kalerkantho


সাটুরিয়ায় ছাত্রীর আত্মহনন

পপি চিঠিতে লিখে গেল ‘প্রেমিক’ দায়ী

মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি   

২ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



পপি চিঠিতে লিখে গেল ‘প্রেমিক’ দায়ী

সাদিয়া পারভীন পপি

মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার হরগজ শহীদ স্মৃতি উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্রী সাদিয়া পারভীন পপি গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। পপি তার মা ও ভাইকে লেখা চিঠিতে আত্মহত্যার জন্য ‘প্রেমিক’ মো. মেহেদী হাসান রিপনকে দায়ী করেছে।

টাঙ্গাইলের পাকুটিয়া গ্রামের মৃত হোসেন খানের মেয়ে পপি। সাটুরিয়া উপজেলার নয়াপাড়া গ্রামে মামা কাদের মিয়ার বাড়িতে থেকে সে লেখাপড়া করত। গতকাল বুধবার সকাল ৮টার দিকে মামাবাড়ির একটি ঘর থেকে আট পৃষ্ঠার একটি চিঠিসহ পপির ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়।

পপির লেখা ওই চিঠি সূত্রে জানা যায়, সাটুরিয়ার চামুটিয়া গ্রামের মো. শুকুর আলীর ছেলে সেনাবাহিনীতে চাকরিরত মো. মেহেদী হাসান রিপনের সঙ্গে দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক পপির। দুজনের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। ১৫ দিন আগে মেহেদীর বাড়িতে যাওয়ার কথা উল্লেখ করে পপি লিখেছে, ‘ও (মেহেদী) আমাকে বিয়ে করবে না বলে জানিয়ে দিয়েছে। তাই এ পৃৃথিবী থেকে চলে গেলাম। ’ ভাইকে উদ্দেশ করে সে লিখেছে, ‘হয়তো মেহেদীর পরিবার বা স্থানীয়ভাবে মীমাংসা করার প্রস্তাব  দেবে। তোরা ওই প্রস্তাবে রাজি না হয়ে মেহেদীর ফাঁসির ব্যবস্থা করবি।

কারণ তোর বোনের মৃত্যুর জন্য মেহেদীই দায়ী। ’

স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য মো. জসিমউদ্দিন জানান, প্রায় ১৫ দিন আগে পপি মেহেদীর বাড়ি গিয়ে দুজনের সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে বিয়ের কথা বলে। কিন্তু মেহেদীর বাড়ির লোকজন তাতে অসম্মতি জানায়। খবর পেয়ে জসিমউদ্দিন পপিকে বাড়িতে ফিরিয়ে আনেন।

মেহেদীদের বাড়ি গিয়ে পরিবারের কাউকে পাওয়া যায়নি। ঘরে তালা ঝুলছে। প্রতিবেশীরা জানায়, কয়েক দিন আগে পপি মেহেদীদের বাড়িতে উঠেছিল। সে মেহেদীর সঙ্গে সম্পর্কের কথা বলে বিয়ের জন্য চাপ দেয়। কিন্তু মেহেদীর পরিবার বিয়েতে রাজি হয়নি। সাটুরিয়া থানার ওসি মো. আমিনুর রহমান জানান, পপির মা সানু বেগম বাদী হয়ে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মেহেদীকে আসামি করে মামলা করেছেন। মেহেদী কোন সেনানিবাসে চাকরি করেন, খোঁজ করা হচ্ছে।


মন্তব্য