমিটি নিয়ে বিতর্ক এবং কয়েকজনের সঙ্গে পূর্বশক্রতা ছিল।

আমরা এ হত্যাকাণ্ডের তীব্র প্রতিবাদ ও ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তার দাবি করছি। ’

নিহতের ছোট ভাই আলী আহম্মদ বলেন, ‘সন্ত্রাসীরা পরিকল্পিতভাবে আমার ভাইকে হত্যা করেছে। তিনি সব সময় সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে কথা বলেছেন। সম্প্রতি পুলিশ মমিন নামের এক সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার করেছে। তার সহযোগীরা এ হত্যাকাণ্ড ঘটাতে পারে। ’ 

স্বজনরা জানায়, পূর্ব মাইচরার আবু ছায়েদ মিয়ার ছেলে হাশেম স্থানীয় বাংলাবাজারের একটি দোকানে আড্ডা শেষে বাড়ি ফিরছিলেন। রাত সাড়ে ১২টার দিকে বাড়ির কাছে তিন রাস্তার মোড়ে পৌঁছলে সন্ত্রাসীরা তাঁকে লক্ষ্য করে কয়েক রাউন্ড গুলি করে। বুকে ও পেটে গুলিবিদ্ধ হয়ে তিনি রাস্তায় পড়ে গেলে অস্ত্রধারীরা পালিয়ে যায়। গুলির শব্দ শুনে লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে আসে এবং হাশেমকে উদ্ধার করে নোয়াখালী সদর হাসপাতালে নিয়ে যায়।

হাসপাতালের আরএমও মো. ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী বলেন, রাত ১টা ১০ মিনিটে আবুল হাশেমকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছিল। তাঁর বুকে ও পেটে দুটি গুলির চিহ্ন রয়েছে। ময়নাতদন্তের পর লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, লক্ষ্মীপুর ও নোয়াখালীর সীমান্তবর্তী আণ্ডারচর ইউনিয়নটি সন্ত্রাসকবলিত এলাকা হিসেবে পরিচিত। ৪ নম্বর ওয়ার্ড এলাকায় রয়েছে একাধিক সন্ত্রাসী বাহিনীর আখড়া। সম্প্রতি পুলিশ ও র‌্যাবের অভিযানে কয়েকজন সন্ত্রাসী নিহত ও গ্রেপ্তার হলে পরিস্থিতি ছিল থমথমে। পুলিশি অভিযানের ব্যাপারে সন্ত্রাসীরা দায়ী করে আসছিল স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের। খুনের এ ঘটনায় সন্ত্রাসীদের কোন গ্রুপ জড়িত তা জানতে পুলিশ চেষ্টা করছে। জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে ঘটনাস্থলের আশপাশের মানুষকে। তবে কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি বলে পুলিশ জানিয়েছে।


মন্তব্য