kalerkantho


জগন্নাথপুর উপজেলা পরিষদ নির্বাচন সোমবার

আলোচনায় স্বতন্ত্র প্রার্থী

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি   

৪ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



আলোচনায় স্বতন্ত্র প্রার্থী

লন্ডনপ্রবাসী অধ্যুষিত সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলা পরিষদের নির্বাচন আগামী সোমবার। নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে দুই বড় রাজনৈতিক দলের প্রার্থী থাকলেও ভোটারদের আলোচনায় আছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী।

নির্বাচনী প্রচারে স্বতন্ত্রতা, কৃষিবান্ধব কর্মসূচি ইত্যাদি কারণে আলোচনায় তিনি।

চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের প্রার্থী বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান মো. আকমল হোসেন। বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মো. আতাউর রহমান। আর দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাংবাদিক মুক্তাদীর আহমদ মুক্তা। স্বল্প সময়ে নির্বাচন কমিশন নির্বাচনের আয়োজন করায় এবার প্রবাসীরা প্রার্থী হওয়ার সুযোগ পাননি।

সূত্র জানায়, গত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে মুক্তা ভাইস চেয়ারম্যান পদে বিপুল ভোটে নির্বাচিত হয়েছিলেন। একটি আঞ্চলিক দৈনিকের বার্তা সম্পাদক ও জনপ্রিয় অনলাইন বিডিনিউজটোয়েন্টিফোরডটকমের সিলেট বিভাগীয় প্রতিনিধি থাকা অবস্থায় গত নির্বাচন করেছিলেন তিনি। নির্বাচনী মাঠে তাঁর গঠনমূলক বক্তব্য, বিজ্ঞান ও প্রগতিমুখী চিন্তা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কৃষি নিয়ে বিশেষ ভাবনার কারণে নানা বয়সের ভোটারদের কাছে তিনি জনপ্রিয়। গত বছর হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধ ভেঙে যাওয়ার উপক্রমের সময় উপজেলা সমন্বয় কমিটির সভা চলছিল।

তখন তিনি সভা বন্ধ করে সংশ্লিষ্ট সবাইকে জরুরি ভিত্তিতে বাঁধ রক্ষার কাজে যাওয়ার প্রস্তাব করেন। তাঁর এ প্রস্তাবে সভা স্থগিত করা হলে তিনি কৃষক ও জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে বাঁধে ছুটে যান। অবশ্য নলুয়ার হাওর ও মইয়ার হাওরের বাঁধে তিনি কৃষকদের সঙ্গে রাত-দিন কাজ করলেও বাঁধটি রক্ষা করা সম্ভব হয়নি। পরে বিভিন্ন ফোরামে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়ে আসছেন তিনি। এসব কারণে উপজেলার সাধারণ মানুষ তাঁর প্রতি আকৃষ্ট হয়। এবার নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে তাঁকে বিশেষ চোখে দেখছে ভোটাররা।

সূত্র মতে, এবারও নির্বাচনী প্রচার রেখে মুক্তা বিভিন্ন হাওরে গিয়ে বাঁধের কাজে অংশ নিচ্ছেন। বাঁধের কাজে যাতে কেউ দুর্নীতি করতে না পারে সেদিকে কৃষকদের সজাগ থাকার আহ্বান জানান। তা ছাড়া আওয়ামী লীগ-বিএনপি মনোনীত প্রার্থী একই অঞ্চলের হওয়ায় অন্য অঞ্চলের (পশ্চিম-দক্ষিণাঞ্চল) প্রার্থী হিসেবে বিশেষ সুবিধায় আছেন মুক্তা। তবে নির্বাচন বিশ্লেষকরা বলছেন, আওয়ামী লীগ-বিএনপির প্রার্থীও শক্তিশালী। শেষ পর্যন্ত ত্রিমুখী লড়াই হতে পারে বলে তাঁদের ধারণা।

উপজেলার পাড়ারগাঁও গ্রামের বাসিন্দা সাইদুল ইসলাম বলেন, ‘এলাকার তরুণ প্রজন্মের সবাই মুক্তাদীর আহমদের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ। মুরব্বিসহ সর্বস্তরের জনতা তাঁকে স্নেহ ও ভালোবাসেন। একজন সৎ, বিনয়ী ও যোগ্য প্রার্থী হিসেবে আমরা তাঁর সঙ্গে প্রচারে নেমেছি। তিনি নির্বাচনী মাঠে মূল লড়াইয়ে আছেন। ’

সাদিপুর গ্রামের মুরব্বি আব্দুল হান্নান বলেন, ‘একজন যোগ্য জনপ্রতিনিধি হিসেবে আমরা মুক্তাদীর আহমদকে বেছে নিয়েছি। গত সাত বছর আমরা তাঁর কাছ থেকে সাধ্যমতো সেবা-সহযোগিতা পেয়েছি। তিনি জনগণকে আপন করে নিয়েছেন। গত বছর ফসল রক্ষা বাঁধ ভাঙার সময় অন্য নেতারা হাওরের কৃষকদের থেকে দূরে ছিলেন, মুক্তা তখন রাত-দিন কৃষকের পাশে থেকে বাঁধে কাজ করেছেন। আমরা তাঁর এই অবদান ভুলতে পারব না। ’

জগদীশপুর গ্রামের মুরব্বি আব্দুল জব্বার বলেন, ‘উচ্চশিক্ষিত, ভদ্র, বিনয়ী ও ভালো বক্তা হিসেবে পুরো উপজেলার মানুষ তরুণ প্রার্থী মুক্তাকে ভালোবাসে। একজন কৃষকবন্ধু ও প্রকৃত জনদরদি নেতা হিসেবে আমরা তাঁকে চেয়ারম্যান পদে সমর্থন দিয়েছি। তবে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির প্রার্থীও শক্তিশালী অবস্থানে আছেন। ’

মুক্তাদীর আহমদ বলেন, ‘জনতাই আমার শক্তি। জনতার ভালোবাসা ও আস্থায় প্রার্থী হয়েছি। সর্বস্তরের জনতা যেভাবে আমাকে হৃদয় থেকে গ্রহণ করেছে, তাতে আমি আনন্দিত, আশাবাদী। জনগণ ব্যালটের মাধ্যমে সব অন্যায়-অবিচারের জবাব দেবে। ’

আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী মো. আকমল হোসেন বলেন, ‘জগন্নাথপুর ঐতিহাসিকভাবে আওয়ামী লীগ অধ্যুষিত। প্রয়াত জাতীয় নেতা আব্দুস সামাদ আজাদ তৃণমূল পর্যন্ত বিস্তৃত করে গেছেন এই সংগঠন। সব নির্বাচনেই নৌকাকেই সমর্থন করে উপজেলার মানুষ। এ নির্বাচনেও নৌকার পক্ষেই সমর্থন দেবে তারা। ’

বিএনপির প্রার্থী মো. আতাউর রহমান বলেন, কারচুপি না হলে এবার তিনিই বিজয়ী হবেন। জনগণ নানা কারণে পরিবর্তনের পক্ষেই রায় দেবে।


মন্তব্য