kalerkantho

মা-মেয়ের বাজিমাত

নিজস্ব প্রতিবেদক, বগুড়া   

২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



মা-মেয়ের বাজিমাত

সেরা শিক্ষক জেমী ও সেরা শিক্ষার্থী মাইশা। সম্পর্কে তারা মা-মেয়ে। ছবি : কালের কণ্ঠ

বগুড়ার ধুনট উপজেলায় এবার সেরা শিক্ষক-শিক্ষার্থী নির্বাচিত হয়েছেন মা ও মেয়ে। তাঁরা হলেন উপজেলার গোসাইবাড়ি উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক সাজিয়া আফরিন জেমী ও একই বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী নূর আফসানা মাহজাবীন মাইশা।

চিথুলিয়া গ্রামে তাঁদের বাস।

ধুনট উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নূর আলম জানান, কোচিং কিংবা প্রাইভেট পড়ানো ও পড়ার সঙ্গে যুক্তদের ‘সেরা গুরু-শিষ্য’ প্রতিযোগিতায় না আনার নির্দেশ রয়েছে। সামাজিক-সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকা, শিক্ষার্থীদের পড়ালেখার পাশাপাশি ওই সব কর্মকাণ্ডে উৎসাহিত করা ইত্যাদি যোগ্যতার ভিত্তিতে সেরা গুরু-শিষ্য নির্বাচিত করা হয়। সাজিয়া আফরিন জেমী ও মাইশাকে এ বছরের সেরা শিক্ষক-শিক্ষার্থী নির্বাচিত করেছে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে প্রধান করে গঠিত কমিটি। পরে আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁদের ক্রেস্ট ও সংবর্ধনা দেওয়া হবে।

শিক্ষক জেমী জানান, নাচ-গানসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানই তাঁর কাজের মাধ্যম। শিক্ষার্থীদের মধ্যে চেতনা সৃষ্টির জন্য তিনি তাদের বিভিন্ন দলে ভাগ করে নেন। এভাবে অনুপ্রেরণা সৃষ্টি করা যায় সহজেই। শিক্ষার্থীদের পড়ালেখায় মনোযোগী করার পাশাপাশি সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশ নিতে অনুপ্রাণিত করেন জেমী।

শিশুরা জানে না কিভাবে কোন কাজে অংশ নিতে হয়। তাদের অংশগ্রহণের সুযোগ করে দেন তিনি। জেমী বলেন, ‘খুব গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে ক্লাসের কার্যক্রম। বই ঠিকমতো পড়া। বইয়ের পাশাপাশি অন্য নানা শিক্ষাও। শিক্ষার্থীদের বইয়ের পাশাপাশি বাইরে থেকেও কিছু শেখার জন্য মনোযোগী হতে অনুপ্রেরণা জোগাই। প্রাইভেট পড়ার অভ্যাস শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়বিমুখ করে। নিজে প্রাইভেট পড়িনি। শিক্ষার্থীদেরও আমি প্রাইভেটে না যেতে উৎসাহিত করি। ’ জেমীর সব কাজে সব সময় আগে থাকে মেয়ে মাইশা। মাইশার বক্তব্য, ‘মার কাছেই সব শিখেছি। মার মতো আমিও অন্যদের সহযোগিতা করি। পড়ালেখার ফাঁকে ফাঁকে গান, কবিতা আবৃত্তি, খেলাধুলা করি। ’ শিক্ষক জেমী জানান, তাঁদের বিদ্যালয়টি ১৯১৪ সালে নিম্নমাধ্যমিক হিসেবে প্রতিষ্ঠার পর ১৯১৮ সালে উচ্চ মাধ্যমিকে উন্নীত হয়। বিদ্যালয়টিকে আদর্শ করে গড়ে তুলতে চান তিনি।


মন্তব্য