kalerkantho


লাকসামে জাল দলিলে কোটি টাকার সম্পত্তি দখলের চেষ্টার অভিযোগ

আদালতে মামলা তদন্তে ডিবি

কুমিল্লা (দক্ষিণ) প্রতিনিধি   

২ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



কুমিল্লার লাকসাম পৌর শহরের দৌলতগঞ্জ বাজারে একটি প্রভাবশালী চক্র আবুল কাসেম নামের এক ব্যবসায়ীর প্রায় কোটি টাকা মূল্যের সম্পত্তি জাল দলিল বানিয়ে দখলের চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় ওই ব্যবসায়ী ১১ জনকে অভিযুক্ত করে কুমিল্লার আদালতে একটি মামলা করেছেন। বর্তমানে মামলাটি জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) উপপরিদর্শক (এসআই) শাহ কামাল আকন্দ তদন্ত করছেন।

এদিকে সম্প্রতি দৌলতগঞ্জ বাজারে অগ্নিকাণ্ডে প্রায় দেড় শতাধিক দোকানের সঙ্গে আবুল কাসেমের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানও পুড়ে যাওয়ায় অভিযুক্তরা সম্পত্তি দখলে উঠেপড়ে লেগেছেন বলে অভিযোগ করেছেন ওই ব্যবসায়ী। এ ছাড়া অভিযুক্তদের নামে মামলা করায় তাঁর পরিবারকে অব্যাহত হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

আদালতে দায়ের করা মামলা সূত্র ও দৌলতগঞ্জ বাজারের বেশ কয়েকজন ব্যবসায়ীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, লাকসাম পৌর শহরের গাজিমুড়া গ্রামের আবুল কাসেমের বাবা মৃত বেলায়েত হোসেন ১৯৬৭ সালে প্রিয় সাহা নামের এক ব্যক্তির কাছ থেকে লাকসাম মৌজার সিএস ৩২০ নম্বর ও এসএ ৪৩৫ নম্বর খতিয়ানে সাবেক ১৬৩ নম্বর দাগে দৌলতগঞ্জ বাজারে ১ শতক ৬২ পয়েন্ট সম্পত্তি কেনেন। এরপর প্রায় ৫০ বছর ধরে প্রথমে বেলায়েত হোসেন এবং পরে তাঁর মৃত্যুর পর ছেলে আবুল কাসেম ওই সম্পত্তিতে নির্মিত দোকানে ব্যবসা করে আসছিল।

ব্যবসায়ী আবুল কাসেম বলেন, কয়েক বছর আগে লাকসাম পৌরসভার উত্তর পশ্চিমগাঁও গ্রামের মৃত আলী আশ্রাবের ছেলে মানিক মিয়া, মানিক মিয়ার ছেলে সুমন মিয়া, রাজা মিয়া, শামীম মিয়াসহ বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী মিলে ভুয়া দলিল করে আমার বাবার কেনা ওই সম্পত্তি দখলের চেষ্টা শুরু করে। ওই প্রতারকরা ভুয়া দলিল দিয়ে সম্পত্তির মালিক দাবি করে আদালতে একটি মামলাও ঠুকে। পরে ধরা পড়ার ভয়ে আবেদন করে আদালত থেকে ওই দলিলটি তুলে নিয়ে আসে।

এদিকে ওই ব্যবসায়ীর পরিবারকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে মামলায় প্রধান অভিযুক্ত মানিক মিয়া বলেন, আরএস ও সিএস খতিয়ানে যারা মালিক তারাই আমাদের কাছে সম্পত্তি বিক্রি করেছে।

বর্তমানে আমার ছেলেরা ওই সম্পত্তির মালিক। এ ছাড়া তাদের কাছে সম্পত্তির দলিলও আছে।

বুধবার দুপুরে এ ব্যাপারে জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখার উপপরিদর্শক (এসআই) শাহ কামাল আকন্দ বলেন, মামলাটির তদন্ত চলছে। এ ছাড়া রেকর্ড রুম থেকে ওই সম্পত্তির দলিলপত্র যাচাই করার প্রক্রিয়া চলছে। তিনি জানান, শিগগিরই এ মামলার তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে দেওয়া হবে।


মন্তব্য