kalerkantho


মৎস্যজীবীদের ঝাঁপা বাঁওড়ে নামতে মানা

কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ

বিশেষ প্রতিনিধি, যশোর   

২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



মৎস্যজীবীদের ঝাঁপা বাঁওড়ে নামতে মানা

যশোরে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের কারণে ঝাঁপা বাঁওড়ে নামতে পারছে না প্রকৃত মৎস্যজীবীরা। ছবিটি গতকাল তোলা। ছবি : কালের কণ্ঠ

প্রকৃত মৎস্যজীবীদের জিম্মি করে স্থানীয় দুই প্রভাবশালী ব্যক্তি যশোরের মণিরামপুরের অন্যতম বৃহৎ ঝাঁপা বাঁওড় থেকে মাছ বিক্রি করে কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। এ ব্যাপারে অভিযোগ করায় এই চক্রটি মৎস্যজীবীদের বাঁওড়ে নামতে দিচ্ছে না।

এমনকি তাদের নামে পুলিশের কাছে মাছ লুটের মিথ্যা অভিযোগ করা হয়েছে। এর ফলে ঝাঁপা এলাকায় দেখা দিয়েছে উত্তেজনা।

জানা যায়, ২০১১ সালে স্থানীয় মৎস্যজীবীরা ‘ঝাঁপা বাঁওড় মৎস্যজীবী সমিতি’ নামের একটি সমিতি গঠন করে ৪৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকায় ৬০৫ একর আয়তনের ওই বাঁওড়টি ছয় বছরের জন্য প্রশাসনের কাছ থেকে ইজারা নেয়। মৎস্যজীবীরা ইজারার টাকা পরিশোধও করে। কিন্তু সমিতির সভাপতি কৃষ্ণপদ বিশ্বাস ও সাধারণ সম্পাদক সন্তোষ কুমার বাঁওড় থেকে লাখ লাখ টাকার মাছ বিক্রি করলেও সমিতির সদস্যদের নানা অজুহাতে এক টাকাও দেননি। ওই বাঁওড়ের ইজারার মেয়াদ শেষ হবে আগামী ৩০ চৈত্র। এখন সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক মৎস্যজীবীদের ভুয়া তালিকা করে ও জাল সই নিয়ে ফের বাঁওড়টি ইজারা নেওয়ার পাঁয়তারা করছেন। বিষয়টি জানাজানি হওয়ায় সমিতির ১৭৯ সদস্যের মধ্যে ১২২ জন ওই দুই ব্যক্তির অপতত্পরতার বিরুদ্ধে অভিযোগ এনে গত ১৯ জানুয়ারি মণিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। সমিতির সদস্য সুধাংশ বিশ্বাস বলেন, ‘বাঁওড় ইজারা নেওয়ার সময় আমি দুই লাখ টাকা দিয়েছি।

কিন্তু এক টাকাও ফেরত পাইনি। সমিতির সভাপতি সম্পাদক নানা অজুহাতে আমাদের বঞ্চিত করেছে। ’

এ ব্যাপারে সমিতির সভাপতি কৃষ্ণপদ বিশ্বাস বলেন, ‘বন্যায় মাছ ভেসে গেছে। ভাইরাসেও অনেক মাছ মরে গেছে। এখন আমরা সরকারের কাছে ৪৫ লাখ আর মাছের আড়তে ১০ লাখ মোট ৫৫ লাখ টাকা দেনা। আমরা সমিতির সদস্যদের টাকা কোথা থেকে দেব?’ স্থানীয় রাজগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক আনিসুর রহমান বলেন, ‘মাছ লুটের অভিযোগ করা হলেও তদন্তে সত্যতা পাওয়া যায়নি। ’


মন্তব্য