kalerkantho


ব্রাহ্মণবাড়িয়া মহিলা আওয়ামী লীগ

বিক্ষোভের মুখেই হয়ে গেল সম্মেলন

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি   

২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



সাধারণ সম্পাদক পক্ষের অনুপস্থিতি ও বিক্ষোভের মধ্যেই রবিবার ব্রাহ্মণবাড়িয়া মহিলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিক্ষোভকারীরা সম্মেলনকে একতরফা দাবি করে তা বাতিলের আহ্বান জানিয়েছে। অন্যদিকে সাধারণ সম্পাদকসহ যারা আসেননি তাঁদের বাদ দিয়ে কমিটি গঠনের দাবি তোলা হয়েছে সম্মেলনে।

প্রায় ১৯ বছর পর হওয়া মহিলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন ঘিরে সংগঠনটিতে বিভাজন সৃষ্টি হওয়ায় এ নিয়ে দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে নানা ধরনের আলোচনা আছে। তারা মনে করছে, জেলা পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আওয়ামী লীগে যে নতুন বলয় সৃষ্টি হতে যাচ্ছে, এরই একটি বহিঃপ্রকাশ এ সম্মেলন। বিশেষ করে জেলা পরিষদ মিলনায়তনে সম্মেলন হওয়ায় এ নিয়ে গুঞ্জন রয়েছে।

উল্লেখ্য, জেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী শফিকুল আলম চেয়ারম্যান পদে জয়ী হন। আর এ নির্বাচন ঘিরে দলের সিনিয়র কয়েক নেতার নেতৃত্বে জেলা আওয়ামী লীগে নতুন বলয়ের সৃষ্টি হয়। সম্মেলন জেলা পরিষদ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হওয়া, জেলা আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল নেতারা দাওয়াত না পাওয়া এবং জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শফিকুল আলমের পক্ষের নেতারা দাওয়াত পাওয়ায় এ নিয়ে গুঞ্জন শুরু হয়।

জানা গেছে, নির্ধারিত সময়ের ঘণ্টাদুয়েক পর দুপুর ১২টার দিকে জেলা পরিষদ মিলনায়তনে সম্মেলন শুরু হয়। মহিলা আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় প্রচার ও প্রকাশানা সম্পাদক শিরিন রোকসানা সম্মেলন উদ্বোধন করেন।

জেলা সভাপতি মিনারা আলমের সভাপতিত্বে সম্মেলনে প্রধান অতিথি ছিলেন কেন্দ্রীয় সিনিয়র সহসভাপতি সাফিয়া খাতুন। এ সময় বক্তব্য দিতে গিয়ে স্থানীয় নেতারা দলের সাধারণ সম্পাদক ও তাঁর অনুসারীদের নিয়ে বিষোদ্গার করেন।

তবে বিকেল ৫টায় শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত সম্মেলন না মানা ও উপস্থিত না থাকা সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট তাসলিমা সুলতানা খানম নিশাতকে স্বপদে বহাল রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে সভাপতি মিনারা আলমকেও স্বপদে রেখে ২০ সদস্যের কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে।

এদিকে সকালে সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট তাসলিমা সুলতানা খানম নিশাতের নেতৃত্বে শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত ভাষা চত্বর থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলটি প্রেস ক্লাবের সামনে গিয়ে শেষ হয়ে সেখানে মানববন্ধন করা হয়। এতে অ্যাডভোকেট তাসলিমা সুলতানা খানম নিশাত, শামীমা মুজিব, রুনাক সুলতানা পারভীন, উমা পাল, নিলুফা বেগম, রেহেনা বেগম, জোসনা বেগম, নাখলু আক্তার, ফয়জুন্নেছা টুনি, পিয়ারা আক্তার পিউনা প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। এ সময় বক্তারা বলেন, সভাপতির কারণেই বছরের পর বছর ধরে সম্মেলন হয়নি। আর এখন কাউকে কিছু না জানিয়ে সম্মেলন করা হচ্ছে।

এ ব্যাপারে তাসলিমা সুলতান খানম নিশাত বলেন, ‘সম্মেলন হালাল করতে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে আমার নাম ঘোষণা করা হয়েছে। কমিটিতে অনেক অযোগ্যদেরও রাখা হয়েছে। আমিসহ আরো অনেকে যেহেতু সম্মেলনে যাইনি তাহলে কমিটি মানার তো প্রশ্নই ওঠে না। ’ 

কেন্দ্রীয় নেতা সাফিয়া খাতুন সম্মেলন শেষে বলেন, ‘বিভিন্ন দিক বিবেচনা করে সভাপতি ও সম্পাদকসহ ২০ সদস্যের কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। আশা করি কমিটি ঘোষণার মধ্য দিয়ে সব ধরনের দ্বন্দ্বের অবসান হবে। ’


মন্তব্য