kalerkantho


বিএনপির মনোনয়ন পেলেন সাক্কু আ. লীগের সম্ভাব্য রিফাত-সীমা

আবুল কাশেম হৃদয়, কুমিল্লা   

২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



বিএনপির মনোনয়ন পেলেন সাক্কু  আ. লীগের সম্ভাব্য রিফাত-সীমা

কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সদ্য সাবেক মেয়র মনিরুল হক সাক্কুর প্রার্থিতা চূড়ান্ত হলেও আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য দুই হালি প্রার্থীর মধ্যে কার ভাগ্যের শিকে ছিঁড়বে তাই এখন আলোচনার বিষয়। গতকাল শনিবার রাত ৯টায় কুমিল্লা সদর আসনের সংসদ সদস্য হাজি আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহার তাঁর সমর্থিত প্রার্থী আরফানুল হক রিফাতকে সঙ্গে নিয়ে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করেছেন। প্রায় একই সময় কুমিল্লা আওয়ামী লীগের অপর পক্ষের নেতা জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যক্ষ আফজল খানের ছেলে এফবিসিসিআইয়ের পরিচালক মাসুদ পারভেজ খান তাঁর বোন সম্ভাব্য মেয়র পদপ্রার্থী কুমিল্লা পৌরসভার সাবেক প্যানেল মেয়র আঞ্জুম সুলতানা সীমাকে নিয়ে আলাদাভাবে শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করেন।

আজ রবিবার রাতে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বোর্ডের বৈঠকের আগে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে সচেতন মহল। গতকাল রাত ৯টায় কুমিল্লার এই চার নেতা গণভবন থেকে বের হয়ে আসেন।

অপরদিকে গতকাল রাত ৯টার দিকে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কার্যালয়ে যান কুমিল্লা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাজি আমিন উর রশিদ ইয়াছিন ও সদ্য সাবেক মেয়র মনিরুল হক সাক্কু।

কুমিল্লা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাজি আমিন উর রশিদ ইয়াছিন ও সাবেক মেয়র মনিরুল হক সাক্কু দেখা করার পর খালেদা জিয়া তাঁর মনোনয়ন চূড়ান্ত করে চিঠি প্রদানের জন্য ভোটার নম্বর দিতে বলেন। ওই সময় বিএনপির অন্য মনোনয়নপ্রত্যাশী বিএনপির উপদেষ্টা মনিরুল হক চৌধুরীর প্রসঙ্গ এলে বিএনপি চেয়ারপারসন তা নাকচ করে দেন। এ সময় বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর উপস্থিত ছিলেন।

কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে মেয়র পদে দলীয় সমর্থন পেতে গত দুই দিনে ছয়জন আওয়ামী লীগ নেতা আবেদন জমা দিয়েছেন। ধানমণ্ডিতে আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর কার্যালয়ে গতকাল সন্ধ্যায় কুমিল্লা সদর আসনের সংসদ সদস্য হাজি আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহারের উপস্থিতিতে আবেদনপত্র জমা দেন কুমিল্লা মহানগর আওয়ামী লীগ নেতা আরফানুল হক রিফাত।

এই সময় বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিল। অপরদিকে বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে আবেদন জমা দেন কুমিল্লা জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি কবিরুল ইসলাম সিকদার। এ ছাড়া শুক্রবার আবেদন জমা দিয়েছেন কুমিল্লা পৌরসভার সাবেক প্যানেল চেয়ারম্যান আঞ্জুমান সুলতানা সীমা, কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজের সাবেক ভিপি নুর-উর-রহমান তানিম, কুমিল্লা সদর উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করা কামাল চৌধুরী, মাহাবুবুর রহমান। আরো দুজন আজ রবিবার আবেদন জমা দিতে পারেন। তাঁরা হলেন কুমিল্লা জেলা পরিষদের সদ্য সাবেক প্রশাসক আলহাজ মো. ওমর ফারুক, কুমিল্লা জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক সফিকুল ইসলাম শিকদার, কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজের সাবেক জিএস জাকির হোসেন।

এদিকে কুমিল্লা সদর আসনের সংসদ সদস্য হাজি আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহার বলেছেন, ‘কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে মেয়র পদে আমাদের প্রার্থী মহানগর যুবলীগ নেতা আরফানুল হক রিফাত। রাজনীতি ছাড়াও সামাজিক অঙ্গন ও ক্রীড়াঙ্গনে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। ’ তিনি বলেন, ‘কুমিল্লার মানুষ বিশ্বাস করে ভোট দিয়ে যাঁকে প্রতিনিধি বানাবে, সেই কুমিল্লার মানুষের প্রতিনিধিত্ব করবে। আমার পক্ষ থেকে যতটুকু সহায়তা করার ততটুকু সহায়তা তিনি পাবেন। ’ তিনি আরো বলেন, ‘আরফানুল হক রিফাতের জন্য আমি সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। আমার বিশ্বাস, দলীয় সিদ্ধান্ত তাঁর পক্ষেই আসবে। ’

বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী মনিরুল হক সাক্কু মোবাইল ফোনে বলেন, ‘নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছি। এটা চূড়ান্ত। আমাকে ঘিরে কল্পকাহিনি ছড়ানো হচ্ছে। আমাদের দেশনেত্রী ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করতে এসেছি। তিনি দিকনির্দেশনা দেবেন। ’

এর আগে ঢাকায় বিএনপির শীর্ষ নেতাদের বৈঠকের পর কুমিল্লা জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য বেগম রাবেয়া চৌধুরী বলেন, ‘বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হচ্ছেন মনিরুল হক সাক্কু। তাঁর গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। রয়েছে কর্মী বাহিনী। আমরা এখন ঐক্যবদ্ধ। এক মঞ্চে আমরা। আর কেউ যদি প্রার্থী হতে চায় সে দল থেকে বহিষ্কার হবে। ’

জানা গেছে, বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুলের বন্ধু ও বিএনপির উপদেষ্টা সাবেক সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী তফসিল ঘোষণার পর নিজে প্রার্থী হতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। তিনি জানান, কুমিল্লার কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন না হওয়ায় তিনি প্রার্থী হবেন এবং বিএনপির প্রার্থী পছন্দ না হলে তিনি নির্বাচনে কাজ করবেন না।


মন্তব্য