kalerkantho


কেশবপুরে প্রতিবাদ

বিদ্যালয়ের ১০০ গজের মধ্যে ইটভাটা

কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি   

৪ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



যশোরের কেশবপুর উপজেলার শ্রীরামপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ১০০ গজের মধ্যে অবৈধভাবে একটি ইটভাটা তৈরি করা হচ্ছে। এটি বন্ধের দাবিতে সমাবেশ, মানববন্ধন ও গণস্বাক্ষর কর্মসূচি চলছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শ্রীরামপুর গ্রামের তিন রাস্তার মোড়ে এলাকাবাসী একটি বাজার গড়ে তোলে। বাজারে প্রতিদিন হাট বসে। এর পশ্চিম পাশে শ্রীরামপুর কমিউনিটি ক্লিনিক, একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, দক্ষিণ পাশে শ্রীরামপুর বালিকা বিদ্যালয়সহ চারপাশে ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা। বাজারটি আশপাশের এলাকা থেকে অপেক্ষাকৃত উঁচু হওয়ায় এর উত্তরে বায়সা চিংড়া সড়কের কালীবাড়ি শ্মশানের পাশের মেসার্স গোল্ড ব্রিকস ও মেসার্স গাজী ব্রিকস তৈরি করা হয়েছে। একাধিক ট্রাকযোগে সরঞ্জামসহ ইট আনা-নেওয়ার জন্য সড়কটি ব্যবহার করা হচ্ছে। ফলে সড়ক সংস্কারের পর বছর পার হতে না হতেই আবারও খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। জনগণের চলাচল চরমভাবে বিঘ্ন হচ্ছে। এ রাস্তা দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে শিশুদের বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়া করতে হয়। প্রতিনিয়ত ভাটার গাড়ি চলাচলের কারণে ধুলাবালিতে সাধারণ মানুষ সর্দি-কাশি, এলার্জিসহ নানাবিধ রোগে আক্রান্ত হচ্ছে।

ভাটার কার্বন নিঃসরণে ফসলহানি হচ্ছে। এ নিয়ে গত বছরের ২৯ ডিসেম্বর দুই শতাধিক লোকের স্বাক্ষরিত একটি অভিযোগপত্র উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে দাখিল করা হয়েছে।

ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন আইন ২০১৩-এর ৮ নম্বর অনুচ্ছেদে উল্লেখ করা হয়েছে, আবাসিক, সংরক্ষিত বা বাণিজ্যিক এলাকা, কৃষিজমি, পরিবেশ বিপর্যয়, ফসলের ক্ষতি সাধন ও ব্যক্তি মালিকানাধীন বাগান দখল করে কোনো ইটভাটা স্থাপন করা যাবে না। এ আইন উপেক্ষা করে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি বাজারের মাত্র ৫০ গজ দূরে রাবেয়া ব্রিকস ভাটা স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

গত বৃহস্পতিবার রাতে বাজার কমিটি একটি প্রতিবাদ সভা করে। সভায় বক্তব্য দেন প্রভাষক রুহুল আমীন, আব্দুর রহমান, আতিয়ার রহমান, রফিকুল ইসলাম প্রমুখ। বাজার কমিটির সভাপতি আব্দুল আজিজ সরদার বলেন, ‘ভাটা বন্ধের দাবিতে পাড়ায় পাড়ায় চলছে উঠান বৈঠকসহ গণস্বাক্ষর অভিযান। ’

শ্রীরামপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মানিক দত্ত বলেন, ‘বিদ্যালয়ের মাত্র ১০০ গজ দূরে ইটভাটা তৈরির উদ্যোগ নেওয়ায় ইতিমধ্যে অভিভাবকরা তাঁদের সন্তানদের অন্যত্র নিয়ে যাওয়ার চিন্তা করছেন। কারণ ওই স্থানে ভাটা তৈরি হলে লেখাপড়ার পরিবেশ ভেঙে পড়বে। ’

এ বিষয়ে যশোর পরিবেশ অধিদপ্তরের জৈষ্ঠ রসায়নবিদ আতাউর রহমান বলেন, ‘শ্রীরামপুর বাজারের পাশে নতুন ভাটা তৈরির জন্য কেউ অনুমতি নেয়নি। অনুমতি ছাড়া কেউ আইন অমান্য করে ভাটা তৈরির চেষ্টা করলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ’

কেশবপুর ইউএনও শরিফ রায়হান কবির বলেন, ‘নতুন ইটভাটা তৈরির বিষয়ে জেলা প্রশাসকের নির্দেশে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) তদন্ত করছেন। তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের পর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ’


মন্তব্য