kalerkantho


ঈশ্বরগঞ্জে ড্রাম বিস্ফোরণে বাবা-ছেলেসহ দগ্ধ ৩

ঈশ্বরগঞ্জ (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি   

২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জের কাবিলবক্সি গ্রামে একটি ড্রাম বিস্ফোরণে বাবা-ছেলেসহ তিনজন গুরুতর দগ্ধ হয়েছেন। এলাকার লোকজন ফায়ার সার্ভিসের সহায়তায় দগ্ধদের ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। গতকাল সোমবার দুপুরের এ ঘটনায় আহতরা হলেন মো. নজরুল ইসলাম (৫৫), তাঁর ছেলে রমজান আলী (২২) ও ড্রামটির মালিক আবুল কালাম (৪৫)।

ঈশ্বরগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. নূর ই কাশেম বলেন, ধারণা করা হচ্ছে খালি ড্রামে গ্যাস জমেছিল। আগুনের সংস্পর্শে আসামাত্রই তা বিস্ফোরিত হয়। ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

ঘটনাস্থলে দেখা যায়, উপজেলার রাজীবপুর ইউনিয়নের কাবিলবক্সি গ্রামের নজরুল ইসলামের বাড়ির সামনে লাল রঙের একটি ড্রাম পড়ে আছে। বিস্ফোরণে ড্রামটির তলা ও ওপরের অংশ ছিটকে বেরিয়ে এসেছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, বিস্ফোরণের ধাক্কা ও পরে প্রজ্বলিত আগুনে তিনজন দগ্ধ হন।

নজরুলের প্রতিবেশী লিটন মিয়া (৩৫) জানান, তিনি প্রচণ্ড শব্দ শুনে ঘটনাস্থলে এসে তিনজনকে কাতরাতে দেখেন। নজরুল বিভিন্ন মেরামতির কাজ করেন।

উপজেলার তরফ পাছাইল গ্রামের আবুল কালাম গতকাল দুপুরে নজরুলের কাছে একটি খালি ড্রাম নিয়ে আসেন। ড্রামটি পানির ট্যাঙ্ক হিসেবে ব্যবহারের উপযোগী করছিলেন নজরুল। কাজ শেষে ড্রামের ছিদ্র করা অংশটি ভরাট করার সময় দিয়াশলাইয়ের কাঠি জ্বালানোর সঙ্গে সঙ্গে বিস্ফোরিত হয়। পাশেই রান্না করছিল নজরুলের মেয়ে পারভিন আক্তার। সে জানায়, প্রচণ্ড শব্দের ধাক্কায় সে তিন-চার ফুট উপরে ওঠে যায়। পরে দেখে, বাবা নজরুল পড়ে আছেন আর তাঁর শরীরের বিভিন্ন স্থানে আগুন জ্বলছে। সে দ্রুত বাবার শরীরের আগুন নেভায়। তখন দেখে, তাঁর বাবার দুটি পা বিস্ফোরণে ছিন্নভিন্ন হয়ে গেছে। পরে পাশে ভাই রমজানকে আহত ও কিছুটা দূরে আবুল কালামকে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে। আশপাশের লোকজন ছুটে এসে আহতদের হাসপাতালে নিয়ে যায়। বিস্ফোরিত ড্রামটিতে ‘ফ্ল্যামেবল লিকুইড’ লেখা রয়েছে। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রমজান মোবাইল ফোনে জানান, তাঁর অণ্ডকোষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাঁর বাবা ও আবুল কালামের অবস্থা ভালো নয়। তাঁদের চেতনা ফেরেনি। অস্ত্রোপচারের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।


মন্তব্য