kalerkantho


মুক্তিযুদ্ধে গণহত্যা

ট্রাইব্যুনালের তদন্তদল ফের ভাণ্ডারিয়ায়

আঞ্চলিক প্রতিনিধি, পিরোজপুর   

১ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়ায় ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে উপজেলার পশারীবুনীয়া গ্রামে আটজন মুক্তিযোদ্ধাসহ গণহত্যার বিচার দাবিতে করা মামলার দ্বিতীয় দফা তদন্তকাজ শেষ হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তিন সদস্যের একটি তদন্তদল উপজেলার পশারীবুনীয়া গ্রামে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সাক্ষ্যগ্রহণ করে। তদন্তকাজ শেষ করতে আরো এক দফা এখানে তাদের আসতে হবে বলে জানা গেছে।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্তদলের সমন্বয়কারী মুহাম্মদ আবদুল হান্নান খানের (পিপিএম) নেতৃত্বে অন্য দুই সদস্য ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর তাপস কান্তি বল ও তদন্ত কর্মকর্তা মো. বদরুল আলম পশারীবুনীয়া গ্রামের গণহত্যার স্থান পরিদর্শন করে গ্রামবাসীর সঙ্গে কথা বলে তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করেন। পরে স্থানীয় পশারীবুনীয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় কাম ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্রে মামলার বাদী, সাক্ষী, মুক্তিযোদ্ধা ও স্থানীয় জনমানুষের বক্তব্য শোনেন তিনি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ১৯৭১ সালের ৯ কার্তিক ভাণ্ডারিয়ার হেতালিয়া গ্রামের আমীর হোসেন হাওলাদারের নেতৃত্বে একদল রাজাকার বাহিনী পশারীবুনীয়া গ্রামের হিন্দু অধ্যুষিত গ্রামে লুটপাট চালায়। এ সময় রাজাকাররা আটজন হিন্দু বাঙালি মুক্তিযোদ্ধাকে আটক করে। পরে তাঁদের ধরে নিয়ে স্থানীয় রাজাকার বাহিনী বনমালি গাছারু বাড়ি নামক স্থানে নির্বিচারে গুলি করে। এ সময় ভাগ্যক্রমে পশারীবুনীয়া গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা কৃষক বিজয় কৃষ্ণ বালা গুলিবিদ্ধ হয়েও বেঁচে যান। ওই দিন সেখানে ছয় মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হন। তাঁরা হলেন বাদীর বাবা নিরোদ চন্দ্র বালা, ভাই রণজিৎ কুমার, ভগ্নিপতি সুখময়, চাচা গঙ্গা চরণ মিস্ত্রি, চাচাতো ভাই অমূল্য মিস্ত্রি ও সমূল্য মিস্ত্রি।

২০১৫ সালের ১৪ অক্টোবর যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা কৃষক বিজয় কৃষ্ণ বালা বাদী হয়ে চারজনের নামে পিরোজপুর জেলা আদালতে মামলাটি করেন। মামলায় ২৫ জন সাক্ষীর নাম উল্লেখ করা হয়। আদালত মামলাটি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করেন। মামলায় ভাণ্ডারিয়া উপজেলার হেতালিয়া গ্রামের আমীর হোসেন হাওলাদার (৭০), তাঁর ভাই ফজলুল হক হাওলাদার (৬০), একই গ্রামের মো. নূর আমীন হাওলাদার (৫৮) ও মো. আবদুল মান্নান হাওলাদারকে (৭০) আসামি করা হয়। ট্রাইব্যুনাল মামলাটি আমলে নিয়ে ২০১৬ সালে প্রথম দফা তদন্তকাজ সম্পন্ন করে। গতকাল মঙ্গলবার ট্রাইব্যুনালের তিন সদস্যের তদন্তদল দ্বিতীয় দফায় তদন্তকাজ সম্পন্ন করে।

এদিকে আসামিদের বিরুদ্ধে আরো ২০ জনকে হত্যার অভিযোগ আনা হয়। তারা হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়িঘর লুটপাট, মেয়ে ও স্ত্রীদের ধর্ষণের পর বসতঘর আগুনে পুড়িয়ে দেয়। এ সময় বাদী বিজয় কৃষ্ণ বালা গুলিবিদ্ধ অবস্থায় মাটিতে পড়ে থাকেন। আসামিরা তাঁকে মৃত ভেবে ফেলে রেখে চলে যায়।

এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্তদলের সমন্বয়কারী মুহাম্মদ আবদুল হান্নান খান বলেন, পশারীবুনীয়ার সাত মুক্তিযোদ্ধা হত্যা মামলাটি দ্বিতীয় দফায় তদন্ত করতে গিয়ে তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করা হয়েছে। মামলার স্বার্থে তদন্তের বিষয়ে কিছু বলা সম্ভব হচ্ছে না।


মন্তব্য