kalerkantho


গাজীপুরের ‘জাগ্রত চৌরঙ্গী’ আশপাশে এ কি হাল!

বিভিন্ন মহলের ক্ষোভ

নিজস্ব প্রতিবেদক, গাজীপুর   

৬ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



১৯৭১ সালে স্বাধীনতাযুদ্ধে শহীদদের অসামান্য আত্মত্যাগের স্মরণে গাজীপুরে নির্মিত হয় দেশের প্রথম মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক ভাস্কর্য ‘জাগ্রত চৌরঙ্গী’। ভাস্কর আবদুর রাজ্জাক ১৯৭৩ সালে গাজীপুরের চান্দনা চৌরাস্তায় ঢাকা-ময়মনসিংহ ও জয়দেবপুর-টাঙ্গাইল মহাসড়কের মাঝখানে এটি নির্মাণ করেন।

৪২ ফুট উচ্চতার ‘জাগ্রত চৌরঙ্গী’তে ১৬ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের ৩ নম্বর সেক্টরের ১০০ ও ১১ নম্বর সেক্টরের ১০৭ জন বীর শহীদের নাম খোদাই করে লেখা আছে। ভাস্কর্যটির ডান হাতে গ্রেনেড, বাঁ হাতে রাইফেল। লুঙ্গি পরা, খালি গা আর পেশিবহুল ভাস্কর্যটি মহান স্বাধীনতার স্মারক ভাস্কর্য, যা গাজীপুর জেলার পরিচয়ও বহন করে। শ্রদ্ধার এ ভাস্কর্যটির পাদদেশ এখন গণমূত্রত্যাগ স্থানে পরিণত হয়েছে। ভাস্কর্যটির চারপাশ ঘিরে দিনদুপুরেই মূত্র ত্যাগ করে মানুষজন, বিশেষ করে পরিবহনের যাত্রীরা। যার প্রবাহ ধারা গড়িয়ে মহাসড়কে পড়ে। দুর্গন্ধে ওই স্থান দিয়ে নাক না চেপে যাতায়াত করা যায় না। শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের স্মরণে নির্মিত ভাস্কর্যের এমন অমর্যাদায় চরম ক্ষুব্ধ মুক্তিযোদ্ধাসহ সাধারণ মানুষ।

সরকারি কর্মকর্তা মুক্তিযোদ্ধা মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘চৌরাস্তা দিয়ে আশপাশের কয়েকটি স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসার শিক্ষার্থীসহ পোশাক কারখানার হাজার হাজার শ্রমিক চলাচল করে।

একদিকে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ভাস্কর্য, তার ওপর আবার হাজার হাজার মানুষের চলাচল, এমন স্থানের এ রকম অমর্যাদায় আমরা ও সাধারণ মানুষ ক্ষুব্ধ। ’

ভাওয়াল বদরে আলম সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের অনার্স শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী আফরোজা রিপা বলেন, ‘প্রতিদিনই এখান দিয়ে আমাদের চলাচল করতে হয়। নোংরা পরিবেশেরও একটা সীমা থাকা দরকার। দুর্গন্ধে রাস্তা দিয়ে হেঁটে চলাচল এখন কষ্টকর। ’ একই সঙ্গে তিনি মহান মুক্তিযুদ্ধে বীর শহীদদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে যে ভাস্কর্য নির্মিত হয়েছে, তার পবিত্রতা রক্ষার্থে এর পাদদেশে কেউ যাতে মূত্র ত্যাগ করতে না পারে, সেদিকে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।


মন্তব্য