kalerkantho


জয়পুরহাট

হাসপাতালে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত শিশুর লাইন

জয়পুরহাট প্রতিনিধি   

৫ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



জয়পুরহাট জেলা আধুনিক হাসপাতালে গত ১৪ দিনে রোটা ভাইরাসে (ডায়রিয়া) আক্রান্ত প্রায় ৫০০ শিশুকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। প্রতিদিন চিকিৎসা নিতে ২০-২৫টি আক্রান্ত শিশুকে নিয়ে হাসপাতালে ছুটে আসছেন তাদের মা-বাবা। হাসপাতালের ডায়রিয়া ওয়ার্ডে এসব শিশুর জায়গা সংকুলান না হওয়ায় মেঝেতে তাদের সেবা দেওয়া হচ্ছে।

গত শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে জয়পুরহাট জেলা আধুনিক হাসপাতালের ডায়রিয়া ওয়ার্ডে গিয়ে দেখা গেছে, রোটা ভাইরাসে আক্রান্ত ১৮ শিশু ভর্তি আছে। আগের দিন ৪০ শিশু ভর্তি থাকলেও চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হওয়ায় ২৩ জনকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। গত ১৮ ফেব্রুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ৫০০ রোগী ডায়রিয়া ওয়ার্ডে ভর্তি হয়েছে; যাদের প্রায় সবাই এক থেকে পাঁচ বছর বয়সের শিশু। প্রতিটি শিশু প্রথমে বমি এবং পরে পাতলা পায়খানা আর পেটের ব্যথায় ভুগছিল। স্যালাইন, ডাবের পানির পাশাপাশি প্রয়োজনীয় ওষুধ দিয়ে ২৪ ঘণ্টা তাদের দেখভাল করা হচ্ছে।

হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা শহরের বুলুপাড়া মহল্লার দেড় বছরের শিশুকন্যা মাওয়ার মা ফারজানা আক্তার জানান, পায়খানার পাশাপাশি বমি শুরু হলে শুক্রবার রাতে তিনি মেয়েকে নিয়ে হাসপাতালে আসেন। স্যালাইন দিয়ে রাখা হলেও কিছুতেই পায়খানা কমছে না। একই অবস্থার কথা জানান নওগাঁর ধামুরহাটের মরল গ্রাম থেকে আসা দুই বছরের শিশু মোহনার নানি মাজেদা বেগম।

গত বৃহস্পতিবার সকালে হাসপাতালে ভর্তির পর চিকিৎসা চললেও পেটের ব্যথা কমছে না।

হাসপাতালে কর্তব্যরত সেবিকা বিউটি বেগম জানান, প্রতিদিন ডায়রিয়া ওয়ার্ডে শিশু রোগী বাড়ছে। দিনে ২০ থেকে ২৫টি করে শিশু রোগী ভর্তি হচ্ছে। দু-তিন দিন চিকিৎসা নেওয়ার পর তারা সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরছে।

হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. আতাউর রহমান বলেন, আবহাওয়ার তারতম্যের পাশাপাশি অপরিষ্কার-অপরিচ্ছন্নতা থেকে রোটা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ঘটে। গত দুই সপ্তাহে রোটা ভাইরাসে আক্রান্ত প্রায় ৫০০ শিশুকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। প্রতিদিন এ রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. খোরশেদ আলম বলেন, বছরের এ সময়টা আবহাওয়ার তারতম্যের কারণে রোটা ভাইরাসের জন্য সহায়ক হিসেবে কাজ করে, যা অস্বাস্থ্যকর খাবার ও দূষিত পানির মাধ্যমে মানুষের দেহে প্রবেশ করে এ রোগের সৃষ্টি করে।

জয়পুরহাটের জেলা সিভিল সার্জন ডা. হাবিবুর রহমান বলেন, অন্য সময়ের চেয়ে রোটা ভাইরাসের প্রকোপ বর্তমানে কিছুটা বেড়েছে। গোটা জেলা থেকে আক্রান্ত শিশুদের অভিভাবকরা জেলা হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসার কারণে এর সংখ্যা বেশি মনে হচ্ছে। তবে হাসপাতাল থেকে সঠিক চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তা ছাড়া মানুষকে সচেতন করার জন্য সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আবহাওয়া স্বাভাবিক হলে এই অবস্থা কেটে যাবে।


মন্তব্য