kalerkantho


জাহাজ চলাচল বন্ধ চার মাস

গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী) প্রতিনিধি   

২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



জাহাজ চলাচল বন্ধ চার মাস

দেশের গুরুত্বপূর্ণ দৌলতদিয়া-নগরবাড়ী-বাঘাবাড়ী নৌপথে নাব্যতা সংকট প্রকট হয়ে উঠেছে। ফলে চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা মালবোঝাই বড় কোনো জাহাজ সরাসরি সিরাজগঞ্জের বাঘাবাড়ী নৌবন্দরে ভিড়তে পারছে না। ছবিটি দৌলতদিয়া থেকে গতকাল দুপুরে তোলা। ছবি : কালের কণ্ঠ

একটি মাঝারি আকারের (সাড়ে ১২ থেকে ১৩ ড্রাফট) জাহাজ চলতে কমপক্ষে ১৩ ফুট পানির গভীরতা প্রয়োজন। পদ্মা নদীতে রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া-পাবনার নগরবাড়ী-সিরাজগঞ্জের বাঘাবাড়ী পথে পানি রয়েছে ছয় থেকে সাত ফুট।

এ কারণে চার মাস ধরে এই নৌপথে কোনো জাহাজ চলাচল করতে পারছে না।

ফলে চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা মালবোঝাই কোনো কোস্টার জাহাজ সরাসরি বাঘাবাড়ী-নগরবাড়ী ঘাটে যেতে পারছে না। দৌলতদিয়া ঘাটে এসে জাহাজগুলো দিনের পর দিন আটকে থাকছে।

গতকাল রবিবার দুপুরে গিয়ে দেখা যায়, গোয়ালন্দের দৌলতদিয়া ১ নম্বর ফেরিঘাট বরাবর পদ্মার মাঝনদীতে ২৮টি জাহাজ আটকে পড়েছে।

এগুলো হলো এমভি তানিশা, এমভি ওয়াটারহেন ৩, এমভি মুক্তা-মিতু, এমভি রানা খান, এমভি বিউটি-সাকুরা, এমভি কুইন ঢাকা, এমভি আল্ জাবির, এমভি কুইন অব দোহার ২, এমভি জেএ খান, এমভি আবির আরব ১, এমভি আশিকুল কবির, এমভি ছোঁয়ামিম ১, এমভি জু গার্ডেন, এমভি বর্ষা ৩, এমভি নজরুল ইসলাম, এমভি আফিফা, এমভি বাংলার জিহাদ, এমভি হাজি রূপ সাহেরা, এমভি দোহার কেরিয়ার, এমভি আবু হোরাইরা, এমভি ইরা-প্রমী, এমভি নীলকণ্ঠ ১, এমভি আগন্তুক, এমভি আল নহর ৫, এমভি সামির সাইমুন, এমভি ইব্রাহিম খলিল, এমভি মীম জীম ও এমভি প্রাউড অব মিরসরাই। এ সময় শতাধিক শ্রমিক আটকে পড়া জাহাজগুলো থেকে সার, সিমেন্ট তৈরির কাঁচামাল ক্লিংকার, পোল্ট্রি খাদ্যসহ বিভিন্ন মাল নামিয়ে সেগুলো বাল্কহেড ও ট্রলারে বোঝাই করছে।

জাহাজচালকরা জানান, পণ্য পরিবহনে দৌলতদিয়া-নগরবাড়ী-বাঘাবাড়ী একটি গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ। কিন্তু নদীতে পানি কমে যাওয়ায় এ পথের কাজীরহাট, বেটারির চর, নাকালিয়া, বেড়াসহ বিভিন্ন এলাকায় ছোট-বড় অসংখ্য চর জেগে উঠেছে। পাশাপাশি নাব্যতা সংকট সৃষ্টি হয়েছে।

এমভি আবু হোরাইরার চালক মো. আজমল হোসেন জানান, চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা সারবোঝাই জাহাজ নিয়ে তিনি বাঘাবাড়ী নৌবন্দরে যাচ্ছিলেন। পথে দৌলতদিয়ায় এসে অন্যান্য জাহাজের সঙ্গে তাঁর ১৩ ট্রাফটের জাহাজটি আটকে আছে। চার দিন ধরে এখানে আছেন। নিয়ম অনুযায়ী, নির্দিষ্ট সময় (২২ দিন) পার হলে পণ্যের মালিককে জাহাজ ভাড়া দ্বিগুণ করতে হবে। তাই জাহাজ থেকে মাল নামিয়ে বাল্কহেড ও ট্রলারে করে বাঘাবাড়ী নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

শ্রমিকরা জানায়, দৌলতদিয়া-বাঘাবাড়ীর দূরত্ব ৩৫ কিলোমিটার। তিন ঘণ্টায় একটি জাহাজ যেতে পারে। ট্রলার বা বাল্কহেড যেতে একই সময় লাগে।

মাঝারি আকারের জাহাজে সাধারণত এক হাজার টন পণ্য থাকে। ট্রলার বা বাল্কহেড ছয় ট্রিপে এসব পণ্য পরিবহন করতে পারে। এতে ভাড়া লাগে প্রায় দুই লাখ টাকা।

আটকে পড়া এক জাহাজের চালক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘দৌলতদিয়া-নগরবাড়ী-বাঘাবাড়ী নৌপথের নাব্যতা সংকটের বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় অনেক লেখালেখি হয়েছে। কিন্তু তাতে কোনো কাজ হচ্ছে না। ’

দৌলতদিয়া লঞ্চঘাট ব্যবস্থাপক মো. নুরুল আনোয়ার মিলন বলেন, ‘দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌপথে নিয়মিত ৩৫টি লঞ্চ দিনরাত সার্বক্ষণিক চলাচল করছে। তবে নৌপথের মাঝনদীতে মালবাহী জাহাজ নোঙর করে রাখায় স্বাভাবিক লঞ্চ চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে রাতে চলাচল করতে গিয়ে যাত্রীবাহী লঞ্চগুলো মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়ছে। এতে যেকোনো সময় জাহাজের সঙ্গে ধাক্কা লেগে লঞ্চডুবির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ’

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডাব্লিউটিএ) আরিচা ঘাটের সমন্বয়কারী কর্মকর্তা বেলায়েত হোসেন বলেন, ‘২০১৫ সালের ২৩ আগস্ট আরিচা-নগরবাড়ী পথে শেষ ফেরি চলে। এর পর থেকে এ নৌপথ আর খনন করা হয়নি। ’

উল্লেখ্য, একই সংকট নিয়ে ২০১৬ সালের ৯ মে ‘মালবাহী জাহাজ আটকা’ ও একই বছরের ১৩ নভেম্বর ‘মালবোঝাই সাত জাহাজ আটকা’ শিরোনামে দুটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে কালের কণ্ঠ।

বিআইডাব্লিউটিএর উপপরিচালক (নৌসপ) আব্দুস সালাম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘দৌলতদিয়া-নগরবাড়ী-বাঘাবাড়ী নৌপথের নাব্যতা সংকট মুকাবিলায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ’


মন্তব্য