kalerkantho


ছাতকে রক্তারক্তি

সংঘর্ষে নিহত ১, আহত দেড় শতাধিক

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি   

২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



ছাতকে রক্তারক্তি

সুনামগঞ্জের ছাতক পৌর শহরে ওয়াজ মাহফিলের ব্যানার টানানো নিয়ে রক্তারক্তির ঘটনা ঘটেছে। প্রায় তিন ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষের এ ঘটনায় এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে।    আহত হয়েছে পুলিশসহ দেড় শতাধিক ব্যক্তি। গুরুতর আহত আটজনকে সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। শতাধিক আহত ব্যক্তি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিত্সা নিয়েছে। সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ৩০টি রাবার বুলেট ও পাঁচটি টিয়ার গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করে।

পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, ২৬, ২৭ ও ২৮ ফেব্রুয়ারি তিন দিনব্যাপী ওয়াজ মাহফিলের আয়োজন করে ছাতক কওমি মাদ্রাসাভিত্তিক সংগঠন খাদিমুল ইসলাম পরিষদ। এ উপলক্ষে স্থানীয় জাওয়া বাজারে ব্যানার টানায় সংগঠনটি। ব্যানারটি ছাতক জালালিয়া আলিয়া মাদ্রাসার ছাত্ররা ছিঁড়ে ফেললে উত্তেজনা দেখা দেয়। এ নিয়ে রবিবার রাতে উত্তেজিত দুই পক্ষকে নিয়ে বৈঠক করে সমঝোতা করে দেন উপজেলা চেয়ারম্যান অলিউর রহমান চৌধুরী বকুল। কিন্তু গতকাল সোমবার দুপুরে ছাতক জালালিয়া মাদ্রাসার ছাত্ররা আবারও কওমি মাদ্রাসার ওয়াজ মাহফিলের ব্যানারে ঢিল ছুড়লে উত্তেজনা দেখা দেয়।

একপর্যায়ে উভয় প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়ায়।

এ সময় কওমি মাদ্রাসার পক্ষে গণেশপুর গ্রাম এবং জালালিয়া মাদ্রাসার পক্ষে বাগবাড়ি গ্রাম অংশ নেয়। দুপুর ২টা থেকে প্রায় ৪টা পর্যন্ত দুই পক্ষে তুমুল সংঘর্ষ চলে। এ সময় ছাতক পৌর পয়েন্ট রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের দেড় শতাধিক আহত হয়। আহতদের মধ্যে শতাধিক ছাতক উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিত্সা নিয়েছে। অন্যরা স্থানীয়ভাবে চিকিত্সা নিচ্ছে। গুরুতর আহত পুলিশের এসআই সোহেল রানাসহ আটজনকে সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

এদিকে ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষ চলার পরও নিয়ন্ত্রণে আনতে না পারায় সুনামগঞ্জ পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হারুন অর রশিদ সুনামগঞ্জ থেকে অতিরিক্ত পুলিশ নিয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যান। সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণে পুলিশ বাবার বুলেট ও টিয়ার শেল ছোড়ে।

ছাতক উপজেলা চেয়ারম্যান অলিউর রহমান চৌধুরী বকুল বলেন, ‘ওয়াজ মাহফিলের ব্যানার নিয়ে কথা-কাটাকাটির জের ধরে উত্তেজনা দেখা দিলে আমি গত রাতেই দুই পক্ষকে নিয়ে বসে পরিস্থিতি শান্ত করি। কিন্তু সোমবার আবারও দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়ায়। ’

সুনামগঞ্জের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হারুন অর রশিদ বলেন, ‘এলাকাবাসীকে নিয়ে আমরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হই। সংঘর্ষে আব্দুল বাছেত বাবুল নামের এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার সন্ধ্যায় সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তাঁর মৃত্যু হয়।


মন্তব্য