kalerkantho


ভোলা

কারসাজির ছবি ফেসবুকে ভারসাম্য হারিয়েছে ছাত্রী

ভোলা প্রতিনিধি   

৫ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



ভোলা সদর হাসপাতালের দোতলায় ৮ নম্বর কেবিনের বিছানায় শুইয়ে রাখা হয়েছে দশম শ্রেণির এক ছাত্রীকে। যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছে সে।

তাকে অক্সিজেন দিয়ে রেখেছেন চিকিৎসকরা। পাশে দাঁড়িয়ে আছেন বড় বোন। তিনি জানান, ছোট বোনের ছবি কারসাজি করে অশ্লীল ছবির সঙ্গে জুড়ে দিয়ে ফেসবুকে ছড়িয়ে দিয়েছে ভোলা সদর উপজেলার জংশন বাজারের স্টুুডিও মালিক রানা, মনির, সুমনসহ কয়েকজন বখাটে। এর পর থেকে সে মানসিক ভারসাম্য হারিয়েছে।

পরিবার জানায়, ভোলা সদরের একটি বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণিতে পড়ে মেয়েটি। দুই মাস আগে ইলিশা বাজারে রানার মালিকানাধীন মোবাইল সার্ভিসিংয়ের দোকানে ইমো সফটওয়্যার ডাউনলোড করতে যায়। সেখান থেকে তার কিছু ছবি অনুমতি ছাড়াই কপি করে রানা। এক মাস আগে বিদ্যালয়ে গিয়ে মেয়েটি জানতে পারে, তার ছবির মুখমণ্ডল ঠিক রেখে বাকি শরীরে অশ্লীল ছবি যুক্ত করে ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। একপর্যায়ে ওই ছবিও সে দেখতে পায়।

শুধু তাই নয়, ছবিগুলো শেয়ারের মাধ্যমে অন্য মোবাইল ফোনসেটে ছড়িয়ে দেয় বখাটেরা। এতে মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে সে। একপর্যায় বিদ্যালয়ে যাওয়া বন্ধ করে দেয়। এতেও ক্ষান্ত দেয়নি রানা, সিরাজের ছেলে সুমন ও আবুল কাসেমের ছেলে মনির। তারা মেয়েটিকে জিম্মি করার চেষ্টা করে। এ ঘটনায় মেয়েটি গত ১৭ জানুয়ারি ভোলা সদর মডেল থানায় একটি মামলা করে। গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ সুমন ও মনিরকে গ্রেপ্তার করে। কিন্তু মূল আসামি রানা গতকাল পর্যন্ত ধরা পড়েনি।

দুই আসামি গ্রেপ্তার হওয়ার পর কিছুটা হলেও স্বস্তি পায় ভুক্তভোগীর পরিবার। কিন্তু গত ১৫ ও ২০ ফ্রেব্রুয়ারি আদালত থেকে জামিনে বের হয়ে আসে সুমন ও মনির। তারা এবার মেয়েটিকে হুমকি দেয়। এতে মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে সে। গত ২৩ ফেব্রুয়ারি তাকে ভোলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় সদর মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে।

মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ডিফেন্ডারস ফোরামের সভাপতি মোবাশ্বির উল্লাহ চৌধুরী এ ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দা জানিয়ে বখাটে যুবকদের অবিলম্বে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন।

ভোলার সিভিল সার্জন ডা. রথীন্দ্রনাথ মজুমদার বলেন, ‘অসুস্থ ছাত্রী মানসিক আঘাতে ভুগছে। তার অবস্থা আগের চেয়ে কিছুটা উন্নতি হলেও পুরাপুরি সুস্থ হতে আরো কিছুদিন সময় লাগবে। তবে, অবস্থার উন্নতি না হলে তাকে মানসিক হাসপাতালে পাঠানো হতে পারে। ’

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও ভোলা ডিবির উপপরিদর্শক (এসআই) রূপ কুমার বলেন, ‘দুই আসামি জামিন পেয়ে এখন হুমকি দিচ্ছে। অভিযোগ পেয়েছি। পুলিশ মামলাটি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করছে। ’


মন্তব্য