kalerkantho


পাংশায় যুবকের স্বীকারোক্তি

শ্বশুরের ভালোবাসা পেতে ভায়রা খুন

রাজবাড়ী প্রতিনিধি   

৫ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



শ্বশুরের ভালোবাসা পেতে এক যুবক তাঁর ভায়রাকে শ্বাসরোধে হত্যা করেছেন। পুলিশ অভিযুক্তের স্বীকারোক্তি পেয়ে গতকাল শনিবার সকালে একটি আখক্ষেত থেকে নিহতের লাশ উদ্ধার করেছে। এটি ঘটেছে রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার যশাই ইউনিয়নে।

থানা সূত্রে জানা গেছে, যশাই ইউনিয়নের উদয়পুর কাদিপাড়া গ্রামের কৃষক আমজাদ খানের দুই মেয়ে কণা বেগম ও দিনা বেগম। ছয় বছর আগে বড় মেয়ে কণাকে পাঁচ কিলোমিটার দূরে থাকা হাবাসপুর গ্রামের ইসমাইল প্রমাণিকের ছেলে আলম প্রমাণিকের (২৮) সঙ্গে বিয়ে দেন। আলম সাদাসিধে ও বিশ্বস্ত। শ্বশুর তাঁকে স্নেহ করতেন। ক্ষেতে কাজ করানো এবং উত্পাদিত ফসল বিক্রিসহ সব কাজে আমজাদ জামাতাকে সঙ্গে রাখতেন। তিন বছর আগে ছোট মেয়ে দিনাকে বাড়ি থেকে দুই কিলোমিটার দূরে চরলক্ষ্মীপুর গ্রামের জামাল মণ্ডলের ছেলে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাচালক করিম খানের সঙ্গে বিয়ে দেন।

আলমের চাচা ও পল্লী চিকিৎসক আব্দুর রাজ্জাক জানান, আমজাদ তাঁর বড় জামাতাকে অধিক ভালোবাসতেন। বিষয়টি কোনোভাবে মেনে নিতে পারছিলেন না করিম।

এ কারণে করিম নানা কৌশলে তাঁর শ্বশুরের মন পাওয়ার চেষ্টা চালান। প্রতিবার ব্যর্থ হন। এতে তিনি হিংসাত্মক হয়ে ওঠেন। গত বৃহস্পতিবার সারা দিন শ্বশুরের সঙ্গে পেঁয়াজক্ষেতে পানি দেওয়ার কাজ করেন আলম। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে শ্বশুরের সঙ্গে খাবার খেয়ে নিজ বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন। শ্বশুরালয় থেকে এক কিলোমিটার দূরের উদয়পুর উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনের সড়কে ওঠেন। এ সময় করিম তাঁর বন্ধু ওমর আলী মণ্ডলের ছেলে হারুন মণ্ডলকে নিয়ে আলমকে ধরে ফেলেন। বিদ্যালয়ের শহীদ মিনারসংলগ্ন স্থানে পরনের লুঙ্গি ছিঁড়ে তাঁরা আলমকে শ্বাসরোধে হত্যা করেন। এরপর লাশটি এক কিলোমিটার দূরে কানার বিলের মধ্যে থাকা আখ লাগানোর জন্য চাষ দিয়ে রাখা ক্ষেতে প্রায় তিন ফুট গর্ত করে লাশ পুঁতে রাখেন। পরদিন ওই ক্ষেতে শ্রমিকরা আখ রোপণ করে।

শ্বশুর আমজাদ প্রমাণিক বলেন, ‘আমার কোনো ছেলেসন্তান নেই। আলম বড় জামাতা হলেও আমি তাকে ছেলে হিসেবে মনে করতাম, ভালোও বাসতাম। আলমকে খুঁজে না পেয়ে চিন্তিত হয়ে গত শুক্রবার সকালে পাংশা থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করি। ’

পাংশা থানার ওসি মোফাজ্জেল হোসেন জানান, জিডির পর বিকেলে তাঁরা করিমকে আটক করেন। একপর্যায়  তিনি অপহরণ, শ্বাসরোধে হত্যা এবং লাশ গুমের উদ্দেশে পুঁতে রাখার স্থানের কথা পুলিশকে জানান। এর পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল সকাল ৯টার দিকে থানা পুলিশের সদস্যরা ওই আখক্ষেত থেকে লাশ উদ্ধার করেন। লাশটি ওই দিনই ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়। বিকেলে আলমের ভাই বারেক প্রমাণিক হত্যা মামলা করেন।


মন্তব্য