kalerkantho


গাংনীতে আদালতের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা

সংবাদ সম্মেলনের নামে মেয়রের জনসভা

মেহেরপুর প্রতিনিধি   

২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



আদালতের নিষেধাজ্ঞাধীন জমিতে বহুতল ভবন নির্মাণের ব্যাখ্যা দিতে সংবাদ সম্মেলনের নামে জনসভা করেছেন মেহেরপুরের গাংনী পৌর মেয়র আশরাফুল ইসলাম। তবে বহুতল ভবন নির্মাণ থেকে সরে এসে এখন বলছেন, মার্কেট নির্মাণ করা হচ্ছে।

গতকাল রবিবার সকাল ১১টার দিকে বিতর্কিত স্থানে অনুষ্ঠিত কথিত ওই সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন প্যানেল মেয়র নবির উদ্দিন, পৌর সচিব শামিম রেজাসহ কাউন্সিলররা। সংবাদ সম্মেলনে পৌর এলাকার দুই শতাধিক লোক জড়ো করেন তিনি।

পৌরসভার দরপত্র নোটিশ থেকে জানা গেছে, গত ১৯ ডিসেম্বর কয়েকটি পত্রিকায় গাংনী পৌরসভা ৩৩টি প্রকল্পের কথা উল্লেখ করে দরপত্র ডাকে। প্রথমত, বহুতল ভবন বলে নির্মাণকাজ শুরু করলেও চাপের মুখে তা বাতিল করে। কিচেন মার্কেট নির্মাণ হচ্ছে বলে প্রকল্পের সাইনবোর্ড টাঙানো হয়। অথচ যেখানে এই মার্কেট নির্মাণ করা হচ্ছে, ওই জমিতে আদালতের অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা (স্থিতিবস্থার আদেশ) দেওয়া আছে।

উল্লেখ্য, গাংনী মৌজার সাবেক ২০৫৬ দাগের ১৩ শতাংশ জমি বাংলা ১৩৪২ সনে বন্দোবস্ত নিয়ে স্বত্ব ও দখলি পান মৃত আজিম উদ্দিন। কিন্তু এসএ রেকর্ডে ভুলে সরকারের নামে রেকর্ড হয়। এর বিরুদ্ধে ১৯৮২ সালে আজিম উদ্দিন মেহেরপুর মুন্সেফ আদালতে দেওয়ানি মামলা করেন।

পরবর্তী বছরে তিনি ডিক্রিপ্রাপ্ত হন। এর বিরুদ্ধে সরকারপক্ষ মিস ছানি মামলা করলেও তা নামঞ্জুর হয়। এ আদেশের বিরুদ্ধে সরকারপক্ষ জেলা জজ আদালতে আপিল করে। সাবজজ আদালত শুনানি শেষে মামলাটি খারিজ করে দেন। পরবর্তী সময় সরকারপক্ষ ১৯৮৮ সালে উচ্চ আদালতে সিভিল রিভিশন মামলা করে। ২০০১ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি উচ্চ আদালতের এক আদেশে মেহেরপুর সাবজজ আদালতের রায় বহাল রাখেন। আজিম উদ্দীন মণ্ডল মারা গেলে আব্দুল গণিসহ তাঁর সাত ছেলে ও দুই মেয়ে ওই সম্পত্তির ওয়ারিশ হন। এ ছাড়া আরএস রেকর্ড সংশোধনীর জন্য ২০১৫ সালে মেহেরপুর যুগ্ম জেলা দ্বিতীয় আদালতে দেওয়ানি মামলা দায়ের করেন আব্দুল গণি। পরে আদালতের কাছে তারা নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আবেদন করলে গত ২০ ফেব্রুয়ারি আদালত ওই আবেদনটি নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত স্থিতিবস্থার আদেশ দেন।

মেয়র আশরাফুল ইসলাম বলেন, ‘এ জমি নিয়ে আদালত স্থিতিবস্থার আদেশ দিয়েছেন। স্থিতিবস্থা মানে কাজ বন্ধ রাখা নয়। তাই কাজ করা হয়েছে। ’ জমির কাগজ, মার্কেটের প্রকল্পের অনুমোদন ও দরপত্রের স্বচ্ছতা সম্পর্কে এক প্রশ্ন করা হলে তিনি অন্য বিষয়ে কথা বলা শুরু করেন। ৪৪ লাখ টাকা নির্মাণে ব্যয় ধরা হলেও প্রকল্পের কাগজপত্র দেখাতে পারেননি মেয়র। রাতের আঁধারে মার্কেট নির্মাণ সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘রাতের বেলায় আমি কাজ করতে বেশি পছন্দ করি। তা ছাড়া দ্রুত উন্নয়ন করতে হলে সব সময় কাজ করতে হয়। ’

তিনি আরো বলেন, ‘নিজের জীবন থাকতে এই জমি কাউকে নিতে দেব না। এ জমি পৌরসভার থাকবে। কেউ এসে দাবি করলেই তার হবে না। তার পরও আদালতে যদি কারো জমি পাওনা হয়, তাহলে তৈরিকৃত ভবনসহ তাকে দিয়ে দেওয়া হবে। ’


মন্তব্য