kalerkantho


বিজয়নগর

খুনের আসামি হলেন ছাত্রলীগ সম্পাদক!

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি   

১ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



খুনের আসামি হলেন ছাত্রলীগ সম্পাদক!

ছাত্রলীগের নতুন সম্পাদক রাজভী

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলা ছাত্রলীগের সম্মেলনে সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে শফিকুল ইসলাম রাজভীর নাম ঘোষণা করা হয়েছে। যাঁর বিরুদ্ধে যুবলীগ নেতা আদম খাঁ হত্যার অভিযোগ রয়েছে। পুলিশ ইতিমধ্যেই রাজভীসহ ২০ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) জমা দিয়েছে। হত্যার ঘটনায় হওয়া মামলাটি এখনো চলমান। রাজভীকে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে ঘোষণা দেওয়ায় দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকের মধ্যে এ নিয়ে ক্ষোভ বিরাজ করছে। তবে এ বিষয়ে তারা মুখ খুলতে চাইছে না।

জানা গেছে, গত সোমবার বিকেলে চম্পকনগর স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে বিজয়নগর উপজেলা ছাত্রলীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মো. ইলিয়াসের সভাপতিত্বে এতে প্রধান অতিথি ছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য র আ ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী। সম্মেলন উদ্বোধন করেন জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মো. মাসুম বিল্লাহ। সম্মেলনে মাহবুবুর রহমানকে সভাপতি ও শফিকুল ইসলাম রাজভীকে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে ঘোষণা দেওয়া হয়।

জেলায় পদবি থাকায় মাহবুবুর রহমানকে এবং হত্যার অভিযোগ থাকায় শফিকুল ইসলামকে কোনো পদ না দেওয়ার জন্য দলের তৃণমূল নেতাদের আবদার ছিল।

জানা গেছে, চলাচলের রাস্তা বন্ধ করে দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ২০১৫ সালের ২৭ এপ্রিল খুন হন পত্তন ইউনিয়নের ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি আদম খাঁ। এ ঘটনায় আদম খাঁর স্ত্রী পারুল বেগম বাদী হয়ে ২০ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতপরিচয় আরো দু-তিনজনকে আসামি করে বিজয়নগর থানায় মামলা করেন। মামলায় রাজভী, তাঁর বাবা সামসুল ইসলাম এবং দুই ভাই রিগান ও রিফাতকেও আসামি করা হয়। ওই বছরের ১৬ জুলাই পুলিশ উল্লিখিত তিনজনসহ অন্যদের অভিযুক্ত করে অভিযোগপত্র তৈরি করে। ২৭ জুলাই আদালতে তা গৃহীত হয়।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও বিজয়নগর থানার তত্কালীন এসআই মো. জাকির হোসেন খন্দকারের দেওয়া অভিযোগপত্রের একটি অংশ উল্লেখ আছে, ‘আসামিরা আদম খাঁকে ঘেরাও করিয়া আসামি সামসু মেম্বারের প্রকাশ্য হুকুমে আসামি রাজভীর হাতে থাকা চায়নিজ কুড়াল দিয়া আদম খাঁকে খুন করার উদ্দেশ্যে কোপ মারিয়া ডান পায়ের হাঁটুর গিরায় হাড় ও রগ কাটিয়া আলগা করিয়া মারাত্মক জখম করে। ’

এ ব্যাপারে সম্মেলনে সভাপতিত্ব করা মো. ইলিয়াস বলেন, ‘জেলা, উপজেলা আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগের সবার মতামতের ভিত্তিতে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছাত্রলীগের নতুন সভাপতি ও সম্পাদকের নাম ঘোষণা করেছেন। ’ এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘রাজভী তখন ঢাকায় বিবিএ পড়ত। সে ঢাকায় ছিল বলেই আমি জানি। তাকে হত্যা মামলায় জড়ানো হয়েছে। ’

শফিকুল ইসলাম রাজভী বলেন, ‘হত্যাকাণ্ডটির সময় আমি ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ছিলাম। আমাকে ফাঁসানো হয়েছিল। বিষয়টি সামাজিকভাবে মীমাংসার কথা হচ্ছে। কিন্তু সম্মেলনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিকভাবে ফায়দা নিতে আমার প্রতিপক্ষের লোকজন বিষয়টিকে সামনে নিয়ে এসেছে। আমি ওই মামলায় জামিনে আছি। ’


মন্তব্য