kalerkantho


কাশিয়ানীতে দুই পক্ষের হাঙ্গামা, ককটেলবাজি

ভোলায় সংঘর্ষে আহত ১৫

গোপালগঞ্জ ও ভোলা প্রতিনিধি   

৩ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলা সদরে গত বুধবার রাতে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ, ককটেল বিস্ফোরণ ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এতে কমপক্ষে পাঁচজন আহত হয়। মারাত্মক আহত তিনজনকে ফরিদপুর মেডিক্যালে ভর্তি করা হয়েছে। বাকিদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।

স্থানীয় জনতা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আধিপত্য বিস্তার নিয়ে কাশিয়ানী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মশিউর রহমান খানের সমর্থক মনি মৃধা ও সাবেক চেয়ারম্যান খোকন সিকদারের সমর্থক করম আলী সিকদারের লোকজনের মধ্যে বিরোধ চলছিল। এরই জের ধরে গত বুধবার রাতে রঞ্জনের চায়ের দোকানের সামনে করম আলী সিকদারের ছেলে এনামুল সিকদার ও ভাতিজা রেজাউল সিকদারকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে আহত করে মনি মৃধার লোকজন। এরপর করম সিকদারের লোকজন প্রতিপক্ষের লোকজনের ওপর হামলা চালায়। এ নিয়ে উভয় পক্ষের লোকজনের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এ সময় বিকট শব্দে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় পাঁচজন আহত হয়।

মারাত্মক আহত তুহিন খান, রেজাউল সিকদার ও এনামুল সিকদারকে প্রথমে কাশিয়ানী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পরে আহতদের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাদের ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

কাশিয়ানী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান খোকন সিকদার বলেন, ‘ঘটনার সময় আমি এলাকায় ছিলাম না। শুনেছি, কাশিয়ানী উপজেলা সদরে বিকট শব্দ হয়েছে। এটা বোমা, না ককটেল তা পুলিশ বলতে পারবে। করম সিকদার আমার সমর্থক এটা ঠিক, তবে এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার সঙ্গে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। ’

এ ব্যাপারে অপর পক্ষের নেতা কাশিয়ানী ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান মো. মশিউর রহমান খান জানান, এর একটি শান্তিপূর্ণ সমাধান দরকার। তিনি একাধিকবার চেষ্টা করেও এলাকার এ দ্বন্দ্ব মেটাতে পারেননি।

কাশিয়ানী থানার ওসি আলী নুর হোসেন বলেন, বাজার চান্দিনায় বসা ও এলাকায় আধিপত্য নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এখন পরিস্থিতি শান্ত। তিনি বলেন, ‘কোনো ককটেল বিস্ফোরণ হয়নি, তবে পটকা ফোটার শব্দ শুনেছি। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে। ’

এদিকে ভোলায় জমির বিরোধ নিয়ে বৃহস্পতিবার সকালে দুই পক্ষের সংঘর্ষে নারীসহ কমপক্ষে ১৫ জন আহত হয়েছে। তাদের মধ্যে গুরুতর আহত ৯ জনকে ভোলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, ভোলা সদর উপজেলার বাপ্তা ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডে (ইলিশা বাসস্ট্যান্ড) সংলগ্ন ২৬ শতাংশ জমি নিয়ে ছিডু মাঝি ও আলাউদ্দিন গংদের মধ্যে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে উভয় গ্রুপের মধ্যে একাধিকবার সালিস বৈঠকও হয়েছিল। স্থানীয় প্রভাবশালী আলাউদ্দিন পক দুই দিন ধরে ওই বিরোধীয় জমিতে ঘর তোলার চেষ্টা করেন। এতে অন্য পক্ষ থানা পুলিশের সহায়তা নিয়ে ঘর তোলার তৎপরতা বন্ধ করে দেয়। এর জের ধরে বৃহস্পতিবার সকালে উভয় পক্ষের লোকজন লাঠিসোঁটা নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষে নারীসহ উভয় পক্ষের কমপক্ষে ১৫ জন আহত হয়।


মন্তব্য