kalerkantho


ফরিদপুর হাসপাতালে চিকিৎসককে মারধর

বুকে কালো ব্যাজ মামলা, গ্রেপ্তার ২

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর   

৩ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসককে মারধরের প্রতিবাদে ওই হাসপাতালের চিকিৎসক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা গতকাল বৃহস্পতিবার কালো ব্যাজ ধারণ করেন। এ ঘটনায় কোতোয়ালি থানায় মামলা করা হলে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এদিকে ওই খবর পেয়ে ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক হাসপাতাল পরিদর্শন করে ঘটনার সুষ্ঠু বিচারের আশ্বাস দেন।

এর আগে গত বুধবার সন্ধ্যায় হাসপাতালে শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ আবদুর রাজ্জাককে রোগীর স্বজনরা মারধর করে। আবদুর রাজ্জাককে ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আর ওই শিশু সুস্থ হয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে বাড়ি ফিরেছে।

হাসপাতালের চিকিৎসক ও কর্মচারীরা জানান, বুধবার সন্ধ্যায় শহরের রথখোলা এলাকার ডায়রিয়ায় আক্রান্ত পাঁচ বছরের শিশু তানভীর হাসপাতালে ভর্তি হয়। একটু পর চিকিৎসক আব্দুর রাজ্জাক তাকে দেখতে যান। এ সময় স্বজনরা ওই শিশুকে ঘিরে দাঁড়িয়ে ছিলেন। চিকিৎসক রাজ্জাক তাদের জায়গা করে দিতে অনুরোধ জানালে স্বজনদের সঙ্গে তাঁর কথা-কাটাকাটি হয়। এর জেরে ওই রোগীর কয়েকজন স্বজন চিকিৎসক রাজ্জাককে মারধর করে।

পরে কর্মচারীরা এসে তাঁকে উদ্ধার করেন।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ও সিভিল সার্জন অরুণকান্তি বিশ্বাস জানান, আহত ওই চিকিৎসককে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় অজ্ঞাতপরিচয় ৮-১০ জনকে আসামি করে ফরিদপুরের কোতোয়ালি থানায় মামলা করা হয়েছে।

তা ছাড়া এ ঘটনার প্রতিবাদে হাসপাতালের চিকিৎসক, কর্মকর্তা-কর্মচারীরা গতকাল সকাল থেকে কালো ব্যাজ ধারণ করে। বিষয়টি জানতে পেরে ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক বেগম উম্মে সালমা তানজিয়া গতকাল হাসপাতাল পরিদর্শন করে এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।

ফরিদপুরের কোতোয়ালি থানার এসআই কাজী মাসুদ রানা জানান, ওই রাতেই ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে ওই শিশুর মামা আব্দুর রহিম ও সোহাগ খানকে গ্রেপ্তার করা হয়। বৃহস্পতিবার তাদের আদালতের নির্দেশে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত অন্যদেরও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

 


মন্তব্য