kalerkantho


সালথা আওয়ামী লীগ

মারমুখী দুই পক্ষ, উত্তেজনা

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর   

৬ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



ফরিদপুরের সালথা উপজেলায় আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের মারমুখী অবস্থানের কারণে আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়েছে সাধারণ মানুষ। দুই পক্ষের সমর্থকদের সংঘর্ষের জেরে বাড়িঘর ভাঙচুর ও ক্ষেতের ফসলের সঙ্গে গাছপালাও কেটে ফেলা হচ্ছে।

মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানির পাশাপাশি ফরিদপুর জেলা শহরে প্রবেশের ক্ষেত্রে এক পক্ষের অব্যাহত হুমকি ও তল্লাশিতেও আতঙ্কিত মানুষ।

শ্বাসরুদ্ধকর এ অবস্থা থেকে বের হওয়ার জন্য দুই পক্ষের নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপ দাবি করেছে।

আওয়ামী লীগ নেতা ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, বেশ কিছু দিন ধরে সালথা উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে আওয়ামী লীগের বিবদমান দুই পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা চলছে। এক পক্ষে আছে সংসদ উপনেতা ও ফরিদপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীর বড় ছেলে আয়মন আকবর চৌধুরীর সমর্থকরা। অন্য পক্ষে সালথা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেনের সমর্থকরা। দুই পক্ষের বিরোধের জেরে প্রায়ই সংঘর্ষ হচ্ছে। সংঘর্ষে লোকজন আহত হওয়া, বাড়িঘর ভাঙচুরের পাশাপাশি ক্ষেতের ফসল নষ্ট ও প্রতিপক্ষের গাছপালা কেটে ফেলার ঘটনাও ঘটছে। এতে দুই পক্ষের সমর্থক ছাড়াও সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

সর্বশেষ গত শুক্রবার উপজেলার গট্টি ইউনিয়নের ছয়টি গ্রামে দুই পক্ষের পাঁচ ঘণ্টার সংঘর্ষে ৩০ জন আহত ও ১৫টি বাড়ি ভাঙচুর করা হয়।

সংঘর্ষ থামাতে পুলিশ ও র‌্যাব মাঠে নামে। পুলিশ শটগানের গুলি ও কাঁদানে গ্যাসের শেল ছোড়ে। সন্ধ্যার পর এক পক্ষের চার সমর্থকের চার শতাধিক মেহগনি, আম ও লেবুগাছ কেটে ফেলে প্রতিপক্ষের লোকজন।

এ ঘটনার পর এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হলেও দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা চরমে উঠেছে। দুই পক্ষই মারমুখী অবস্থানে রয়েছে। যেকোনো সময় সংঘর্ষে প্রাণহানি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। আতঙ্ক ছড়িয়েছে এলাকার সাধারণ মানুষের মধ্যেও।

আয়মন আকবর চৌধুরীর সমর্থক ও সালথা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. ফারুকুজ্জামান ফকির মিয়া বলেন, এসব ঘটনায় শুধু আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরাই নয়, সাধারণ মানুষও চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছে যে কেউ কাউকে বিশ্বাস করতে পারছে না। এতে আওয়ামী লীগের ভাবমূর্তি প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে। তিনি বলেন, একটি পক্ষ ‘মামা বাহিনী’র নির্যাতনের কাল্পনিক গল্প ফেঁদে মানুষকে উসকে দিচ্ছে। অথচ বাস্তব ঘটনা হলো—দেলোয়ার হোসেনরা যখন এলাকায় ছিলেন, তখন তাঁদের নেতৃত্বেই মেজর (অব.) আতমা হালিমসহ দলীয় বহু নেতাকর্মী নির্যাতিত হয়েছে। পরে জনতার প্রতিরোধের মুখে তাঁরা এলাকা ছাড়েন। এরপর থেকে জেলা শহরে বসে নানা কূটকৌশলে তাঁরা এলাকায় বিভেদ সৃষ্টি করছেন। তাঁদের হুমকিতে ভীতসন্ত্রস্ত মানুষ জরুরি প্রয়োজনেও ফরিদপুর শহরে যেতে পারছে না। বাসসহ বিভিন্ন যানবাহনে তল্লাশি করা হচ্ছে।

ফারুকুজ্জামান ফকির এ শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতি থেকে উদ্ধারে শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপ কামনা করেন। তিনি বলেন, ‘নইলে এলাকার পরিস্থিতির আরো অবনতি হলে প্রাণহানির মতো ঘটনা ঘটতে পারে। তখন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কঠিন হতে পারে। ’

এদিকে এলাকার এ পরিস্থিতির জন্য ‘মামা বাহিনী’র সদস্যদের দায়ী করেন সালথা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি দেলোয়ার হোসেন। তিনি বলেন, এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ ঘটাতে মামা বাহিনীর নির্যাতন বন্ধে এর ‘মদদদাতা’ নগরকান্দা উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি আয়মন আকবর চৌধুরীকে এখান থেকে ঢাকায় নিয়ে যাওয়াই হবে প্রাথমিক পদক্ষেপ। এ ছাড়া দলীয় নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে করা ‘মিথ্যা’ মামলা প্রত্যাহার করে তাদের হয়রানিমুক্ত করতে হবে। দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘এ ব্যাপারে বঙ্গবন্ধুকন্যা ও প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য এলাকায় কর্মসূচি পালন করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু না পেরে আমরা নির্যাতিতদের নিয়ে ফরিদপুর শহরে মানববন্ধন করেছি। এলাকায় যাতে শান্তি বজায় থাকে সে ব্যাপারে আমরা সতর্ক। ’ তিনি বলেন, ‘মামা বাহিনীর অত্যাচার ও নির্যাতন বন্ধ না হলে পরিস্থিতির আরো অবনতি হতে পারে। ’


মন্তব্য