kalerkantho


সালথা আওয়ামী লীগে উত্তেজনা

হামলা বাড়ি ভাঙচুর, আহত ৫

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর   

৩ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



ফরিদপুরের সালথা উপজেলা আওয়ামী লীগের দুই পক্ষে উত্তেজনা চলছে। এর জেরে গত বুধবার সকালে সালথা উপজেলার গট্টি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আবু জাফর মোল্লার বাড়ির আসবাব ও তৈজসপত্র ভাঙচুর করা হয়েছে। জাফর সালথা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. ওয়াহিদুজ্জামানের সমর্থক।

এ ছাড়া বুধবার দুপুরে ফরিদপুর শহরের গোয়ালচামট এক নম্বর সড়কে অবস্থিত ওয়াহিদুজ্জামানের বাড়িতে চোরাগোপ্তা হামলা হয়েছে। চার-পাঁচজন যুবক ওই বাড়ির ভাড়াটিয়ার বিভিন্ন মালপত্র ভাঙচুর এবং চেয়ারম্যানের চাচাতো ভাইয়ের মালিকানার একটি নোয়া মাইক্রোবাসের কাচ ভাঙচুর করে পালিয়ে যায়।

ভুক্তভোগীরা জানায়, গত উপজেলা নির্বাচনের পর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি দেলোয়ার হোসেনের সঙ্গে চেয়ারম্যান মো. ওয়াহিদুজ্জামানের বিরোধ সৃষ্টি হয়। নির্বাচনে ওয়াহিদুজ্জামান বিএনপি এবং দেলোয়ার হোসেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী ছিলেন। একপর্যায়ে ওয়াহিদুজ্জামান সংসদ উপনেতার বড় ছেলে আয়মন আকবর চৌধুরীর হাত ধরে আওয়ামী লীগে যোগ দেন। তখন থেকে দেলোয়ারের সঙ্গে ওয়াহিদুজ্জামানের বিরোধ সৃষ্টি হয়। গত কয়েক মাসে বিরোধ তুঙ্গে ওঠে। এর জেরে উভয় পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ ঘটে।

এ ঘটনার প্রতিবাদে সালথা উপজেলার নির্যাতিত মানুষের পক্ষে ফরিদপুর শহরে সমাবেশ ও মানববন্ধন পালিত হয়েছে। গত বুধবার বিকেলে ফরিদপুর প্রেস ক্লাবের সামনে কথিত মামা বাহিনীর নির্যাতনের হাত থেকে রক্ষা পেতে দেলোয়ারের সমর্থকরা সমাবেশ ও মানববন্ধন করে। সমাবেশে যোগ দিতে আসার পথে গট্টি ইউনিয়নের জয়ঝাপ ও আগরদিয়া গ্রামের বিল্লাল মাতুব্বর ও লিটন খানসহ কয়েকজনকে বাধা প্রদান ও মারধর করা হয়। এর মধ্যে লিটন খান ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।

এদিকে দেলোয়ারের সমর্থকরা ওই দিন সকালে উপজেলা চেয়ারম্যানের সমর্থক গট্টি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আবু জাফরের বাড়িতে হামলা চালিয়ে আসবাব ও তৈজসপত্র ভাঙচুর করে। জাফর বলেন, ‘আমার লোকজন আগে কাউকে মারেনি। হামলার পর ঠেকাতে গিয়েছিল। ’

পাল্টা অভিযোগ করে বিল্লাল মাতুব্বর বলেন, ‘আমরা চিকিৎসক দেখাতে ফরিদপুরে যাচ্ছিলাম। পথে আমাদের ওপর হামলা হয়। ’

সালথা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ওয়াহিদুজ্জামান এ ঘটনার জন্য উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি দেলোয়ার হোসেনকে দায়ী করে বলেন, ‘নিজের কুকীর্তির জন্য এলাকা থেকে বিতাড়িত হয়েছেন তিনি। এখন ফরিদপুরে বসে এলাকার মানুষকে নানা কৌশলে বিভ্রান্ত করতে ষড়যন্ত্র করছেন। এদের মূল উদ্দেশ্য এলাকায় অশান্তি বাধিয়ে সংসদ উপনেতা ও তাঁর ছেলে আয়মন আকবর চৌধুরীর সুনাম নষ্ট করে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেনের সঙ্গে আমাদের ভুল-বোঝাবুঝি সৃষ্টি করা। ’

সালথা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘নির্যাতিত নেতাকর্মীদের পাশে দাঁড়ানোর কারণে ওরা আমার বিরুদ্ধে কুৎসা রটাচ্ছে। ওদের কূটকৌশলে আমাদের ওপর নির্যাতন নেমে আসে। এ অবস্থা থেকে রক্ষা পেতে আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিবাদ করে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করছি। ’

সালথা থানার ওসি আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘এলাকায় বিচ্ছিন্ন ঘটনা বন্ধ করতে আমরা সচেষ্ট রয়েছি। বুধবারের ভাঙচুরের ঘটনায় কেউ থানায় কোনো অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কেউ যদি যাচাই-বাছাই না করে সংবাদ প্রকাশ করেন, তাহলে আমাদের কী করার আছে?’


মন্তব্য