kalerkantho


পদ্মা সেতু পুনর্বাসন প্রাথমিক বিদ্যালয়

চালু হচ্ছে কাল

মো. মাসুদ খান, মুন্সীগঞ্জ   

২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



পদ্মা সেতু পুনর্বাসন প্রাথমিক বিদ্যালয়

লৌহজংয়ের কুমারভোগ পদ্মা সেতু পুনর্বাসনকেন্দ্র প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবন। ছবি : কালের কণ্ঠ

আগামীকাল ১ মার্চ চালু হচ্ছে পদ্মা সেতু পুনর্বাসন প্রাথমিক বিদ্যালয়। তিন জেলার চারটি পুনর্বাসনকেন্দ্রে একযোগে এই প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ক্লাস শুরু হবে।

ইতিমধ্যে একজন করে প্রধান শিক্ষকসহ ২৪ শিক্ষকের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। লৌহজং উপজেলার কুমারভোগ পুনর্বাসনকেন্দ্র, যশলদিয়া পুনর্বাসনকেন্দ্র, মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার বাকরেরকান্দি পুনর্বাসনকেন্দ্র ও শরীয়তপুরের নাওডোবা পুনর্বাসনকেন্দ্রে এ চারটি স্কুল চালু হচ্ছে। স্কুলগুলোতে পুনর্বাসনকেন্দ্রে বসবাসরত পরিবারের শিশু ছাড়াও আশপাশ এলাকার শিশুদের পড়ার ব্যবস্থা থাকবে। ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে শিক্ষার্থী ভর্তি। ‘রিক’ নামের একটি এনজিওর মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগসহ অন্যান্য কাজ চলছে।

পদ্মা সেতুর নির্বাহী প্রকৌশলী (পুনর্বাসন) মো. তোফাজ্জল হোসেন জানান, এই চার স্কুল ছাড়াও পুনর্বাসনকেন্দ্রে পাঁচটি হাসপাতাল চালু হবে শিগগিরই। পুনর্বাসিত পরিবারগুলোর শিক্ষা ও স্বাস্থ্য নিশ্চিত করার জন্য এগুলো নির্মাণ করা হচ্ছে। তিনি জানান, এনজিও ‘রিক’ এই পাঁচটি হাসপাতালের স্বাস্থ্য উপকরণ-সরঞ্জামাদি সরবরাহ এবং চিকিৎসক নিয়োগের কাজ করছে। মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার কুমারভোগ ও যশলদিয়া পুনর্বাসনকেন্দ্র, মাদারীপুরের শিবচরের বাখরেরকান্দি পুনর্বাসনকেন্দ্র, শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার পূর্ব নাওডোবা পুনর্বাসন ও পশ্চিম নাওডোবা পুনর্বাসনকেন্দ্রে এই পাঁচটি হাসপাতাল চালু হবে।

পূর্ব ও পশ্চিম নাওডোবা পুনর্বাসনকেন্দ্র মিলে একটি স্কুল করা হলেও হাসপাতাল করা হয়েছে দুটি। এই পাঁচ পুনর্বাসনকেন্দ্রের দুই হাজার ৭০০ প্লটের মধ্যে ইতিমধ্যে দুই হাজার ২৬২টি প্লট বরাদ্দ হয়ে গেছে। বাকি প্লটগুলোর বরাদ্দ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। পরিকল্পিত এবং আধুনিক নানা সুবিধাসংবলিত পুনর্বাসনকেন্দ্রগুলোতে এখন প্রাণের স্পন্দন। পরিবারগুলোর বসবাসের পর নতুন পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে এখানে।

সোমবার সরজমিনে গিয়ে মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার কুমারভোগ পদ্মা সেতু পুনর্বাসনকেন্দ্রের স্কুলটিতে গিয়ে দেখা যায়, দৃষ্টিনন্দন এল প্যাটার্নের আধুনিক একটি ভবন। এতে প্রধান শিক্ষক, কনফারেন্স, শিক্ষক কক্ষসহ আটটি রুম রয়েছে। শিক্ষার্থীদের আসবাবসহ ইতিমধ্যে শিক্ষা উপকরণও চলে এসেছে। এই ভবনের সঙ্গে আরো একটি এল প্যাটার্ন টিন শেড রয়েছে, যার চারপাশ খোলা। যেখানে অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা ছায়া নিবিড় পরিবেশে বিশ্রাম বা খেলাধুলা করতে পারবে। স্কুলের সামনেই রয়েছে বিশাল আঙ্গিনা। আঙ্গিনার এক পাশে রয়েছে একটি কংক্রিটের তৈরি বিশাল ছাতা। যার নিচে অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা বিশ্রাম নিতে পারবে। শিক্ষক ছাড়াও পিয়ন, নাইট গার্ড, অফিস সহকারী, মালি, ক্লিনারসহ আরো ১০ জন স্টাফ রয়েছে স্কুলটিতে। গতকাল পর্যন্ত এই বিদ্যালয়ে শিশু শ্রেণিতে ৪২, ক্লাস ওয়ানে ২৭, ক্লাস টুতে ১৯, ক্লাস থ্রিতে ১৪, ক্লাস ফোরে ১০ ও ক্লাস ফাইভে দুজনসহ মোট ১১৪ জন শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছে। জশলদিয়ায় ১০৯ জন, নাওডুবায় ১৭১ জন এবং বাকেরেরকান্দিতে ১২৪ জন শিক্ষার্থী এ পর্যন্ত ভর্তি হয়েছে।

এদিকে পদ্মা সেতু প্রকল্প এলাকায় এরই মধ্যে দুই লক্ষাধিক বৃক্ষরোপণ করা হয়েছে। পুরো এলাকার প্রকৃতি সেজেছে ভিন্ন রূপে। শীত বিদায় নেওয়ার পর ঋতুরাজ বসন্তের রং ছড়াচ্ছে এখানে। পদ্মার চরগুলোতে এসেছে নানা পরিবর্তন।

এরই মধ্যে চলছে সেতুর নির্মাণযজ্ঞ। জাজিরা প্রান্তে ভায়াডাক্টের (সংযোগ সেতু) ৫৫টি পাইল স্থাপন হয়ে গেছে। এই সংযোগ সেতুতে ১৯৩টি পাইল বসবে। মাওয়া প্রান্তের ৪ নম্বর ও ৫ নম্বর পিলারে মঞ্চ তৈরি করা হয়েছে। তবে এখনো পাইল ড্রাইভ শুরু করা যায়নি। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, জাজিরা প্রান্তের নদীর পিলারগুলোর ছয়টি করে পাইল স্থাপনের পর হ্যামার মাওয়া প্রান্তে আনা হতে পারে।

এদিকে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চায়না মেজর ব্রিজ কম্পানির পক্ষে আনা ১২ বিশেষজ্ঞ এখনো প্রকল্প এলাকায় অবস্থান করছেন। মূল সেতুর কাজে গতি আনতে কাজ করছেন তাঁরা।


মন্তব্য