kalerkantho


বগুড়ার শেরপুরে বাদ পড়া মুক্তিযোদ্ধাদের বিক্ষোভ

এমপিকে দুষছেন তাঁরা

নিজস্ব প্রতিবেদক, বগুড়া   

১ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



বগুড়ার শেরপুরে যাচাই তালিকায় বাদ পড়া মুক্তিযোদ্ধারা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ তালা দিয়ে মঙ্গলবার বিক্ষোভ করেছেন। সম্প্রতি মুক্তিযোদ্ধাদের যাচাই-বাছাই তালিকা ফের চূড়ান্ত করে তালিকা প্রকাশ করে শেরপুর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই কমিটি।

এতে ২৫৫ জন বাদ পড়েন। বিক্ষোভের সময় যাচাই-বাছাই কমিটির সভাপতি স্থানীয় সংসদ সদস্য (এমপি) হাবিবর রহমানের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়।

জানা গেছে, সম্প্রতি শেরপুরের মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আওতাধীন সরকারি ভাতাপ্রাপ্ত ১৮৯ জন ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে ফের চূড়ান্ত তালিকা পাওয়া সাপেক্ষে অনলাইনে আবেদন করা ১৩৭ মুক্তিযোদ্ধার যাচাই-বাছাই শেষ করা হয়। এর দায়িত্বে ছিলেন উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা যাচাই কমিটির সাত সদস্যের কমিটি। কমিটির সভাপতি হলেন স্থানীয় সংসদ সদস্য হাবিবর রহমান, সদস্যসচিব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ কে এম সরোয়ার জাহান, জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডারের প্রতিনিধি আব্দুস সোবাহান, জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের (জামুকা) প্রতিনিধি আব্দুল বারী, মোফাজ্জল হোসেন, নরোত্তম সরকার ও বর্তমানের উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার ওবায়দুর রহমান।

অভিযোগ করা হয়, যাচাই-বাছাইকালে কমিটির সভাপতি সংসদ সদস্য হাবিবর রহমান তাঁর ব্যক্তিগত সহকারী ফরহাদুজ্জামান শাহীনের সমন্বয়ে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় প্রদত্ত যাচাইসংক্রান্ত নীতিমালার প্রজ্ঞাপন উপেক্ষা করেন। তিনি উপজেলার সরকারি ভাতাপ্রাপ্ত কোনো মুক্তিযোদ্ধার কাগজপত্র না দেখেই গেজেটভুক্ত ১২০ জনের মধ্যে ১৭ জন, লাল মুক্তিবার্তায় ৬৯ জনের মধ্যে ৫৩ জন ও অনলাইনে আবেদন করা ১৩৭ জনের মধ্যে ১ জনসহ মোট ৭১ জন মুক্তিযোদ্ধার চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করেন।

প্রকাশিত তালিকার মধ্যে সাবেক সংসদ সদস্য আমানউল্লাহ খান, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মজিবর রহমান মজনু, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল জলিল, বাংলাদেশ ব্যাংক বগুড়ার সহকারী পরিচালক আব্দুর রউফ খানসহ ভাতাপ্রাপ্ত ও অনলাইন আবেদন করা ২৫৫ জন বাদ পড়েন। এসব নিয়ে সাধারণ মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

এ কারণে মঙ্গলবার তাঁরা উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কার্যালয়ে তালা দিয়ে বিক্ষোভ করেন। বিক্ষোভের সময় তাঁরা যাচাই কমিটির সভাপতি সংসদ সদস্য হাবিবর রহমানের বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের অভিযোগ তোলেন।

এ ব্যাপারে মুক্তিযোদ্ধা তালিকা থেকে সদ্য বাদ পড়া বগুড়া জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মজিবর রহমান মজনু বলেন, এটি রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও ব্যক্তি আক্রোশ ছাড়া আর কিছুই নয়।

অভিযোগ প্রসঙ্গে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই কমিটির সভাপতি বগুড়া-৫ আসনের সংসদ সদস্য হাবিবর রহমান বলেন, যদি কোনো প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা বাদ পড়ে থাকেন, তাঁর জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও আদালত রয়েছে। তবে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে কোনো কিছু করা হয়নি।


মন্তব্য