kalerkantho


এবার সেলাই মেশিন পেলেন নিঃস্ব নারী

দোহার-নবাবগঞ্জ (ঢাকা) প্রতিনিধি   

৩ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



বেকার যুবককে ভ্যান প্রদান, অসহায় পরিবারের এক মেয়েকে নিজ বাসায় এনে বিয়ের ব্যবস্থা করা, দরিদ্র শিক্ষার্থীকে ফরম পূরণের ব্যবস্থা করে দেওয়া, প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধার মেয়েকে চাকরি দিয়ে পড়ালেখার সুযোগ করে দেওয়া, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দরিদ্র শিক্ষার্থীকে আর্থিক সহযোগিতাসহ জনহিতকর নানা কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে তিনি। আর এসব কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে তিনি ইতিমধ্যে দোহার উপজেলার সাধারণ মানুষের ভালোবাসা আদায় করে নিয়েছেন।

সেই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কে এম আল আমিনের কাছ থেকে এবার সেলাই মেশিন পেলেন আগুনে সর্বস্ব হারানো এক নারী।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গত ২৩ ফেব্রুয়ারি দোহারের পূর্ব লটাখোলা এলাকায় অজয় পালের বাড়িতে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ভাড়াটিয়া হিসেবে থাকা সাতটি পরিবারের সব কিছু পুড়ে ছাই হয়ে যায়। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় মিরা পাল নামের এক নারী। দীর্ঘদিন ধরে লটাখোলার টিনশেড ওই বাড়ির একটি কক্ষে ছোট তিন ছেলেকে নিয়ে ভাড়া থাকতেন মিরা। স্বামী সঞ্জয় পাল বেঁচে থাকলেও খোঁজ রাখেন না স্ত্রী-সন্তানদের। কিডনি সমস্যাজনিত শারীরিক অসুস্থতা রয়েছে মিরার। সে কারণে ভারী কাজ করতে পারেন না। তার পরও কঠিন সংগ্রাম করতে হচ্ছে তাঁকে। ধারদেনা করে ঘরে একটি সেলাই মেশিন কিনেছিলেন।

সেলাই কাজ করে কোনো রকমে তাঁর সংসার চলত। কিন্তু বৃহস্পতিবারের আগুনে সেই সেলাই মেশিনটিও পুড়ে যায়। পুড়ে ছাই হয়ে যায় সন্তানদের বই-খাতাসহ সব কিছু।

সব হারানো মিরা এ অবস্থায় এলাকার লোকমুখে শুনে ইউএনওর কার্যালয়ে গিয়ে উপস্থিত হন। ইউএনওকে বিষয়টি খুলে বললে তাত্ক্ষণিকভাবে তিনি উপজেলা প্রশাসনের কয়েকজন কর্মকর্তাকে নিজের কার্যালয়ে ডেকে কথা বলেন। পরে সবাই মিলে টাকা তুলে তাঁকে একটি সেলাই মেশিন কিনে দেন। একই সঙ্গে তাঁর সন্তানদের জন্য বই-খাতারও ব্যবস্থা করেন।

মিরা পাল বলেন, ‘ওই স্যার আমার কাছে দেবতা। আগুনে পুড়ার পর চাইল পাইছি, টেকা পাইছি কিন্তু এইগুলা তো সাত দিন পরই শেষ হইয়া যাইব। তখন কী করুম। পরের কাছে কয় দিন হাত পাতুম। স্যারে যে আমারে সেলাই মেশিন কিনে দিছে, তা দিয়া কাজ কইরা পোলাগো নিয়া খাইয়া অন্তত বাঁচবার পারুম। ভগবান যেন হের মঙ্গল করেন। ’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কে এম আল আমিন বলেন, “ওই নারী যখন আমার অফিসে আসেন তখন আমি তাঁকে বিনয়ের সঙ্গে বলেছিলাম, সরকারি সাহায্য হিসেবে ৩০ কেজি চাল ও এক হাজার করে টাকা আসবে। এলে আমি আমি পৌঁছে দেব। এই কথা শুনে তিনি বলেন, ‘চাল ও টাকা দিয়ে কী করব স্যার। ’ তখন তাঁর কথা মনোযোগ দিয়ে শুনলাম। দেখলাম সাহায্য নিয়ে আজীবন বেঁচে থাকা যায় না, ওই নারীর মধ্যে স্বাবলম্বী হওয়ার প্রবল ইচ্ছা রয়েছে। সব জেনে আমি তাত্ক্ষণিকভাবে অন্য অফিসারদের আর্থিক সহায়তায় তাঁকে একটি সেলাই মেশিন কিনে দিলাম। সঙ্গে তাঁর সন্তানদের জন্য বইয়েরও ব্যবস্থা করে দিয়েছি। ”


মন্তব্য