kalerkantho


সুবর্ণচরে স্ত্রীকে হত্যার পর ঘরে পুঁতে রাখল স্বামী

প্রিয় দেশ ডেস্ক   

৫ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



সুবর্ণচরে স্ত্রীকে হত্যার পর ঘরে পুঁতে রাখল স্বামী

নোয়াখালীর সুবর্ণচরের পূর্ব চরমজিদ গ্রামে গৃহবধূ কোহিনুর আক্তারকে (৩০) শ্বাসরোধে হত্যার পর ঘরের মাটিতে পুঁতে রাখে তাঁর স্বামী মিল্লাত (৩৫)। গত শুক্রবার রাতে মাটি খুঁড়ে কোহিনুরের মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

এই দম্পতির বাড়ি ভোলার মনপুরায়। একই রাতে চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোলের আমজোয়ান গ্রামে চোর সন্দেহে এক যুবককে পিটিয়ে এবং টাঙ্গাইলে এক ব্যক্তিকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এ ছাড়া শুক্রবার রাতে ও গতকাল শনিবার ভোলা, যশোর, শরীয়তপুর, ময়মনসিংহের ভালুকা ও ত্রিশালে সাতজনের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। কালের কণ্ঠ’র প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর :

নোয়াখালী : পূর্ব চরমজিদ গ্রামে কোহিনুরের পাশের বাড়ির বাসিন্দা সিমা বেগম বলেন, “পাঁচ দিন আগে কোহিনুর ছোট মেয়ে মিম ও স্বামী মিল্লাতকে নিয়ে মনপুরা থেকে পূর্ব চরমজিদ গ্রামে এসে খাসজমিতে নতুন ঘর তুলে বসবাস শুরু করেন। গত শুক্রবার রাত সাড়ে ৩টার দিকে মিমের চিত্কার শুনে আমরা ঘর থেকে বের হই। পরে তাকে আমাদের ঘরে নিয়ে আসি। মিম বলে, ‘আমার মা-বাবা ঘরে নেই। ’ সকালে মিমকে পাশের গ্রামে বাস করা মিল্লাতের বাবা শাহাজান ডুবাইকে খবর দিলে তিনি মিমকে তাঁর বাড়ি নিয়ে যান। ” শাহাজান ডুবাই বলেন, “মিমের কান্নাকাটি দেখে আমার সন্দেহ হলে আমি মিল্লাতকে ফোন করলে সে তার স্ত্রীকে শ্বাসরোধে হত্যার কথা স্বীকার করে।

আমি তাকে কৌশলে বাড়ি এনে স্থানীয়দের হাতে তুলে দিই। সে স্বেচ্ছায় সবার কাছে বলে, ‘আমি আমার স্ত্রীকে হত্যা করে ঘরে পুেঁত রেখেছি। ’ পরে মিল্লাতের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী বসতঘরের মাটি খুঁড়ে কোহিনুরের লাশ উদ্ধার করে চরজব্বার থানার পুলিশ। ” আটক মিল্লাত জানায়, কোহিনুরকে তার ভালো লাগত না। তাই সে তাঁকে হত্যা করেছে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ : নাচোল উপজেলার আমজোয়ান গ্রামে নিহত গুমানী (২৬) চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার দাদনচক গ্রামের লালচান্দ আলীর ছেলে। পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, শুক্রবার রাত আড়াইটার দিকে আমজোয়ান গ্রামের মতিউর রহমানের বাড়ির একটি ইজি বাইকের তালা খোলার চেষ্টার সময় স্থানীয়রা গুমানীকে আটক করে প্রচণ্ড মারধর করে। পরে তাঁকে নাচোল স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতকাল সকালে তাঁর মৃত্যু হয়।

ভোলা : পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের পাখিরপোল এলাকা থেকে শুক্রবার রাতে গৃহবধূ রুবিনার (২৩) ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তিনি ওই এলাকার নজরুল ইসলাম লিটনের স্ত্রী। লিটন একটি ওষুধ কম্পানির প্রতিনিধি। ঘটনার পর থেকে তিনি পলাতক। স্থানীয় ও পুলিশ সূত্র জানায়, তিন মাস আগে লিটনের সঙ্গে রুবিনার বিয়ে হয়। তাঁদের ১১ মাসের একটি শিশুসন্তান রয়েছে।

যশোর : শহরের শংকরপুরের কাছে রেললাইনের পাশ থেকে গতকাল সকালে ১১-১২ বছর বয়সের এক শিশুর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। শিশুটির পরনে ছিল পাঞ্জাবি-পায়জামা ও টুপি। ধারণা করা হচ্ছে সে মাদ্রাসার ছাত্র। তার পকেটে ঢাকা থেকে যশোরে আসার একটি বাসের টিকিট পাওয়া গেছে। রেল পুলিশের উপপরিদর্শক ইদ্রিস আলী জানান, লাশ ময়নাতদন্তের জন্য যশোর জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। লাশের শরীরে আঘাতের চিহ্ন নেই। এদিকে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ থেকে কামরুজ্জামান নামের এক ব্যক্তি একটি অনলাইন পত্রিকায় লাশের ছবি দেখে যশোরের একজন সাংবাদিককে বলেছেন, এটি তাঁর ভাই শওকতের ছেলে মাহবুব।

টাঙ্গাইল : গতকাল সকালে সদর উপজেলার উত্তর তারটিয়ার এলংজান নদীর পাড় থেকে কোপানো ও গলা কাটা অবস্থায় উদ্ধার করা হয় হারুন খানের (৩৫) লাশ। তিনি কালিহাতীর খইলা নয়াপাড়া গ্রামের সামাদ খানের ছেলে। টাঙ্গাইল মডেল থানার পরিদর্শক (ওসি) নাজমুল হক ভুইয়া জানান, শুক্রবার সন্ধ্যায় হারুন বাড়ি থেকে বের হয়ে রাতে আর ফেরেননি। বাড়ির লোকজন বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তাঁকে পায়নি। পূর্বশত্রুতার জেরে তাঁকে হত্যা করা হতে পারে।

ভালুকা (ময়মনসিংহ) : ভালুকায় গতকাল এক অজ্ঞাতপরিচয় নারীর (৫০) লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে পুলিশ। মৃতের শরীরে ও গলায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। এদিকে ত্রিশালে বৈলর উজানপাড়ায় ফাতেমা আক্তার (২০) নামের এক পোশাককর্মীকে তাঁর সাবেক স্বামী সুজন মিয়া ছুরিকাঘাতে খুন করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ফাতেমা ওই গ্রামের আবদুল কদ্দুসের মেয়ে। সুজন একই গ্রামের মোহাম্মদ আলীর ছেলে।

শরীয়তপুর : সদর উপজেলার আটিপাড়া গ্রামে গতকাল সকালে গৃহবধূ নারগিস আক্তারের (২৭) ঝুলন্ত লাশ তাঁর স্বামীর বসতঘর থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। তিনি ওই গ্রামের আমির হোসেন দেওয়ানের ছেলে মনির হোসেন দেওয়ানের স্ত্রী ও নড়িয়া উপজেলার চান্দনী গ্রামের রমিজ উদ্দিন মোল্যার মেয়ে। নারগিসের পরিবারের অভিযোগ, তাঁকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে। মনির তার বাবা আমীর হোসেন, মা সুফিয়া বেগম ও মেয়ে কাজল রেখাকে নিয়ে পালিয়েছে।

এদিকে গোসাইরহাট উপজেলার কুচাইপট্টি ইউনিয়নের খেজুরতলা এলাকায় মেঘনা নদী থেকে শুক্রবার রাতে দুই ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তাঁরা হলেন সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ার চয়রা গ্রামের শহীদুল ইসলামের ছেলে হাফিজুর রহমান (৩০) ও পাবনার চাটমোহরের ছাইখোলা গ্রামের নওশের আলীর ছেলে মাহাবুব প্রামাণিক। তাঁরা কুচাইপট্টিতে মাটিকাটা শ্রমিকের কাজ করতেন।


মন্তব্য