kalerkantho


কাপাসিয়ায় প্রকাশ্যে ছাত্রী অপহরণ পরে উদ্ধার

আঞ্চলিক প্রতিনিধি, গাজীপুর   

৫ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



কাপাসিয়ায় প্রকাশ্যে ছাত্রী অপহরণ পরে উদ্ধার

গাজীপুরের কাপাসিয়ায় অষ্টম শ্রেণিপড়ুয়া এক ছাত্রীকে জনাকীর্ণ এলাকা থেকে প্রকাশ্যে তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। উপজেলার টোক ইউনিয়নের উলুসারা গ্রামে দুর্ধর্ষ ওই অপহরণের ঘটনা ঘটে।

পরে অভিযান চালিয়ে মেয়েটিকে উদ্ধার করা হলেও সন্ত্রাসীরা ধরা পড়েনি বলে পুলিশ দাবি করেছে। তবে ছাত্রীর বাবা অভিযোগ করেছেন, তাঁর মেয়েকে উদ্ধারকালে ঘটনায় জড়িত দুজন ধরা পড়েছিল। কিন্তু পুলিশ মোটা অঙ্কের টাকা নিয়ে তাদের ছেড়ে দিয়েছে। পুলিশ অবশ্য ওই অভিযোগ সাজানো বলে দাবি করেছে।

ওই অপহরণের ঘটনায় মেয়ের বাবা বাদী হয়ে গতকাল শনিবার কাপাসিয়া থানায় মামলা করেছেন। অভিযোগ থেকে জানা যায়, একটি দাখিল মাদরাসার ওই ছাত্রী (১৩) অপহরণে নেতৃত্ব দেয় প্রতিবেশী জসীম উদ্দিনের ছেলে সোহাগ (১৯)। তার অন্য সহযোগীরা হলো একই গ্রামের আফসার (১৯), রুখসানাসহ (২০) নাম না জানা আরো দুই যুবক।

স্বজনরা জানায়, গত বৃহস্পতিবার সকালে মাদরাসায় যাওয়ার পথে একটি পিকআপ ভ্যান ছাত্রীটির পথ রোধ করে। পরে কেউ কিছু বুঝে ওঠার আগেই জোর করে মেয়েটিকে পিকআপ ভ্যানে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়।

স্থানীয় লোকজন পিছু ধাওয়া করলেও পিকআপ ভ্যানটি আটকানো যায়নি।

ছাত্রীর বাবা জানান, তাত্ক্ষণিকভাবে ঘটনা জেনে ব্যাপক খোঁজাখুঁজি করেও তাঁর মেয়ের কোনো হদিস পাননি তিনি। পরে বিকেলে তিনি থানায় অভিযোগ করেন।

কাপাসিয়া থানার এসআই নাজমুল হক জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অবস্থান নিশ্চিত হয়ে গত শুক্রবার রাতে অভিযান চালিয়ে ছাত্রীটিকে উদ্ধার করা হয়। অপহরণকারী ও তার সহযোগীরা পালিয়ে যায়।

তবে ছাত্রীর বাবা অভিযোগ করেন, তাঁর মেয়েকে উদ্ধারকালে অপহরণকারীর সহযোগী আফসার ও আল আমিনকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছিল। পরে মোটা অঙ্কের টাকা নিয়ে রাতেই তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়। স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য কবির হোসেনও বলেন, উদ্ধার করার পর মেয়েটিকে আদালতে না পাঠিয়ে তার বাবাকে নিয়ে যেতে বলেছিল। তাতে রাজি না হলে ইউপি চেয়ারম্যানের জিম্মায় দেওয়ারও চেষ্টা চালিয়েছিল পুলিশ।

অভিযোগ অস্বীকার করে থানার এসআই নাজমুল হক বলেন, পুলিশের অভিযানে স্রেফ অপহৃত ছাত্রী উদ্ধার হয়, কেউ ধরা পড়েনি। তবে অপহরণকারী সোহাগ ও তার সহযোগীদের গ্রেপ্তার করতে অভিযান চলছে। তিনি জানান, গতকাল বিকেলে ওই ছাত্রীকে গাজীপুর আদালতে পাঠানো হয়। আদালত ২২ ধারায় জবানবন্দি গ্রহণ করে নিরাপত্তা হেফাজতে পাঠিয়েছেন মেয়েটিকে।


মন্তব্য