kalerkantho


লক্ষ্মীপুর কৃষি ব্যাংক

ঋণের টাকা দুই কর্তার পকেটে, চলছে তদন্ত

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি   

৫ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



কৃষি ব্যাংক লক্ষ্মীপুর শাখার সাবেক দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ঋণগ্রহীতাদের কাছ থেকে আদায় করা টাকা নিজেদের পকেটে পুরেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনা তদন্তে সম্প্রতি বিশেষ নিরীক্ষাদল গঠন করা হয়েছে। শনিবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তদন্তসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। অভিযুক্তরা হলেন ব্যাংকটির লক্ষ্মীপুর শাখার সাবেক মাঠ কর্মকর্তা মো. ফেরদৌস আলম ও ছাদেক উল্যা কবির। ফেরদৌস বর্তমানে ব্যাংকটির চৌধুরী বাজার শাখা ও ছাদেক উল্যা রায়পুর শাখায় কর্মরত। তবে তাঁরা মোট কত টাকা আত্মসাৎ করেছেন, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

টাকা তছরুপের ঘটনায় লক্ষ্মীপুর আঞ্চলিক নিরীক্ষা কার্যালয়ের আঞ্চলিক নিরীক্ষা কর্মকর্তা দিলীপ কৃষ্ণ মণ্ডলকে দলনেতা করে তিন সদস্যের কমিটি করেছে কর্তৃপক্ষ। সদস্যরা হলেন লাকসাম আঞ্চলিক নিরীক্ষা কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন মুখ্য কর্মকর্তা মো. আবুল কাশেম ও কুমিল্লা আঞ্চলিক নিরীক্ষা কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন মুখ্য কর্মকর্তা মো. মোস্তাল হোসেন।

এর আগে যথাযথ তদারকি, দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন না করায় লক্ষ্মীপুর শাখার তত্কালীন দ্বিতীয় কর্মকর্তা (বর্তমানে চর আলেকজান্ডার শাখায় কর্মরত) মো. গিয়াস উদ্দিনকে গত ২৬ ডিসেম্বর চিঠি দিয়ে ব্যাখ্যা তলব করা হয়। প্রধান কার্যালয়ের ভিজিল্যান্স স্কোয়াড বিভাগ থেকে উপমহাব্যবস্থাপক মো. শাহজাহান এ চিঠি দেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০১৩ সালের ২৫ জানুয়ারি সদরের দালালবাজারের খিদিরপুর গ্রামের মো. সবুজ তদন্ত কর্মকর্তার (আইও) রশিদের (গ-৫১১৭৯৪) মাধ্যমে মাঠ কর্মকর্তার কাছে পাঁচ হাজার টাকা জমা দেন।

তবে ওই মাঠ কর্মকর্তা ব্যাংকে জমা দেন তিন হাজার ৮৭৫ টাকা। এতে এক হাজার ১২৫ টাকা আত্মসাৎ করা হয়। পরের বছরের ২০ ডিসেম্বর একই ব্যক্তি গ-১৪২৩১২২ নম্বর রশিদের মাধ্যমে ঋণের ২৫ হাজার ৮০ টাকা জমা দেন। কিন্তু ব্যাংকে জমা হয় ২৩ হাজার ৮০ টাকা। এখানে দুই হাজার টাকা আত্মসাৎ করা হয়। এ ছাড়া পশ্চিম লক্ষ্মীপুর গ্রামের মো. জবি উল্যার গ-১৪২৩১৮৩ নম্বর আইও রশিদের বিপরীতে তিন হাজার টাকা, একই গ্রামের মমিন উল্যার ঘ-২৫২২৬২ রশিদের বিপরীতে ছয় হাজার ৩০ টাকা, তোফায়েল আহম্মদের ঘ-২৫৩২৬৩ রশিদের বিপরীতে তিন হাজার ৩০০ টাকা এবং আধারমানিক গ্রামের হাজি মো. মমিন উল্যার ঘ-৮৪৮৫৪৪ রশিদের বিপরীতে চার হাজার ৪০ টাকা আত্মসাৎ করার প্রমাণ পেয়েছেন ব্যাংকটির ঊর্ধ্বতন মুখ্য কর্মকর্তা মো. শাহজাহান সরকার।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, অভিযুক্ত ওই দুই কর্মকর্তা ২০১৩ সালের ১ আগস্ট থেকে ১৬ সালের ২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত লক্ষ্মীপুর শাখায় কর্মরত ছিলেন। এ সময় তাঁরা ঋণগ্রহীতাদের কাছ থেকে টাকা আদায় করে কৌশলে কিছু টাকা আত্মসাৎ করেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, দুই কর্মকর্তা ঋণগ্রহীতাদের কাছ থেকে রশিদের মাধ্যমে টাকা আদায় করে কৌশলে বিপুল পরিমাণ টাকা আত্মসাৎ করেছে। ঘটনাগুলো ধামাচাপা দিতে তাঁরা বিভিন্নভাবে কৃষকদের ম্যানেজের চেষ্টা চালিয়ে আসছেন।

জানতে চাইলে মো. ফেরদৌস আলম ও ছাদেক উল্যা কবির দাবি করেন, তাঁরা কোনো অনিয়ম করেননি। তবে দু-একটি হিসাবে সামান্য ভুল হতে পারে। তাঁদের বিরুদ্ধে টাকা আত্মসাতের অভিযোগটি সঠিক নয়।

এ ব্যাপারে তদন্ত নিরীক্ষাদলের প্রধান লক্ষ্মীপুর আঞ্চলিক নিরীক্ষা কার্যালয়ের আঞ্চলিক নিরীক্ষা কর্মকর্তা দিলীপ কৃষ্ণ মণ্ডল বলেন, টাকা আত্মসাতের অভিযোগ নিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলা হচ্ছে। গুরুত্বের সঙ্গে এটির তদন্ত চলছে। আশা করছি, আগামী ১৫ মার্চের পরে সংশ্লিষ্ট কার্যালয়ে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেব।


মন্তব্য