kalerkantho


সালথায় আ. লীগে ফের সংঘর্ষ, আহত ৩০

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর   

৪ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



ফরিদপুরের সালথা উপজেলার গট্টি ইউনিয়নসহ ছয়টি গ্রামে গতকাল শুক্রবার সকালে আওয়ামী লীগের দুই পক্ষে পাঁচ ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষ হয়েছে।

সকাল ৮টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত সংঘর্ষে উভয় পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে ৩০ জন আহত হয়। আহতদের নগরকান্দা ও ফরিদপুরের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশ উভয় পক্ষের সাতজনকে আটক করেছে। এর আগে বৃহস্পতিবার এ এলাকায় সংঘর্ষ হয়েছে। এ ঘটনা নিয়ে গতকাল শুক্রবার দৈনিক কালের কণ্ঠ ‘সালথা আওয়ামী লীগে উত্তেজনা, হামলা বাড়ি ভাঙচুর আহত ৫’ শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশ করে।

এদিকে গতকাল সংঘর্ষের খবর পেয়ে সালথা থানার পুলিশ ও ফরিদপুর থেকে অতিরিক্ত পুলিশ এবং র‌্যাব ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পুলিশ শটগানের ৮৯ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ও পাঁচটি টিয়ার শেল ছুড়ে উত্তেজিত জনতাকে ছত্রভঙ্গ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

এলাকাবাসী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গতকাল সকাল ৮টার দিকে গট্টি ইউনিয়নের মেম্বারগট্টি গ্রামে মোনায়েম কাজীর লোকজনের সঙ্গে সোলায়মান কাজীর সমর্থকরা প্রথমে কথা-কাটাকাটি ও পরে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। মেম্বারগট্টি গ্রামের সংঘর্ষের খবর ছড়িয়ে পড়লে একই ইউনিয়নের সিংহপ্রতাপ, বালিয়াগট্টি, নারায়ণপুর, ভাবুকদিয়া ও দরগাগট্টি গ্রামে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে।

গট্টি ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ফজলুল মতিন বাদশা জানান, ছয় গ্রামের প্রায় তিন হাজার সমর্থক দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।

তারা মুখোমুখি অবস্থান নিয়ে একে অন্যকে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে।

সালথা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ফারুকুজ্জামান ফকির মিয়া জানান, সংসদ উপনেতার ছেলে আয়মন আকবর চৌধুরীর সমর্থকদের ওপর বিরোধী পক্ষের কয়েক শ লোক দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে হামলা চালিয়ে বাড়িঘর ভাঙচুর করে। হামলাকারীদের মধ্যে বেশির ভাগই সালথা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি দেলোয়ার হোসেনের সমর্থক।

অভিযোগ অস্বীকার করে সালথা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘আমরা দীর্ঘদিন ধরে আয়মন আকবর চৌধুরীর মদদপুষ্ট মামা বাহিনীর নির্যাতনের শিকার। ’

সালথা থানার ওসি আমিনুল ইসলাম জানান, দুই পক্ষের সংঘর্ষ থামাতে পুলিশ শটগানের ৮৯ রাউন্ড গুলি ও পাঁচটি টিয়ার শেল ছুড়ে উত্তেজিত লোকজনকে ছত্রভঙ্গ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ এলাকায় পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।


মন্তব্য