kalerkantho

দামুড়হুদায় শিশু মুক্তা হত্যা

ঘাতক বন্ধুর মা

চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি   

৪ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



নিজের ছেলের খেলার সাথি ছিল তিন বছরের মুক্তা মনি। ছেলেকে মারায় ক্ষুব্ধ হয়ে মুক্তাকে শ্বাসরোধে হত্যার পর লাশ ঘরেই লুকিয়ে রাখেন চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদার গৃহবধূ পপি খাতুন।

পরে রাতে বাড়ির পাশের সেপটিক ট্যাংকে নিয়ে ফেলে দেন। লাশ উদ্ধারের পর পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে এভাবেই স্বীকারোক্তি দিয়েছেন পপি। পরে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা করা হলে শুক্রবার বিকেলে আদালতেও তিনি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছেন।

দামুড়হুদা থানার ওসি আবু জিহাদ মোহাম্মদ ফকরুল আলম খান জানান, গত বুধবার বিকেলে দামুড়হুদা উপজেলার দর্শনা পৌরসভার ঈশ্বরচন্দ্রপুর গ্রামের ভ্যানচালক মনিরুজ্জামানের মেয়ে মুক্তা মনি নিখোঁজ হয়। মুক্তা বেশির ভাগ সময় পাশের বাড়ির নাসির উদ্দিনের স্ত্রী পপি খাতুনের কাছেই থাকত। পপির ছেলে সাদিকের সঙ্গে খেলত সে। সন্ধ্যায় মুক্তার মা-বাবা পপিদের বাড়ি যায় মেয়ের খোঁজে। পপি তখন জানায়, মুক্তা বিকেলেই বাড়ির দিকে চলে গেছে। খোঁজাখুঁজি করে না পেয়ে রাতে গ্রামে মাইকিং করে মুক্তার খোঁজ করা হয়।

তখন পপি নিজেও মুক্তাকে খুঁজতে থাকেন।

বৃহস্পতিবার সকালে বাড়ির পাশের একটি সেপটিক ট্যাংকে লাশের সন্ধান পান মুক্তার বাবা মনিরুজ্জামান। খবর দেওয়া হলে পুলিশ এসে দুপুরে লাশ উদ্ধার করে। পরে পুলিশ সন্দেহভাজনদের থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে। এ সময় গৃহবধূ পপি অসংলগ্ন কথাবার্তা বলা শুরু করেন। তিনি স্বীকার করেন যে মুক্তা তাঁর ছেলেকে মেরেছে বলে রাগের মাথায় তিনি তাকে চড়-থাপড় মারতে থাকেন। মুক্তা তখন চিৎকার শুরু করে। চিৎকার থামাতে মুক্তার গলা টিপে ধরেন পপি। তাতেই মুক্তা মারা যায়। পরে মুক্তার লাশ তিনি ঘরেই লুকিয়ে রাখেন। রাতের অন্ধকারে লাশ নিয়ে ফেলে দেন সেপটিক ট্যাংকে। বিষয়টি তিনি বাড়ির কাউকে জানতে দেননি।

পুলিশের কাছে হত্যার কথা স্বীকার করার পর বৃহস্পতিবার রাতেই পপিকে আসামি করে দামুড়হুদা থানায় মামলা করেন নিহত মুক্তার মা শাহনাজ বেগম। পরে গতকাল শুক্রবার সকালে পুলিশ পপিকে চুয়াডাঙ্গা আদালতে পাঠায়। বিকেলে পপি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।


মন্তব্য