kalerkantho


মেয়ের মুখ দেখা হলো না শাহিনুরের

জয়পুরহাট প্রতিনিধি   

৩ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



পাঁচ ভাই আর চার বোনের মধ্যে সবার ছোট শাহিনুর রহমান (৩২) ছোটবেলা থেকেই বাসশ্রমিকের কাজ করতেন। স্ত্রী আর দুই সন্তান নিয়ে তিনি জয়পুরহাটের পাঁচবিবি পৌর সদরের পশ্চিম বালিঘাটা মহল্লায় থাকতেন।

ঢাকা কোচ এসআই ট্রাভেলসে হেলপার হিসেবে কাজ করতেন। গত সোমবার রাতে বাড়ি থেকে এসআই ট্রাভেলসে করে ঢাকা যান। বুধবার সকালেও স্ত্রী মুর্শিদার সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা হয় তাঁর। বৃহস্পতিবার বাড়ি ফেরার কথা জানিয়ে ফোনে অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে সাবধানে থাকতে বলেন তিনি। কিন্তু এর আগে বুধবারই ঢাকায় পুলিশের গুলিতে শাহিনুরের মৃত্যুর খবর আসে পরিবারের কাছে। এ খবরে পরিবার তথা এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে।

বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টার দিকে শাহিনুরের বাড়িতে গিয়ে দেখা গেছে মানুষের প্রচণ্ড ভিড়। স্ত্রী মুর্শিদা শোকে স্তব্ধ হয়ে আর কাঁদতেও পারছেন না। শাহিনুরের স্মৃতি মনে করে শুধু বিলাপ করছেন তিনি।

দুই ছেলের বাবা শাহিনুরের শখ ছিল কন্যাসন্তানের। অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীর আলট্রাসনোগ্রাম করে ডাক্তার সেই বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এ খবর জানার পর শাহিনুর ভীষণ খুশি ছিলেন। তাঁর অনেক স্বপ্নও ছিল কন্যাসন্তানকে নিয়ে।

নিহতের স্ত্রী মুর্শিদা জানান, অভাব-অনটনের কারণে শাহিনুর পড়ালেখা করতে না পারলেও ওর ইচ্ছে ছিল সন্তানদের শিক্ষিত করার। এ জন্য শত কষ্টের মাঝেও বড় সন্তানকে স্থানীয় বেসরকারি একটি ভালো বিদ্যালয়ে ভর্তি করেন। এসএসসি পাসের পর ছেলেকে ভালো কলেজে পড়ানোরও ইচ্ছে ছিল তাঁর। মুর্শিদা জানান, তাঁর স্বামী কোনো রাজনীতি করতেন না। পেটের দায়ে বাসে হেলপারি করতেন। আর সময় পেলেই তাঁদের সময় দিতে বাড়ি ছুটে আসতেন। গত সোমবার তিনি ঢাকা যেতে চাননি দাবি করে মুর্শিদা জানান, অন্য হেলপার না যাওয়ায় বাধ্য হয়ে শাহিনুরকে ঢাকা যেতে হয়েছে।

ষাটোর্ধ্ব বাবা ছায়ের উদ্দিন জানান, তাঁর জমাজমি নেই। শাহিনুরসহ তাঁর পাঁচ ছেলের সবাই মেহনত করে সংসার চালায়। শাহিন বাসশ্রমিকের কাজ করলেও অন্য ছেলেরা সবাই দিনমজুর। সহায়-সম্বল বলতে কিছুই নেই তাঁদের। বাড়ির দেড় শতক জায়গায় টিন দিয়ে তৈরি করা ঘরই শাহিনুরের একমাত্র সম্বল। শাহিনুরই ছিল পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। তাঁর মৃত্যুতে এখন পুরো পরিবারকে পথে বসতে হবে।

শাহিনুরের বড় ভাই আবদুল মান্নান জানান, স্থানীয় শ্রমিক নেতাদের মাধ্যমে শাহিনুরের মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর তাঁর ছোট ভাই খালেক ও শাহিনুরের ছেলে মুসা মরদেহ আনতে ঢাকায় গেছে।


মন্তব্য