kalerkantho


ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন

শিক্ষকরাই প্রশ্ন ফাঁসের হোতা

শাহাদাত তিমির, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়   

৫ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



শিক্ষকরাই প্রশ্ন

ফাঁসের হোতা

কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি পরীক্ষায় এফ ইউনিটের প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছে বলে প্রমাণ পেয়েছে তদন্ত কমিটি। এ প্রশ্নপত্র উত্তরসহ ওই ইউনিটের একাধিক শিক্ষক ফাঁস করেছেন। গতকাল শনিবার তদন্ত প্রতিবেদন জমা পড়লেও তা প্রকাশ না করায় আপাতত জড়িত শিক্ষকদের নাম জানা যায়নি।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, এফ ইউনিটের একাধিক শিক্ষক, বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারী আলাল উদ্দিন, কুষ্টিয়া সদর থানা যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আনিসুর রহমান বিকাশ, স্থানীয় ঠিকাদার তবিবর রহমান তোতা, গণিত বিভাগের ছাত্র ও ক্যাম্পাস লাইব্রেরির মালিক মনোজিত্ মণ্ডলসহ স্থানীয়রা জড়িত। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা জড়িত বলে অভিযোগ আছে। শিক্ষকরা ঠিকাদারদের সঙ্গে যোগাযোগ করে কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের দিয়ে কাজ করিয়েছেন বলে সূত্র নিশ্চিত করেছে। প্রতিটি প্রশ্ন উত্তরসহ লক্ষাধিক টাকায় বিক্রি হয়েছে। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে প্রায় কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক জ্যেষ্ঠ শিক্ষক বলেন, ‘তদন্ত প্রতিবেদন কেন প্রকাশ করা হলো না—আমার কাছে তা বোধগম্য নয়। জানি না, এর মধ্য দিয়ে কোনো দোষীকে ছাড় দেওয়া হচ্ছে কি না। ইউনিটের শিক্ষক ছাড়া প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়া সম্ভব না।

তদন্ত কমিটির সদস্য অধ্যাপক ড. মাহবুবর রহমান বলেন, ‘আমরা তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছি। এখন প্রশাসন জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে। ’

উল্লেখ্য, ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে গত ৪ থেকে ৭ ডিসেম্বর। ভর্তি পরীক্ষার শেষ দিনে তৃতীয় শিফটে অনুষ্ঠিত হয় ফলিত বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি অনুষদভুক্ত ‘এফ’ ইউনিটের পরীক্ষা। এ বছর ভর্তি পরীক্ষায় এফ ইউনিটের সমন্বয়কারী ছিলেন গণিত বিভাগের সভাপতি মো. নুরুল ইসলাম। গণিত বিভাগের শিক্ষক মিজানুর রহমান ও পরিসংখ্যান বিভাগের সভাপতি আলতাফ হোসেন সদস্য ছিলেন। ভর্তি পরীক্ষা শেষে বিভিন্ন মহল থেকে এ ইউনিটের প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগ ওঠে। অভিযোগের ভিত্তিতে গত ২৫ জানুয়ারি গণিত বিভাগের অধ্যাপক ড. মোস্তফা কামালকে আহ্বায়ক করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে প্রশাসন। কমিটিতে অন্য সদস্যরা হচ্ছেন কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. আহসান উল আম্বিয়া এবং ফলিত পদার্থ তড়িত্ ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের অধ্যাপক ড. মাহবুবর রহমান। তদন্ত কমিটির সদস্যরা শনিবার দুপুর ২টার দিকে উপাচার্য অধ্যাপক ড. হারুন উর রশিদ আসকারীর কাছে প্রতিবেদন জমা দেন। তবে তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করেনি প্রশাসন। আগামী সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভায় এ প্রতিবেদন প্রকাশ করা হতে পারে।

এ বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. হারুন উর রশিদ আসকারী বলেন, ‘কমিটি তাদের প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। তদন্ত ও বিচারকাজের স্বার্থে আমরা এখনো প্রতিবেদন খুলিনি। আগামী সিন্ডিকেট সভায় বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা হবে। জড়িতদের বিরুদ্ধে অবশ্যই সিন্ডিকেট সদস্যদের মতামতের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ’


মন্তব্য