kalerkantho


গাইবান্ধায় স্ত্রী-মেয়েকে গলা টিপে হত্যা

পাঁচ জেলায় আরো এক খুন, চার লাশ

প্রিয় দেশ ডেস্ক   

৩ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



গাইবান্ধায় স্ত্রী ও মেয়েকে গলাটিপে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় তাঁকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রংপুরের গঙ্গাচড়ায় সালিস বৈঠকে একজনকে পিটিয়ে মারা হয়েছে। চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদায় প্রতিবেশীর সেপটিক ট্যাংকে নিখোঁজ শিশুর লাশ পাওয়া গেছে। অন্যদিকে কুমিল্লার মনোহরগঞ্জে নিখোঁজ প্রবাসী, রাজবাড়ীর পাংশায় স্কুলছাত্রী ও সিরাজগঞ্জের তাড়াশে কিশোরীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বিস্তারিত আমাদের প্রতিনিধিদের পাঠানো খবরে :

গাইবান্ধা : পারিবারিক কলহের জেরে স্ত্রী নাজমা বেগম ও ছয় মাসের মেয়ে শাম্মিকে গলা টিপে হত্যা করেছেন সামিউল ইসলাম। ঘটনাটি ঘটেছে গত বুধবার রাতে সদর উপজেলার খামার বল্লমঝাড় গ্রামে। এ ব্যাপারে নাজমার ভাই শাহাদত হোসেন ঘাতক সামিউলসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। পুলিশ গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে সামিউলকে গ্রেপ্তার করেছে। নাজমা সামিউলের প্রথম স্ত্রী। পরে তিনি আরো দুটি বিয়ে করেন।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী নাজমা-সামিউল দম্পতির তৃতীয় শ্রেণি পড়ুয়া ছেলে নাজমুল পুলিশকে জানায়, রাতে মায়ের গোঙ্গানি শুনে তার ঘুম ভেঙে যায়। এ সময় সে দেখে, বাবা মার গলাটিপে ধরে আছেন। বোন চিৎকার শুরু করলে বাবা তার গলাও টিপে ধরেন। একপর্যায়ে দুজনই (মা-বোন) মারা যায়। পরে বাইরে থেকে একজন এসে বাবার পরামর্শে বাবা ও মাকে পিঠমোড়া করে বেঁধে রেখে চলে যায়। এ সময় ভয়ে লেপের নিচে ঘুমের ভান করে পড়ে ছিল সে। এ ব্যাপারে সদর থানার ওসি এ কে এম মেহেদী হাসান বলেন, অন্য কেউ খুন করে গেছে প্রমাণের চেষ্টা করতে হাত বাঁধার নাটক সাজান সামিউল।

চুয়াডাঙ্গা : প্রতিবেশী নাসির উদ্দিনের বাড়ির সেপটিক ট্যাংকে নিখোঁজ শিশু মুক্তার (৩) লাশ পাওয়া গেছে। খবর পেয়ে দামুড়হুদা থানা পুলিশ গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে লাশটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে। লাশের গলায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। মুক্তা দামুড়হুদার দর্শনা পৌর এলাকার ঈশ্বরচন্দ্রপুরের মনিরুজ্জামান ওরফে মিস্টারের মেয়ে। আগের দিন বুধবার বিকেলে বাড়ির পাশের মাঠে খেলতে গিয়ে সে নিখোঁজ হয়েছিল। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য শিশুটির বাবাসহ দুজনকে আটক করে থানায় নিয়ে গেছে পুলিশ। দর্শনা পুলিশ তদন্তকেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শোনিত কুমার গায়েন জানান, ঘাতকরা তাকে শ্বাসরোধে হত্যার পর সেপটিক ট্যাংকে ফেলে দেয় বলে ধারণা করা হচ্ছে।

রংপুর : সালিস বৈঠকের শেষ মুহূর্তে লাল মিয়াকে (৫৪) পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনাটি ঘটেছে গত বুধবার রাতে গঙ্গাচড়া উপজেলার উত্তর কোলকোন্দ গ্রামে। কোলকোন্দ ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যানের নির্দেশে তাঁকে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে ইউপি চেয়ারম্যান সোহবার আলী রাজু অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। হত্যাকাণ্ডের শিকার লাল মিয়া একই ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য হোদা মিয়ার ছোট ভাই। এ ঘটনায় লাল মিয়ার ছেলে লাবলু মিয়া গতকাল বৃহস্পতিবার থানায় মামলা করেছেন। এলাকাবাসী, প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নারীঘটিত বিষয়ের জেরে উত্তর কোলকোন্দ গ্রামের বাসিন্দা ইউপি সদস্য হোদা মিয়ার ছেলে মিল্টনের সঙ্গে পাশের আলেকিশামত গ্রামের অপি মিয়ার ছেলে সাফিনুরের কয়েক দিন আগে মারামারি হয়। বিষয়টি মীমাংসার জন্য বুধবার রাতে মহুবারের বাড়িতে ইউপি চেয়ারম্যান সোহবার আলীর নেতৃত্বে সালিস বৈঠক বসে। বৈঠকে উভয় পক্ষের ছেলেকে শাসানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠকটি শেষ হওয়ার মুহূর্তে অতর্কিতে অপির লোকজন লাল মিয়াকে মারপিট করে। তাঁকে উদ্ধার করে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তিনি মারা যান।

সিরাজগঞ্জ : তাড়াশ উপজেলায় কিশোরী রুমা খাতুনের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে মহেষরৌহালী গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। রুমা একই গ্রামের মেছের আলীর মেয়ে। পারিবারিক কলহের জেরে সে গলায় ফাঁস নিয়ে আত্মহত্যা করেছে বলে ধারণা করছে পুলিশ।

রাজবাড়ী : রাজবাড়ীর পাংশার বাগদুলী গ্রাম থেকে এসএসসি পরীক্ষার্থী ছাত্রীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। পুলিশের ধারণা, পরিবারের সঙ্গে মনোমালিন্যের কারণে সে আত্মহত্যা করেছে। পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছে, মৃত সাকেন মিয়ার মেয়ে সুমি খাতুন (১৬) সম্প্রতি এক বান্ধবীর কাছ থেকে একটি মোবাইল ফোনসেট উপহার পায়। মোবাইল ফোনসেট থাকার বিষয়টি সহজভাবে মেনে নেননি তার মা। তিনি মেয়েকে শাসনের লক্ষ্যে বকাঝকা করেন।

কুমিল্লা (দক্ষিণ) : মনোহরগঞ্জ উপজেলায় নিখোঁজের সাত দিন পর ডাকাতিয়া নদী থেকে ওমানপ্রবাসী মো. ইয়াকুব আলীর অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গতকাল দুপুরে উপজেলা সদরের ঝলম-ডুমুরিয়া গ্রামে নদী থেকে তাঁর লাশ উদ্ধার করা হয়। ইয়াকুব উত্তর হাওলা গ্রামের মিজি বাড়ির মৃত আবদুর রশিদের ছেলে। এ ব্যাপারে হত্যা মামলার প্রস্তুতি চলছে। পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, চার মাস আগে ওমান থেকে দেশে এসেছিলেন ইয়াকুব। ২৩ ফেব্রুয়ারি বিকেলে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর তিনি নিখোঁজ হন। এ ঘটনায় তাঁর স্ত্রী শাহনাজ বেগম থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। ইয়াকুবের সন্ধান চেয়ে বিভিন্ন এলাকায় মাইকিংও করা হয়। পরে গতকাল দুপুরে ডাকাতিয়া নদীতে তাঁর লাশ পাওয়া যায়। তিনি দুই ছেলে ও তিন মেয়ের বাবা।


মন্তব্য