kalerkantho


শিক্ষকের পিটুনিতে হাতের জোড়া ছুটে গেল ছাত্রীর

রাজবাড়ী প্রতিনিধি   

৪ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



রাজবাড়ীতে অঙ্ক ভুল হওয়ায় ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী জাহানারা খাতুনকে (১৩) শ্রেণিকক্ষে বেধড়ক পিটিয়েছেন এক শিক্ষক। এতে জাহানারার বাঁ হাত ও কাঁধের জোড়া (জয়েন্ট) ছুটে গেছে। তাকে রাজবাড়ী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ওই শিক্ষক যে ডাস্টার দিয়ে পিটিয়েছেন, সেটি ভেঙে গেছে। ঘটনাটি ঘটে গত বৃহস্পতিবার দুপুরে রামকান্তপুর ইউনিয়নের বেথুলিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে।

জাহানারা বেথুলিয়া গ্রামের দরিদ্র রিকশাভ্যানচালক আক্কাস খাঁর মেয়ে। গতকাল শুক্রবার দুপুরে রাজবাড়ী হাসপাতালের জরুরি বিভাগে আনা হয় জাহানারাকে। এ সময় ব্যথায় চিত্কার করে কাঁদছিল সে। জাহানারা জানায়, দুপুরে ষষ্ঠ শ্রেণিতে অঙ্কের ক্লাস নিতে আসেন (নন-এমপিওভুক্ত) সহকারী শিক্ষক ওহিদুল ইসলাম। তিনি ছাত্রীদের একটি অঙ্ক করতে বলেন। অঙ্ক ভুল হওয়ায় তিনি স্কেল দিয়ে শিক্ষার্থী চম্পা চামেলী দাসের হাতে বেধড়ক পেটান।

চম্পা ব্যথায় চিত্কার করে। পরে ওহিদুল জাহানারার খাতা দেখেন এবং তার অঙ্কটি ভুল হওয়ায় তিনি ডাস্টার দিয়ে বাঁ পাশের কাঁধে একের পর এক আঘাত করেন। এতে ডাস্টারটি ভেঙে যায়। সে প্রচণ্ড ব্যথায় চিত্কার শুরু করে। বিদ্যালয়ের অন্য শিক্ষকরা এসে তাকে উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা দেন। পরে তাকে বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। তবে তার ব্যথা না কমায় পরিবারের সদস্যরা বিকেলে তাকে রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে এনে ভর্তি করে। একটু ভালো অনুভব করায় রাত ৯টার দিকে তাকে বাড়িতে নেওয়া হয়। বাড়িতে নেওয়ার পরপরই সে ব্যথায় কাঁদতে থাকে। গতকাল তাকে আবার রাজবাড়ী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক উম্মে জোহরা জানান, এক্স-রে রিপোর্টে দেখা গেছে যে মেয়েটির বাঁ হাত ও কাঁধের সংযোগ ছুটে গেছে। শিশুটির ওই স্থানে শক্ত কিছু দিয়ে অনেক বেশি আঘাত করায় ঘটনাটি ঘটেছে। কিছুদিন হাসপাতালে থেকে চিকিৎসাসেবা নিতে হবে।

জাহানারার সঙ্গে আসা তার খালা সকিনা বেগম বলেন, ঘটনার পর থেকেই শিশু জাহানারা ব্যথায় কুঁকড়ে আছে। হাত নাড়াতে পারছে না। খাবার খেতে গেলেও প্রচণ্ড ব্যথা পায়। সকিনা আরো বলেন, শিশুরা পড়া না পারলে তাদের এমন শাসন করা উচিত না যাতে তাদের হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়। হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা আইনজীবী সুদীপ্ত গুহ আশীষ জাহানারাকে দেখে বলেন, ‘অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে। ’

বেথুলিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মীর মো. শাহজাহান জানান, গতকাল সকালে তিনি জাহানারার বাড়িতে গিয়ে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য অর্থ সহায়তা দেন এবং সেরে উঠতে আরো ওষুধের প্রয়োজন হলে খরচ দেওয়ার কথা বলেন।


মন্তব্য