kalerkantho


প্রবাসীর স্ত্রীকে ‘নির্যাতন’ ক্ষোভে আত্মহনন

কালিয়াকৈর (গাজীপুর) প্রতিনিধি   

২ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



গাজীপুরের কালিয়াকৈরে কীটনাশক পান করে গৃহবধূ নাছরিন আক্তার আত্মহত্যা করেছেন। গতকাল বুধবার দুপুরে কীটনাশক পানের পরপরই হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ ঘটনায় কালিয়াকৈর থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে। নাছরিন আক্তার উপজেলার জালশুকা গ্রামের মালয়েশিয়াপ্রবাসী মো. মমিন উদ্দিনের স্ত্রী।

নিহতের পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার হাটুরিয়াচালা এলাকার আন্নেছ আলীর মেয়ে নাছরিন আক্তারের সঙ্গে প্রায় ১৭ বছর আগে একই উপজেলার জালশুকা গ্রামের সমন আলীর ছেলে মো. মমিন উদ্দিনের বিয়ে হয়। তাঁদের দুটি সন্তান রয়েছে। দুই বছর আগে মমিন মালেশিয়া যাওয়ার পর থেকে নাছরিনের দেবর তাঁকে নানাভাবে উত্ত্যক্ত করত। এ নিয়ে স্বামীর পরিবারের লোকজনের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ভালো যাচ্ছিল না। মাসখানেক আগেও তাঁকে মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়। এ বিষয়ে নাছরিন কালিয়াকৈর থানায় অভিযোগ জানান। এর পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করতে নাছরিনের স্বামীর বাড়ি যায়।

তখন নাছরিনের ভাশুর মুনসের আলী আর এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটবে না বলে আশ্বস্ত করলে পুলিশ নাছরিনকে স্বামীর বাড়ি রেখে চলে আসে। গত মঙ্গলবার রাতে আবারও নাছরিনকে মারধর করা হলে গতকাল বুধবার দুপুরে নাছরীন কীটনাশক পান করেন। বিষয়টি টের পেয়ে বাড়ির লোকজন নাছরিনকে মির্জাপুর কুমুদিনী হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তাঁর লাশ হাসপাতালেই পড়ে ছিল। এ ঘটনার পর নাছরিনের দেবর পালিয়েছে।

নিহতের মামা আমির হোসেন বলেন, ‘দেবরের কুপ্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় তাকে নানা সময় মারধর করা হতো। নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে সে আত্মহত্যা করেছে। এ ঘটনায় থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে। ’

কালিয়াকৈর থানার এসআই আজিম হোসেন বলেন, ‘গত মাসে নাছরিন থানায় একটি অভিযোগ দেন। অভিযোগে বলা হয়, তাঁর দেবর তাঁকে মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দেয়। পরে ওই বাড়িতে গেলে নাছরিনের ভাশুর এ ধরনের ঘটনা আর ঘটবে না বলে আশ্বাস দিলে চলে আসি। বুধবার দুপুরে শুনেছি, নাছরিন নাকি আত্মহত্যা করেছেন। বর্তমানে লাশ হাসপাতালে রয়েছে। ’

এদিকে ভোলা প্রতিনিধি জানান, ভোলায় নিজ বাড়িতে গত মঙ্গলবার রাতে এইচএসসি পরীক্ষার্থী ইশরাত জাহান ইমু গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে এর কারণ জানা যায়নি। ইমু পৌর শহরের কালীবাড়ি রোডের এমদাদুল হকের মেয়ে। সে ভোলা সরকারি ফজিলাতুননেসা মহিলা কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থী ছিল। ময়নাতদন্ত শেষে তার লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ব্যাপারে গতকাল বুধবার সকালে অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে। সদর মডেল থানার ওসি মীর খায়রুল কবির বিষয়টি

নিশ্চিত করেছেন।


মন্তব্য