kalerkantho


বদরগঞ্জ হাসপাতালে ভর্তি

অন্তঃসত্ত্বার পেটে বখাটের লাথি

আঞ্চলিক প্রতিনিধি, রংপুর   

২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলায় গত শনিবার সকালে মেয়ের বাবাকে পিটুনি ও অন্তঃসত্ত্বা মায়ের পেটে লাথি মেরেছে বখাটেরা। আহতাবস্থায় তাঁদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

এলাকাবাসী ও থানায় লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় একটি উচ্চ বিদ্যালয়ে যাওয়া-আসার পথে নবম শ্রেণির ছাত্রীকে মাদাইখামারের আব্দুল বাকীর ছেলে রেজওয়ান (২২) উত্ত্যক্ত করত। মেয়েটি ঘটনা মা-বাবাকে বলে। তার বাবা ছেলের বাবাকে ঘটনা জানান। এতে ছেলেটি ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। হয়রানির মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। একপর্যায়ে ক্ষুব্ধ হয়ে মেয়ের বাবা ছেলের বাবার কাছে গিয়ে ঘটনার প্রতিবাদ করেন। গত শনিবার সকালে রেজওয়ান, তার বাবা, বড় ভাই রেজেল মিয়া ও কয়েকজন সাঙ্গপাঙ্গ লাঠিসোঁটা নিয়ে মেয়ের বাড়িতে হামলা চালায়। তারা মেয়ের বাবা ও অন্তঃসত্ত্বা মাকে টেনে-হিঁচড়ে বাড়ি থেকে বের করে পেটায়। এ সময় স্থানীয়রা এগিয়ে এলে ঘটনাস্থল থেকে সটকে পড়ে বখাটেরা।

এলাকাবাসী আহতদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। মেয়ের বাবা হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র নিয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন।

গতকাল রবিবার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে দেখা যায়, মেয়ের মা মহিলা ওয়ার্ডের ১৮ নম্বর বিছানায় চিকিৎসাধীন। তিনি বলেন, ‘আমার মেয়েটি প্রতিদিন বাড়ি থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার দূরে স্কুলে যাওয়া-আসা করে। তাকে তার বান্ধবীদের সামনে প্রায় সময় উত্ত্যক্ত করলেও এত দিন ভয়ে আমাদের জানায়নি। এ নিয়ে বাড়িতে এসে সে কান্নাকাটি করত। গত শনিবার সকালে বাপ-ছেলে একজোট হয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আমাদের বাড়িতে হামলা করে। আমি অন্তঃসত্ত্বা। আমার পেটেও লাথি মেরেছে। ’

ছেলের বাবা আব্দুল বাকী বলেন, ‘তারা আমার ছেলের বিরুদ্ধে মিথ্যা অপবাদ দিয়েছে। এ কারণে তাদের বাড়িতে গিয়ে আমি প্রতিবাদ জানিয়েছি। এখন কারা তাদের মারধর করেছে, সেটা আমার জানা নেই।

গাইনি বিশেষজ্ঞ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (টিএইচও) ডা. মনোয়ারা বেগম বলেন, ‘হাসপাতালে ভর্তি ওই নারী সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা। গর্ভের সন্তান কেমন আছে তা জানতে আল্ট্রাসনোগ্রাম করতে দেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদন না পাওয়া পর্যন্ত আগাম মন্তব্য করা যাচ্ছে না। ’

কুতুবপুর বিএল হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আব্দুল হাই বলেন, ‘বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আজহারুল ইসলামকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। মেয়ের পরিবারকে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সব ধরনের সহায়তা করা হবে। ’

বদরগঞ্জ থানার ওসি আখতারুজ্জামান প্রধান বলেন, ‘ঘটনাটি তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ’


মন্তব্য