kalerkantho


কুড়িগ্রাম

হত্যাচেষ্টার ৮ বছর পর এসিড নিক্ষেপ

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি   

৫ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



হত্যাচেষ্টার আট বছর পর এক নারীকে এসিডে ঝলসে দিয়েছে তাঁর সৎ (বিমাতা) ভাই ও ভাতিজারা। কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার রামখানা গ্রামে গত শুক্রবার রাত আড়াইটার দিকে এ ঘটনা ঘটেছে। আহতকে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

পুলিশ ও এলাকাবাসী জানায়, মালেকা বানুর শোওয়ার ঘরে সিঁধ কেটে প্রবেশ করে ভাই হায়দার আলী, তার দুই ছেলে দুলাল হোসেন ও মিঠু, বোন জামাই গাজীউর রহমান, ফুফাতো ভাই রুহুল আমিন। ওই নারী টের পেয়ে ঘুম থেকে জেগে ওঠেন। তারা তাঁকে চেপে ধরে এসিড ঢেলে দেয়। এরপর সবাই দৌড়ে পালিয়ে যায়। চিত্কার শুনে এলাকাবাসী ছুটে আসে। তারা দীর্ঘক্ষণ পুড়ে যাওয়া শরীরে পানি ঢেলে ভোরে তাঁকে থানায় নিয়ে আসে। তাঁকে নাগেশ্বরী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠায় পুলিশ। সকাল ১১টার দিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে রংপুর মেডিক্যাল কলেজের বার্ন ইউনিটে পাঠানো হয়েছে।

নাগেশ্বরী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের শয্যায় থাকাকালে মালেকা বানু বলেন, ‘তারা যখন ঘরে ঢোকে তখন টের পাই। এ সময় হায়দার মুখ চেপে ধরে মাটিতে নামায়। দুলাল ও গাজী দুই হাত ও পা চেপে ধরে। হায়দার বোতল থেকে পানির মতন জিনিসগুলা ঢালি দেয়। মিঠু ও রুহুল দরজায় ছিল। আমার শরীর যখন পুড়ে যাচ্ছিল তখন জোরে চিত্কার দেই। সবাই পালায়। আমি চিত্কার দিতে থাকি। পরে অনেকে এসে আমার গায়ে পানি দেয়। ’

এলাকাবাসী জানায়, পৈতৃক সূত্রে পাওয়া জমি নিয়ে হায়দার ও মালেকার বিরোধ চলে আসছে ২০০৯ সাল থেকে। সে সময় মালেকাকে হত্যার উদ্দেশ্যে হায়দার বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে বাইরে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে সারা শরীরে আঘাত করে।

নাগেশ্বরী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. জি আর এম মোকসেদুর রহমান বলেন, ‘মালেকার শরীরের প্রায় ২৭ ভাগ পুড়ে গেছে।   এ ছাড়া কি ধরনের এসিড ছোড়া হয়েছে তা শনাক্তের উপায় এখানে নেই। এ জন্য তাঁকে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ’


মন্তব্য