kalerkantho


মোরেলগঞ্জ উপজেলায় ভাইস চেয়ারম্যান পদে উপনির্বাচন আজ

পৌর এলাকায় ঢুকতেই পারেননি বিএনপি প্রার্থী

বাগেরহাট প্রতিনিধি   

৬ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান পদে উপনির্বাচন আজ সোমবার। ভোটের আগে বিএনপির প্রার্থী অভিযোগ করেন, তিনি প্রচারণার সময় পৌর এলাকায় ঢুকতে পারেননি। ফলে নির্বাচন কতটা সুষ্ঠু হবে, তা নিয়ে তিনি সংশয় প্রকাশ করেন।

বিএনপির প্রার্থী মো. বাদিউজ্জামান গতকাল রবিবার অভিযোগ করে বলেন, ‘আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীর কর্মী ও সমর্থকরা প্রথম থেকে আমাকে নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণায় বাধা দিয়েছে। হুমকির মুখে মোরেলগঞ্জ পৌর এলাকাসহ অনেক এলাকায় ঢুকতেই পারিনি। আমার কর্মী ও সমর্থকদের নানাভাবে হুমকি দিয়েছে নৌকা প্রতীকের প্রার্থীর লোকজন। হুমকির কারণে বনগ্রাম ইউনিয়নের ভোটকেন্দ্রগুলোতে নির্বাচনী এজেন্ট দিতে বেগ পেতে হচ্ছে। টেবিলের ওপর প্রকাশ্যে ভোট দিতে হবে, অন্যথায় কেন্দ্রে যাওয়ার দরকার নেই বলে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। ’

জাতীয় পার্টির প্রার্থী মো. আখতারুজ্জামান অভিযোগ করে বলেন, ‘নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার কারণে চাপের মুখে আছি। ক্ষমতাসীন দলের শরিক হয়েও আওয়ামী লীগের প্রার্থীর কর্মীদের হুমকি সহ্য করতে হচ্ছে। কতটুকু শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু পরিবেশে নির্বাচন হবে, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।

তবে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ফাহিমা খানম বলেন, ‘প্রথম থেকে ওই দুই প্রার্থী নানাভাবে আমার কর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করে আসছেন। এলাকায় তাঁদের জনসমর্থন নেই। নির্বাচনে ফায়দা লুটতে মিথ্যা অভিযোগ এনে প্রশাসনকে হেনস্তা করছে। ’

এ বিষয়ে বাগেরহাট জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও রিটার্নিং অফিসার মো. হুমায়ুন কবির বলেন, ‘প্রার্থীরা বিভিন্ন সময় পাল্টাপাল্টি অভিযোগ করেছেন। তবে সরেজমিনে তদন্ত করতে গিয়ে কোনো অভিযোগের ভিত্তি পাওয়া যায়নি। শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটাররা যাতে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে, সে জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ’

জেলা নির্বাচন অফিস সূত্র জানায়, গত ২০১৪ সালে মোরেলগঞ্জ উপজেলা পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। আওয়ামী লীগ নেতা ভাইস চেয়ারম্যান সাবুল আখতার ২০১৫ সালের শেষ দিকে মারা গেলে পদটি শূন্য হয়। নির্বাচনে তাঁর স্ত্রী ফাহিমাকে মনোনয়ন দিয়েছে আওয়ামী লীগ। এ উপজেলায় মোট ভোটার দুই লাখ আট হাজার ৫৬৫ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার এক লাখ চার হাজার ৪০ জন ও নারী ভোটারের সংখ্যা এক লাখ চার হাজার ৫২৫ জন। মোট ভোটকেন্দ্র ১০৯টি ও ভোটকক্ষ খোলা হয়েছে ৬১৬টি।

মোরেলগঞ্জ উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও উপনির্বাচনের সহকারী রিটার্নিং অফিসার বাদল চন্দ্র অধিকারী জানান, নির্বাচনে ৬৩টি কেন্দ্রকে অধিক গুরুত্বপূর্ণ (অধিক ঝুঁকিপূর্ণ) ও ২৭টি কেন্দ্রকে গুরুত্বপূর্ণ (ঝুঁকিপূর্ণ) ঘোষণা করা হয়েছে। গতকাল সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত নির্বাচন অফিস থেকে প্রতিটি কেন্দ্রের জন্য ব্যালট পেপার, বাক্সসহ সব মাল কর্মকর্তাদের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।

বাগেরহাটের পুলিশ সুপার পংকজ চন্দ্র রায় জানান, মোরেলগঞ্জে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রায় তিন হাজার সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। কেন্দ্রে মোতায়েনের পাশাপাশি স্ট্রাইকিং, ভ্রাম্যমাণ ও টহল বাহিনী থাকবে।


মন্তব্য