kalerkantho

চকরিয়ায় ধর্ষণ ও ভিডিওকারীর হুমকি

হয় বিয়ে নয় টাকা

চকরিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি   

২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলায় পঞ্চম শ্রেণির এক ছাত্রীকে রাস্তা থেকে তুলে নিয়ে ধর্ষণ ও তার ভিডিও ধারণ করা হয়েছে। অভিযুক্ত ব্যক্তি মেয়েটির কাছে বিয়ে অথবা ৫০ হাজার টাকা দাবি করছে। তা না হলে ভিডিও ইন্টারনেটে ছাড়ার হুমকি দিচ্ছে। মেয়ের মা গতকাল শুক্রবার থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন।

 

মেয়ের মা অভিযোগ করেন, অভিযুক্ত জসীম উদ্দিন ওরফে কোপা শমশু (৪০) শান্তিনগরের মোহাম্মদ ফরিদের ছেলে। গত ১২ ফেব্রুয়ারি মেয়েটি বিদ্যালয় থেকে বাড়ি ফিরছিল। রাস্তা থেকে তুলে নির্জন স্থানে নিয়ে যায় শমশু। এরপর তার ওপর যৌন নির্যাতন চালায়। গলায় ছুরি চেপে ধরে ধর্ষণের সেই দৃশ্য মুঠোফোনে ধারণ করে।

শিশুটির মা বলেন, ‘ঘটনা আমি জানতাম না। কাউকে না বলার জন্য শমশু মেয়েকে ছুরির ভয় দেখায়।

এ কারণে এত দিন এই ঘটনা আমাকে না বললেও মেয়ের শারীরিক পরিবর্তন দেখতে পাই এবং স্কুলে যেতে অনীহা প্রকাশ করছিল। শুধু তাই নয়, গত মঙ্গলবার পাড়ার এক নারীর সঙ্গে অন্য একটি বিষয় নিয়ে ঝগড়া হয়। ওই নারী আমার মেয়েকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করে। এ সময় এর প্রতিবাদ করতে গেলে মেয়েকে ধর্ষণের দৃশ্য ওই নারী আমাকে দেখায়। এরপর শমশু এসে আমাকে প্রস্তাব দেয়, তার সঙ্গে মেয়েকে বিয়ে দিতে। বিয়ে না দিলে নগদ ৫০ হাজার টাকা দিতে। তা না হলে ধর্ষণের দৃশ্য ইন্টারনেটে ছেড়ে দেবে। এ অবস্থায় মেয়ের ভবিষ্যৎ এবং আমাদের মানসম্মান নিয়ে আতঙ্কে রয়েছি। ’ মেয়ের মা জানান, এ ঘটনা দেখার পর স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) সদস্য বাবুল আহমদকে জানানো হয়। স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসা করার জন্য বৃহস্পতিবার রাতে বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। তবে এর আগে মেয়েকে চিকিৎসা করানোর জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়।

হারবাং ইউপি চেয়ারম্যান মিরানুল ইসলাম মিরান বলেন, ‘কোপা শমশু এলাকায় মাদক সেবনসহ নানা অপরাধ করে আসছিল। এলাকার মানুষের মুখে বিষয়টি শুনেছি। ’

চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. জহিরুল ইসলাম খান বলেন, ‘মামলা নেওয়া হয়েছে। আসামিকে গ্রেপ্তার এবং ভিডিও জব্দ করতে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে। ’


মন্তব্য