kalerkantho


শ্রীপুরে কারসাজি করে অশ্লীল ছবি ফেসবুকে ছড়িয়েছে যুবক

লজ্জায় স্কুল ছেড়ে দিয়েছে দুই বোন

শাহীন আকন্দ, গাজীপুর   

১ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



লজ্জায় স্কুল ছেড়ে দিয়েছে দুই বোন

বখাটে মোখলেস

দাদা থেকে শুরু করে বাবা-চাচাসহ পরিবারের কেউ শিক্ষিত নয় বলে দুঃখ ছিল দুই বোনের। তাই দুই বোন লক্ষ্য স্থির করে, উচ্চশিক্ষা শেষে সরকারি কর্মকর্তা হবে।

দরিদ্র পরিবারের এ দুই বোন তাদের লক্ষ্যপূরণে সুবিধার জন্য একই শ্রেণিতে পড়ে। কিন্তু তাতে বাদ সেধেছে এক বখাটে  যুবক। প্রেমের প্রস্তাবে প্রত্যাখ্যাত হয়ে যুবকটি কারসাজি করে এক বোনের অশ্লীল ছবি বানিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে দিয়েছে। এতে লজ্জায়-ঘৃণায় ঘর থেকে বের হতে পারছে না মেয়েটি। ছবিগুলো ছড়িয়ে পড়ায় ছোট বোনও ছেড়ে দিয়েছে বিদ্যালয়।

ন্যক্কারজনক এই ঘটনা ঘটেছে গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার বরমী ইউনিয়নে। ওই দুই বোন একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্রী। তাদের বাবা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। ছবি কারসাজি করা বখাটে যুবকের নাম মোখলেস।

সে স্থানীয় ডালেশহর পূর্বপাড়া বস্তির মঞ্জু মিয়ার ছেলে। এ ঘটনায় ওই ছাত্রীর ভাই গত সোমবার রাতে শ্রীপুর মডেল থানায় অভিযোগ করেছেন। ঘটনার পর থেকে মোখলেস পলাতক।

সূত্র জানায়, বছরখানেক আগে ওই ছাত্রীকে বিদ্যালয়ে যাওয়া-আসার পথে উত্ত্যক্ত করত মোখলেস। ঘটনা জেনে ছাত্রীর ভাই প্রতিবাদ করলে কিছুদিন উত্ত্যক্ততা বন্ধ ছিল।

ওই ছাত্রী জানায়, কয়েক মাস আগে বিদ্যালয়ে যাওয়ার পথে তাকে মোখলেস প্রেমের প্রস্তাব দেয়। সে তাত্ক্ষণিক প্রত্যাখ্যান করলে মোখলেস তাকে ‘বেশি দেমাগ ভালো নয়’ বলে শাসায়। কয়েক দিন পর একই প্রস্তাব দিয়ে প্রত্যাখ্যাত হলে তাকে দেখে নেওয়ার হুমকি দেয়। স্থানীয়রা জানায়, মাসখানেক ধরে ফেসবুকের তিনটি ভুয়া (ফেক) আইডি থেকে মেয়েটির একের পর এক অশ্লীল ছবি দিতে থাকে। প্রথমে ‘অভিশপ্ত ফেসবুক’ থেকে ছবি আপলোড করে। এর পাঁচ-ছয় দিন পর ‘তুর (তোর) অভিশাপ’ থেকে আরো ছবি দেয়। এক সপ্তাহ পর ‘ঙঃত্রঢ়ঃড় অশযর’ আইডি থেকে দেওয়া হয় আরো কয়েকটি ছবি। মুহূর্তেই অশ্লীল ছবিগুলো হাতে হাতে ছড়িয়ে পড়ে।

ছাত্রীর বড় ভাই জানান, তাঁর বোনের ছবি মোখলেস কৌশলে সংগ্রহের পর কারসাজি করে পর্ন মডেলদের সঙ্গে জুড়ে দিয়ে তিনটি ফেক আইডি থেকে ছড়িয়ে দিয়েছে। ১০-১২ দিন আগে তাঁরা ঘটনাটি জেনেছেন।

প্রতিবেশীরা জানায়, এ ঘটনার পর লজ্জায়-ঘৃণায় ঘর থেকে বের হচ্ছে না ছাত্রীটি। শিক্ষক-শিক্ষার্থীরাও জেনে যাওয়ায় ছাত্রীটির ছোট বোনও বিদ্যালয় ছেড়ে দিয়েছে। ছাত্রীর মা জানান, ঘটনা জানার পর তাঁর বড় মেয়ে একবারও ঘর থেকে বের হয়নি। শুধু বিছানায় পড়ে কাঁদছে। কয়েকবার মূর্ছা গেছে সে। সহপাঠীরা ঘটনা জানতে চায় বলে ছোট মেয়েও বিদ্যালয় ছেড়ে দিয়েছে। তাঁর দুই মেয়ের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে গেছে।

ছাত্রীর বাবা কান্নায় ভেঙে পড়ে জানান, তিনি কখনো বিদ্যালয়ে যাননি। তাঁর বাবা-ভাইদেরও কেউ পড়ালেখা করেননি। তাঁর দুই ছেলে দারিদ্র্যের কারণে বিদ্যালয়মুখী না হয়ে সংসারের হাল ধরেন। ফলে তাঁর দুই মেয়ের স্বপ্ন ছিল, তারা পড়ালেখা করে উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে সরকারি কর্মকর্তা হবে। পড়ালেখার খরচ কমানোর জন্য দুই বোন একই শ্রেণিতে পড়ত। কিন্তু তাদের স্বপ্ন ছাই করে দিয়েছে বখাটে মোখলেস।

ওই বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বলেন, ‘ঘটনাটি খুবই দুঃখজনক। ঘটনার পর থেকে দুই বোন বিদ্যালয়ে আসছে না। আমি যেকোনোভাবে তাদের বিদ্যালয়ে আনার উদ্যোগ নেব। ঘটনায় জড়িত ওই যুবকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হোক। ’

শ্রীপুর মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আবুল হাসান বলেন, ‘অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে ঘটনার সত্যতাও মিলেছে। ঘটনায় জড়িত মোখলেসকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। ’


মন্তব্য