kalerkantho

কাঁদছে বায়েজিদ

মাগুরা প্রতিনিধি   

৪ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



কাঁদছে বায়েজিদ

খালিয়া গ্রামে মায়ের কোলে বসে কাঁদছে শিশু বায়েজিদ। ছবি : কালের কণ্ঠ

আগামী জুনে তার বয়স পাঁচ বছর হবে। অথচ তাকে দেখতে এখনই বৃদ্ধের মতো লাগে। প্রজেরিয়া নামে বিশেষ একধরনের রোগে আক্রান্ত মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার খালিয়া গ্রামের বায়েজিদের শারীরিক অবস্থার ক্রমেই অবনতি হচ্ছে। বেশ কিছুদিন ধরে সে টানা জ্বর ও শ্বাসকষ্টে ভুগছে। পাশাপাশি মূত্রনালিতেও প্রদাহ হচ্ছে। তা ছাড়া খাবারে অরুচি থাকায় শারীরিকভাবে সে দুর্বল হয়ে পড়ছে।

বায়েজিদের বাবা লাবলু শিকদার জানান, প্রায় এক মাস ধরে বায়েজিদ অসুস্থ। ঠিকমতো প্রস্রাব হয় না। মূত্রনালিতে যন্ত্রণা হওয়ায় সব সময় কাঁদছে সে। খাওয়াদাওয়া প্রায় ছেড়েই দিয়েছে। মাগুরা সদর হাসপাতালের চিকিৎসকরা তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নিয়ে যেতে বলেছেন।

কিন্তু সামান্য জমিতে কৃষিকাজ করে তার সংসার চলে। সারা দিন বায়েজিদকে নিয়ে ব্যস্ত থাকায় এখন তিনি কাজও ঠিকমতো করতে পারছেন না। তা ছাড়া তাঁর আর্থিক অবস্থাও ভালো নয়। এ অবস্থায় সরকারি-বেসরকারি সহযোগিতা ছাড়া বায়েজিদের চিকিৎসা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

মাগুরা সদর হাসপাতালের সার্জারি বিভাগের চিকিৎসক ডা. শফিউর রহমান বলেন, বায়েজিদের মূত্রনালিতে বেশ জটিলতা দেখা দিয়েছে। যাকে চিকিৎসার ভাষায় প্রিরিপিউস বলা হয়। তার শরীরে আরো অনেক জটিল উপসর্গ বিদ্যমান। এ অবস্থায় স্থানীয়ভাবে অস্ত্রোপচার বেশ ঝুঁকিপূর্ণ। সে কারণে তাকে ঢাকায় নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

প্রসঙ্গত, মাতৃগর্ভ থেকেই নানা সমস্যা নিয়ে জন্ম নেয় বায়েজিদ। জন্মের মাত্র চার বছরেই তার মুখাবয়ব বয়স্ক মানুষের মতো দেখায়। এ ছাড়া বয়স্ক মানুষের মতো তার শরীরের চামড়া ঝুলে যায়। চিকিৎসকরা এটিকে ক্রমোসমজনিত সমস্যা উল্লেখ করে প্রজেরিয়া নামে একধরনের অসুখকে কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন। গত বছরের জুনে বায়েজিদকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানকার ব্যবস্থাপত্র অনুযায়ী ওষুধ খেয়ে বেশ কিছুদিন মোটামুটি সুস্থ ছিল সে। কিন্তু আর্থিক অনটনের কারণে পরে আর তাকে ঢাকায় নেওয়া সম্ভব হয়নি।


মন্তব্য