kalerkantho


পাউবোর গাফিলতিতে অকালে ডুবল ৯ হাওরের ধান

হাফিজুর রহমান চয়ন, হাওরাঞ্চল (নেত্রকোনা-সুনামগঞ্জ)   

২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



পাউবোর গাফিলতিতে অকালে ডুবল ৯ হাওরের ধান

সুনামগঞ্জের ধরমপাশা উপজেলায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) অধীনে থাকা চন্দ্রসোনারথাল বেড়িবাঁধ প্রকল্পের শয়তানখালী অংশে ভাঙা স্থান ভরাট না করায় অসময়ে তলিয়ে গেল ছোট-বড় ৯টি হাওরের উঠতি বোরো ধান। শয়তানখালী,

 মারাদাইরা, একপাটিয়া, প্যারারখেও, শেখেরগাঁও, উকিলবন্দসহ ওই ৯টি হাওরে জমির পরিমাণ কমপক্ষে ৭০০ হেক্টর। গত বর্ষায় পানির তোড়ে ভেঙে যাওয়া স্থানটি পাউবোর প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি (পিআইসি)

যথাসময়ে ভরাট না করায় গত বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই পানি ঢুকতে শুরু করে হাওরে। ধনু নদীতে জোয়ারের সময় পাহাড়ি ঢলের পানি ঢুকে গতকাল শুক্রবার পর্যন্ত ৯টি হাওরের ফসল তলিয়ে গেছে। সংলগ্ন ডুবাইল হাওরেও পানি ঢুকতে থাকলে স্থানীয় লোকজন বস্তায় করে মাটি ফেলে তা ঠেকানোর চেষ্টা করে। ডুবাইল হাওরে জমির পরিমাণ প্রায় ৫০০ হেক্টর।

সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, গত বর্ষার পানির তোড়ে চন্দ্রসোনারথাল বেড়িবাঁধ প্রকল্পের শয়তানখালী অংশে প্রায় ৫০০ ফুট বাঁধ ভেঙে গভীর গর্ত সৃষ্টি হয়। বাঁধের ওই ভাঙা স্থান মেরামত করতে এবার পাউবো প্রায় ১৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়। পাউবোর অধীনে গঠিত স্থানীয় পিআইসির গত ১৫ ডিসেম্বর থেকে মেরামতকাজ শুরু করে ২৮ ফেব্রুয়ারি মধ্যে শেষ করার কথা থাকলেও পিআইসি এখনো কাজ শুরুই করেনি।

চন্দ্রসোনারথাল বেড়িবাঁধ প্রকল্পের আওতাধীন হাওরগুলোর বেশির ভাগ জমির মালিকই নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলার মান্দারবাড়ী, চানপুর, গাগলাজুর, মান্দারোয়া ও জৈনপুর গ্রামের বাসিন্দা। ওই সব এলাকার কৃষকরা জানায়, বাঁধের ভাঙা অংশ মেরামত করতে পাউবো বা পিআইসির কোনো লোক না থাকায় তারা নিজেরাই বৃহস্পতিবার সকাল থেকে বস্তায় ভরে মাটি ফেলে পানি আটকানোর চেষ্টা করে।

কিন্তু কৃষকদের সে চেষ্টা ব্যর্থ হয়। একপর্যায়ে মারাদাইরা হাওর ডুবে পাশের ডুবাইল হাওরেও পানি ঢুকতে শুরু করে বাঁধের নিচু অংশ দিয়ে। গতকাল থেকে কৃষকরা তা ঠেকানোর চেষ্টা করছে। একপর্যায়ে ধর্মপাশা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সেখানে যান।

কৃষকদের অভিযোগ, তারা নেত্রকোনা জেলার বাসিন্দা হওয়ায় সুনামগঞ্জের পাউবো কর্মকর্তারা এসব হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধ মেরামতে কখনোই তেমন গুরুত্ব দেন না।

মোহনগঞ্জ উপজেলার মান্দারবাড়ী গ্রামের কৃষক কাজল চৌধুরী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমরা পিআইসির সভাপতি ও সুখাইর রাজাপুর দক্ষিণ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আমানুর রেজা চৌধুরীকে বাঁধের ওই ভাঙা স্থানটি মেরামত করার জন্য বারবার বললেও তিনি আমাদের কথায় গুরুত্ব দেননি। আমরা অন্য জেলার বাসিন্দা হওয়ায় তাঁরা বরাবরই এই প্রকল্পের কাজে গাফিলতি করেন। ’ কাজল চৌধুরী আরো বলেন, ‘পিআইসির সভাপতি যদি যথাসময়ে ভাঙা স্থানটি মেরামত করতেন তাহলে এই অসময়ে ধনু নদীর অল্প জোয়ার ও ঢলের পানি হাওরে ঢুকতে পারত না। ’

পিআইসির সভাপতি এবং সুখাইর রাজাপুর দক্ষিণ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আমানুর রেজা চৌধুরী কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘পাউবো থেকে আমাকে বাঁধের ওই ভাঙা স্থান মেরামতের জন্য চলতি মাসের ৮ তারিখ প্রথম দফায় মাত্র তিন লাখ ২৫ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়। আমি ওই টাকা পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বাঁধ মেরামতের কাজ শুরু করি। তবে এই বিশাল ভাঙা স্থান মেরামতের জন্য এ টাকা কিছুই না। এর পরও আমি লোকজন নিয়ে হাওরে পানি ঢোকা বন্ধ করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। ’

ওই বাঁধ মেরামত তদারকির দায়িত্বে থাকা পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপসহকারী প্রকৌশলী মো. জাহাঙ্গীর আলমের মোবাইল ফোনে কয়েকবার চেষ্টা করলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।

ধর্মপাশা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. ইয়াছিন কবীর বৃহস্পতিবার কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘খবর শোনামাত্রই আমি কমিটির লোকজনকে নিয়ে ঘটনাস্থলে যাই এবং নিজে সেখানে উপস্থিত থেকে হাওরে পানি ঢোকা বন্ধ করার কাজ চালিয়ে যাচ্ছি। ’

 


মন্তব্য