kalerkantho


রৌমারী হাটবাজার ইজারা দরপত্রে জালিয়াতি

৯০ টাকার পে অর্ডার হয়ে গেল ৯০ লাখ!

রৌমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি   

২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



কুড়িগ্রামের রৌমারী সদর হাটবাজার ইজারায় সর্বোচ্চ দরদাতার জমা দেওয়া ৯০ লাখ টাকার পে অর্ডার জালিয়াতির মাধ্যমে করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে মাত্র ৯০ টাকার পে অর্ডারকে জালিয়াতি করে ৯০ লাখ টাকা করা হয়েছে।

বিষয়টি ফাঁস হওয়ার পর বাতিল করে দেওয়া হয়েছে ওই সিডিউল। গতকাল সোমবার দুপুর ২টার দিকে দরপত্র বাক্স অংশগ্রহণকারীদের সামনে খোলার পর বিষয়টি ধরা পড়ে। এ নিয়ে রৌমারীতে তোলপাড় সৃষ্টি হয়।

রৌমারী হাটবাজার ১৪২৪ বাংলা সালের ইজারা সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে তিন কোটি টাকায় সিডিউল জমা দেন খালেদা নাহিদ নামের এক নারী। সিডিউলের সঙ্গে ৯০ লাখ (তিন কোটির ৩০ শতাংশ) টাকার যে পে অর্ডার দেওয়া হয় তার নম্বর ৮৯৮৮৫৯০। পে অর্ডারটি গত ২৩ ফেব্রুয়ারি রৌমারী সোনালী ব্যাংক শাখায় করা। ব্যাংকে জমা ভাউচারে স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে মাত্র ৯০ টাকার পে অর্ডার এবং যে ব্যক্তি করেছেন তাঁর নাম এনামুল হক। তিনি ৯০ টাকার পে অর্ডারকে ৯০ লাখ টাকা তৈরি করেন। এনামুল হক হলেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) জাকির হোসেনের শ্যালক।

ফলে জালিয়াতিতে জাকির হোসেন সরাসরি জড়িত থাকতে পারেন—এমন অভিযোগ করেছে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা।   এ প্রসঙ্গে খালেদা নাহিদ বলেন, ‘আমি শিডিউল কিনেছি এটা সত্য, কিন্তু তা দাখিল করিনি। আমি কোনো পে অর্ডারও করিনি। আমার নাম ব্যবহার করে কে এটা করেছে তা আমি জানি না। ’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয় সূত্র জানায়, রৌমারী হাটবাজার ইজারা সিডিউল বিক্রি হয় ৯৯টি। সেখানে মাত্র সাতটি সিডিউল জমা পড়ে। এতে সর্বোচ্চ দরদাতা খালেদা নাহিদ তিন কোটি এবং দ্বিতীয় দরদাতা আফজাল হোসেন দুই কোটি ৭১ লাখ ৫০ হাজার টাকায় সিডিউল জমা দেন। যাচাই-বাছাইয়ে সর্বোচ্চ দরদাতার জালিয়াতির প্রমাণ পাওয়ায় তা বাতিল করা হয়। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ দরদাতাকে ইজারা দেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

দরপত্রে অংশগ্রহণকারী রৌমারী সদর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি রাজু আহমেদ খোকা ইউএনও বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছেন। তিনি বলেন, ‘সিডিউলে খালেদা নাহিদের নাম থাকলেও এই জালিয়াতি করেছেন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক এমপি জাকির হোসেন। কেননা ঘটনাটি ফাঁস হওয়ার পর তিনি আত্মগোপনে যান। আমাদের সামনে ইউএনও জাকির হোসেনকে বারবার ফোন করেও উপস্থিত করাতে পারেননি। ’ একই ধরনের অভিযোগ করেন দরপত্রে অংশ নেওয়া প্রায় সবাই।

উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি জাকির হোসেন মোবাইল ফোনে বলেন, ‘না, আমি ওই ঘটনায় জড়িত নই। সিডিউল কিনতে ও দাখিল করতে কেউ আমাকে দেখেনি এবং কেউ বলতে পারবে না। পে অর্ডার আমার শ্যালক করেছে। কিন্তু কিভাবে জালিয়াতি করল সে বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। ’ “দরপত্র বাক্স খোলার পর সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে খালেদা নাহিদের নাম ঘোষণা করা হলে আপনি বলেছেন যে ‘এটা আমার দরপত্র’। ” জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি জোকস করে বলেছিলাম যে এটা আমার দরপত্র। ’ ইউএনও আব্দুল্লাহ আল মামুন তালুকদার জানান, পে অর্ডার জালিয়াতির বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার ওই সিডিউল বাতিল করা হয়েছে। জালিয়াতিতে যাঁরা জড়িত তাঁদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সংবাদ সম্মেলন : ওই জালিয়াতির বিষয়ে রৌমারী প্রেস ক্লাবে গতকাল দ্রুত সংবাদ সম্মেলন করে আওয়ামী লীগের একাংশ। সম্মেলনে জালিয়াতির সঙ্গে উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি জড়িত বলে অভিযোগ তোলা হয়।


মন্তব্য